ঢাকারবিবার , ৮ নভেম্বর ২০২৬
  1. সর্বশেষ

এশিয়ায় অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রকৃতির মূল্য সংযোজনের উদ্যোগ জাতিসংঘের

প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
৮ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৩৬ সকাল

Link Copied!

দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের প্রবাল প্রাচীর থেকে শুরু করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ক্রান্তীয় বৃষ্টিঅরণ্য—জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল তীব্র পরিবেশগত সংকটের মুখোমুখি। অঞ্চলটির বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নির্ভর করে বেঁচে আছে কোটি কোটি মানুষের জীবন ও জীবিকা। তবে জনসংখ্যা বৃদ্ধি, দ্রুত শিল্পায়ন ও অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে এই প্রাকৃতিক সম্পদ আশঙ্কাজনক হারে ধ্বংস হচ্ছে, যা অঞ্চলটির সামাজিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ওপর বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। এমন পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক উন্নয়ন পরিকল্পনা ও অর্থায়নে প্রকৃতির মূল্যকে সমন্বিত করতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি (ইউএনইপি)।

জাতিসংঘের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক পরিবেশগত ভারসাম্যে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের মোট জীববৈচিত্র্যের প্রায় ২০ শতাংশ, ক্রান্তীয় বনাঞ্চলের ১৪ শতাংশ এবং প্রবাল প্রাচীরের ৩৪ শতাংশ ধারণ করে এই অঞ্চল। তবে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, বিশ্বজুড়ে সাগরে পড়া মোট প্লাস্টিক বর্জ্যের প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশই আসে এই এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল থেকে।

প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর চাপ কমাতে এবং টেকসই সবুজ অর্থনীতি গড়ে তুলতে বেশ কিছু সমন্বিত কৌশল নিয়ে কাজ করছে জাতিসংঘ ও এর সহযোগী সংস্থাগুলো। খাদ্য নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ কৃষি ফসলের জিনগত বৈচিত্র্য রক্ষা, পরিবেশবান্ধব সনদ প্রবর্তন, বাজারে পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ উৎসাহিত করা এবং ক্ষতিকর আক্রমণাত্মক প্রজাতি নিয়ন্ত্রণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে সুরক্ষিত বনাঞ্চলের সুশাসন নিশ্চিত করা এবং সবুজ অবকাঠামো ও বন পুনঃপ্রতিষ্ঠায় বড় ধরনের বিনিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সামুদ্রিক পরিবেশ রক্ষায় ‘ইস্ট এশিয়ান সিজ’ এবং ‘নর্থ ওয়েস্ট প্যাসিফিক অ্যাকশন প্ল্যান’-এর মাধ্যমে সামুদ্রিক বর্জ্য ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে আন্তঃসরকার সহযোগিতা জোরদার করা হচ্ছে। পাশাপাশি দুগংয়ের মতো বিপন্ন ও ঐতিহ্যবাহী বন্যপ্রাণী রক্ষায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং বন্যপ্রাণী পাচার প্রতিরোধে নীতিগত কঠোরতা আনা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্যবিষয়ক চুক্তি (সিবিডি), জাতীয় জীববৈচিত্র্য কৌশল এবং নাগোয়া প্রোটোকল বাস্তবায়নে সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে সহায়তা দিচ্ছে জাতিসংঘ।

পরিবেশ বিপর্যয়ের ফলে নারীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় জীববৈচিত্র্য সুরক্ষা পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাকে অন্যতম মূল অগ্রাধিকার হিসেবে ধরা হয়েছে। আঞ্চলিক সমস্যার সমাধান ও আন্তঃসীমান্ত পরিবেশগত সংকট দূর করতে আসিয়ান, সাউথ এশিয়ান কো-অপারেটিভ এনভায়রনমেন্ট প্রোগ্রাম-এর মতো আঞ্চলিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে অংশীদারিত্ব বাড়িয়েছে ইউএনইপি। বর্তমানে গ্লোবাল এনভায়রনমেন্ট ফ্যাসিলিটির মাধ্যমে জীববৈচিত্র্য, জমি ও পানি ব্যবস্থাপনায় প্রায় ৬০ কোটি মার্কিন ডলারের বিশাল পোর্টফোলিও পরিচালিত হচ্ছে।

জাতিসংঘের এই সামগ্রিক উদ্যোগের অধীনে ‘গ্রিন ফিনস’-এর মতো যৌথ প্রকল্প কাজ করছে, যা পরিবেশবান্ধব ডাইভিং উৎসাহিত করতে ৫০০টিরও বেশি স্কুবা ডাইভিং কোম্পানির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। এছাড়াও সামুদ্রিক পরিবেশ রক্ষায় ‘দক্ষিণ চীন সাগর কৌশলগত কর্মপরিকল্পনা’ এবং ইন্দোনেশিয়ার বনাঞ্চল রক্ষায় ‘রিম্বা করিডোর প্রকল্প’ বাস্তবায়িত হচ্ছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, প্রাকৃতিক মূলধন ও ইকোসিস্টেমের মূল্যকে সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগের মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত করাই এখন টেকসই ভবিষ্যতের একমাত্র পথ।

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

গাজায় ৭ কোটি টন ধ্বংসাবশেষ: পরিবেশ ও মানবিক বিপর্যয়ের শঙ্কা

বিশ্বে জনমিতিতে বড় পরিবর্তন: জন্ম-মৃত্যুর ব্যবধানে শীর্ষে যে দেশগুলো

অ্যালুমিনিয়ামের পাতিল যেন নীরব ঘাতক! অজান্তেই খাবারে মিশছে বিষাক্ত সিসা

জ্বালানি সংকটের ধাক্কায় দেশে সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জামের রেকর্ড বিক্রি

জলবায়ু পরিবর্তনে ভারসাম্য হারানোর ঝুঁকিতে সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র

আগামী কয়েক দিন যেমন থাকবে দেশের আবহাওয়া

অটিজমের সংজ্ঞা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে নতুন বিতর্ক

জলবায়ু ঝুঁকি বাড়ছে, অর্থায়ন বাড়ছে না: জাতিসংঘ

রক্ত নষ্ট করতে হিমাগারের তাপমাত্রা বদলে দিল হ্যাকাররা

দুধ-দইয়ের বদলে ভেগান খাবার, বাড়তে পারে পুষ্টির ঘাটতি

এভিয়েশন খাতে ২২ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা ইউএস-বাংলার

দুই ট্রাকের ধাক্কায় অটোরিকশা ও মিশুকচালক নিহত