
উড়োজাহাজের বহর সম্প্রসারণ, গ্রাউন্ড অপারেশনের সক্ষমতা বৃদ্ধি, ফ্লাইটের সময়ানুবর্তিতা এবং আন্তর্জাতিক মানের যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে প্রায় ২২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা নিয়েছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। এরই মধ্যে এ উদ্দেশ্যে ১২ মিলিয়ন ডলারের ঋণপত্র (এলসি) খোলা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠার এক যুগ পেরিয়ে আন্তর্জাতিক এভিয়েশন বাজারে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে চায় বেসরকারি এই বিমান সংস্থাটি। বর্তমানে ইউএস-বাংলার বহরে রয়েছে ২৫টি উড়োজাহাজ। ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে আরও ২১টি বোয়িং ৭৩৭ সিরিজের উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
পাশাপাশি বর্তমানে ১০টি দেশের ১৪টি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা করছে এয়ারলাইন্সটি। এর সঙ্গে আরও প্রায় ১৬টি নতুন আন্তর্জাতিক গন্তব্য যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
উড়োজাহাজের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি গ্রাউন্ড অপারেশনের সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও গুরুত্ব দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে ইউএস-বাংলার ব্যবস্থাপনায় রয়েছে প্রায় ৫৯০টি গ্রাউন্ড সার্ভিস ইকুইপমেন্ট। আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে আরও ১৪৬টি নতুন সরঞ্জাম যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
নতুন সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে এয়ারক্রাফট পুশব্যাক ট্রাক্টর ও টোবার, ব্যাগেজ বেল্ট লোডার, ব্যাগেজ ট্রাক্টর, প্যাসেঞ্জার বোর্ডিং স্টেয়ারস, গ্রাউন্ড পাওয়ার ইউনিট, এয়ার স্টার্ট ইউনিট, ক্যাটারিং ট্রাক, ওয়াটার ও ল্যাভাটরি সার্ভিস ট্রাকসহ বিভিন্ন ধরনের র্যাম্প সাপোর্ট ইকুইপমেন্ট।
প্রতিষ্ঠানটির মতে, একটি ফ্লাইটের সময়ানুবর্তিতা ও দক্ষ পরিচালনা শুধু উড়োজাহাজের ওপর নির্ভর করে না। আধুনিক গ্রাউন্ড ইকুইপমেন্ট, দক্ষ মানবসম্পদ এবং সমন্বিত ব্যবস্থাপনা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম ও সিলেটে আঞ্চলিক হাব গড়ে তোলার পরিকল্পনার অংশ হিসেবেও প্রয়োজনীয় গ্রাউন্ড সাপোর্ট সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।
এদিকে, পরিবেশবান্ধব এভিয়েশন ব্যবস্থার বিকাশে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৮০টি ইলেকট্রিক ভেহিকেল (ইভি) পরিচালনার পরিকল্পনা নিয়েছে ইউএস-বাংলা। সরকারের ইলেকট্রিক ভেহিকেল ইন্ডাস্ট্রি ডেভেলপমেন্ট পলিসির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব যানবাহনের জন্য প্রয়োজনীয় চার্জিং অবকাঠামো স্থাপনের প্রক্রিয়াও চলছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিমানবন্দরে ইতোমধ্যে গ্রাউন্ড অপারেশনে ইলেকট্রিক যানবাহন ব্যবহারের জন্য চার্জিং স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে। উত্তর আমেরিকার নিউইয়র্কের জেএফকে, লস অ্যাঞ্জেলেস, মায়ামি, আটলান্টা, শিকাগো, ডালাস ও টরন্টো পিয়ারসন বিমানবন্দর ছাড়াও ইউরোপের আমস্টারডাম, ফ্রাঙ্কফুর্ট, ম্যানচেস্টার ও লন্ডন হিথ্রো বিমানবন্দরে এ ধরনের অবকাঠামো রয়েছে।
এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের দুবাই ইন্টারন্যাশনাল, দোহা হামাদ, আবুধাবি, জেদ্দা ও রিয়াদ; পূর্ব এশিয়ার বেইজিং ক্যাপিটাল, টোকিও নারিতা, হংকং ও সিউল; দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সিঙ্গাপুর, কুয়ালালামপুর ও ব্যাংকক এবং দক্ষিণ এশিয়ার দিল্লি ও বেঙ্গালুরু বিমানবন্দরেও ইলেকট্রিক যানবাহনের চার্জিং সুবিধা রয়েছে।
অবকাঠামোগত সুবিধা নিশ্চিত হলে বিমানবন্দরের বিভিন্ন গ্রাউন্ড অপারেশনে ইলেকট্রিক যানবাহন ব্যবহারের মাধ্যমে জ্বালানির ওপর নির্ভরতা ও স্থানীয় পর্যায়ে কার্বন নিঃসরণ কমানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব গ্রাউন্ড অপারেশন ব্যবস্থা গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হবে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ, বিমানবন্দর আধুনিকায়ন, যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং পরিবেশবান্ধব পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ দেশের এভিয়েশন খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। এসব উদ্যোগের সঙ্গে সমন্বয় করে বিনিয়োগ ও পরিচালন সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে বাংলাদেশের এভিয়েশন শিল্পকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার লক্ষ্যে কাজ করছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স।