
ইসরায়েলি হামলায় গাজা উপত্যকাজুড়ে প্রায় ৬ কোটি ৮০ লাখ (৬৮ মিলিয়ন) টন ধ্বংসাবশেষ জমেছে, যা সেখানে মারাত্মক পরিবেশগত ও মানবিক বিপর্যয় তৈরি করেছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি গাজার ৮২ শতাংশ কৃষিজমি এবং ৮৪ শতাংশ পানি ও পয়োনিষ্কাশন পরিকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে বলেও জানানো হয়েছে।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) ‘যুদ্ধে পরিবেশের শোষণ রোধ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক দিবস’ উপলক্ষে দেয়া এক বিবৃতিতে ফিলিস্তিনের পরিবেশ সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ (ইকিউএ) এই ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে।
বিবৃতিতে বলা হয়, গাজাজুড়ে অবরুদ্ধ এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর নারকীয় ধ্বংসযজ্ঞের ফলে ৬১ মিলিয়ন থেকে ৬৮ মিলিয়ন টন ধ্বংসাবশেষ জমেছে। এর মধ্যে প্রায় ৪ মিলিয়ন টন অত্যন্ত বিপজ্জনক বর্জ্য এবং অন্তত ৫০ হাজার টন ক্যানসার সৃষ্টিকারী মারাত্মক অ্যাসবেস্টস যুক্ত পদার্থ রয়েছে, যা আগে নির্মাণকাজে ব্যবহৃত হতো।
সংস্থাটি জানায়, দীর্ঘদিনের হামলায় গাজার ৮২ শতাংশ কৃষিজমি, ৯৭ শতাংশ জলপাই ও অন্যান্য ফলের গাছ এবং ৮৪ শতাংশ পানি ও পয়োনিষ্কাশন পরিকাঠামো পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। স্যানিটেশন ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় প্রতিদিন প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার ঘনমিটার অশোধিত পয়োবর্জ্য গাজার রাস্তাঘাট ও জলাশয়ে উপচে পড়ছে।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলা ইসরায়েলের এই নৃশংস আগ্রাসনে গাজায় এ পর্যন্ত ৭৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
পশ্চিম তীরে ৭৬০টি পরিবেশগত হামলা :
একই বিবৃতিতে ফিলিস্তিনের পরিবেশ সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ জানায়, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের কৃষিজমি, গাছপালা, পানির উৎস ও অবকাঠামোর ওপর ইসরায়েলি বাহিনীর ৭৬০টি পরিবেশগত হামলার তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে।
এর মধ্যে ২০৩টি হামলা ছিল সরাসরি কৃষিজমি ও প্রাকৃতিক বনাঞ্চলে। হাজার হাজার গাছ উপড়ে ফেলার ঘটনায় ১ লাখের বেশি জলপাই গাছ ধ্বংস করা হয়েছে, যার আনুমানিক ক্ষতি ৬ কোটি ৭ লাখ মার্কিন ডলার। এছাড়া ১৮৫টি ঘটনায় বিষাক্ত বর্জ্য ফেলা, ৩৭টি পানির উৎসে হামলা এবং ৩৫টি সেচ নেটওয়ার্ক ধ্বংসের ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়।
এমন পরিস্থিতিতে ফিলিস্তিনিদের প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা ও আন্তর্জাতিক অপরাধ বন্ধে অবিলম্বে বিশ্ব সম্প্রদায়কে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ফিলিস্তিনী কর্তৃপক্ষ। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।