ঢাকারবিবার , ৮ নভেম্বর ২০২৬
  1. সর্বশেষ

কপ৩১-এর আগে বাংলাদেশ, ভুটান ও নেপালের ঐক্যের ডাক

প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
৮ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৩৭ সকাল

Link Copied!

স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে অর্থনৈতিক উত্তরণ ঘটলেও জলবায়ুজনিত ঝুঁকি কমে না—এই কঠোর বাস্তবতাকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক মঞ্চে যৌথ লড়াইয়ের আহ্বান জানিয়েছে বিভিন্ন নাগরিক সমাজ ও পরিবেশবাদী সংগঠন। আগামী ৯ থেকে ২০ নভেম্বর তুরস্কের আন্তালিয়া শহরে অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলন ‘কপ৩১’ -কে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ, ভুটান ও নেপালের (বিবিএন) মধ্যে শক্তিশালী আঞ্চলিক সহযোগিতা ও অনুদানভিত্তিক অর্থায়নের দাবিতে ঐকমত্য সৃষ্টির জোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

শবিবার (৭ নভেম্বর) রাজধানী ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবে সেন্টার ফর পার্টিসিপ্রেটর রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (সিপিআরডি)-এর উদ্যোগে ‘অ্যাড্রেসিং এলডিসি-গ্র্যাজুয়েশন প্যারাডক্স অ্যান্ড ক্লাইমেট রিস্কস ইন বিবিএন: আরজেন্সি ফর আ ভালনারেবিলিটি-বেসড অ্যাডাপ্টেশন ন্যারেটিভ আন্ডার ইউএনএফসিসিসি’ শীর্ষক বিশেষ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ক্লাইমেট জাস্টিস অ্যালায়েন্স-বাংলাদেশ, উপকূল ও সুন্দরবন সুরক্ষা আন্দোলন, ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরাম, শরীয়তপুর ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি (এসডিএস) এবং সচেতন সংস্থাসহ একাধিক উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের যৌথ অংশগ্রহণে সংবাদ সম্মেলনটি আয়োজিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা জানান, হিমালয়ের উঁচুপর্বত থেকে শুরু করে সুবিশাল বঙ্গোপসাগরের বদ্বীপ পর্যন্ত বাংলাদেশ, ভুটান ও নেপাল একটি একক ও অভিন্ন জলবায়ু অঞ্চলের অন্তর্গত। হিমালয়ের হিমবাহ গলন, বর্ষাকালের অস্বাভাবিক পরিবর্তন, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়া, অতিবৃষ্টি, তীব্র তাপদাহ, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং উপকূলীয় অঞ্চলে দ্রুত লবণাক্ততা ছড়িয়ে পড়া—এই তিনটি দেশের কৃষি, অবকাঠামো, অর্থনীতি ও জনজীবনকে সমভাবে বিপর্যস্ত করে তুলছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে সিপিআরডি-র প্রধান নির্বাহী ও সিজেএ-বাংলাদেশের সমন্বয়কারী মো. শামসুদ্দোহা বলেন, অর্থনৈতিক অগ্রগতি বা এলডিসি উত্তরণের সূচক অর্জিত হলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগ সামলানোর সক্ষমতা রাতারাতি তৈরি হয় না। ইতিমধ্যেই ভুটান এলডিসি তালিকা থেকে বের হয়ে গেছে এবং বাংলাদেশ ও নেপাল সেই পথেই এগোচ্ছে। অথচ বাস্তবের চিত্র হলো, জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক আঘাত এই তিন দেশেই সমানভাবে আঘাত হানছে। তাই আসন্ন কপ৩১ সম্মেলনে পৃথকভাবে না গিয়ে এই তিন দেশের সরকার ও নাগরিক সমাজকে যৌথ দরকষাকষির কৌশল নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মুখোমুখি হতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিআরডি-র গবেষণা ও প্রবোক্যাসি প্রোগ্রাম ম্যানেজার সুমাইয়া বিনতে আনোয়ার। তিনি প্রথাগত উন্নয়নমূলক শ্রেণিবিভাগের বাইরে গিয়ে জলবায়ুর প্রকৃত ঝুঁকি ও ভঙ্গুরতার ওপর ভিত্তি করে আন্তর্জাতিক অভিযোজন ও অর্থায়নের কাঠামো পুনর্গঠনের দাবি জানান।

শরীয়তপুর ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির (এসডিএস) নির্বাহী পরিচালক রাবেয়া বেগম বলেন, এলডিসি উত্তরণকে কোনো অবস্থাতেই জলবায়ু ঝুঁকি থেকে মুক্তি হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। অর্থনৈতিক উত্তরণের বাহানা তুলে উন্নত বিশ্ব এবং আন্তর্জাতিক তহবিল সংস্থাগুলো যেন অভিযোজন অনুদান প্রত্যাহার না করে, সে বিষয়ে বিশ্ববাসীকে স্পষ্ট বার্তা দিতে হবে।

ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরামের চেয়ারম্যান আমিনুর রাসুল বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য ঐতিহাসিক দায় যাদের, সেই উন্নত দেশগুলোর অর্থনৈতিক স্বার্থ বা কার্বন নিঃসরণ হ্রাসের অগ্রাধিকারের আড়ালে ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিগ্রস্ত মানুষের টিকে থাকার মৌলিক অধিকার চাপা পড়ে যাচ্ছে। একে প্রতিহত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

উপকূল ও সুন্দরবন সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়কারী নিখিল চন্দ্র বলেন, আন্তর্জাতিক জলবায়ু নীতিতে অভিযোজন ও প্রশমন (মিটিগেশন)—উভয়কেই সমান গুরুত্ব দিতে হবে। উন্নত দেশগুলোর অতীত কার্বন নিঃসরণের ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতা মেনে নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে সহজলভ্য অভিযোজন তহবিল প্রদান করা জরুরি।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম আজাদ জানান, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন আর প্রাকৃতিক দুর্যোগ সামলানোর লড়াই দুটো আলাদা বিষয়। অর্থনৈতিক উত্তরণের সঙ্গে জলবায়ু তহবিলকে যুক্ত না করে শতভাগ অনুদানভিত্তিক (গ্রান্ট-বেসড) অর্থায়নকে আন্তর্জাতিক আলোচনার প্রধান শর্ত হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. মীর মোহাম্মদ আলী, সচেতন ফাউন্ডেশনের হাবিবুর রহমান এবং রিভারাইন পিপলের মো. আনোয়ার হোসেন। সংবাদ সম্মেলনের শেষভাগে কপ৩১ সম্মেলনের জন্য তিন দফা সুনির্দিষ্ট দাবি উত্থাপন করা হয়:

ঝুঁকি ও মানবাধিকারভিত্তিক অভিযোজন: বৈশ্বিক জলবায়ু আলোচনায় কেবল অর্থনৈতিক সূচক না দেখে মানুষের ঝুঁকি, সমতা ও মৌলিক অধিকারের ভিত্তিতে অভিযোজন এজেন্ডাকে মূল আলোচনায় রাখতে হবে।

অনুদানভিত্তিক অর্থায়ন নিশ্চিতকরণ: এলডিসি উত্তরণ যাই হোক না কেন, জলবায়ু ঝুঁকির মুখোমুখি থাকা দেশগুলোর জন্য শর্তহীন, সহজলভ্য ও অনুদানভিত্তিক অভিযোজন তহবিল নিশ্চিত করতে হবে।

বিবিএন আঞ্চলিক প্ল্যাটফর্ম গঠন: অভিন্ন জলবায়ু সংকট মোকাবিলা, অভিযোজন কর্মপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে আন্তর্জাতিক তহবিল ব্যবহারের লক্ষ্যে বাংলাদেশ, ভুটান ও নেপালের মধ্যে একটি শক্তিশালী ও টেকসই আঞ্চলিক দরকষাকষি জোট গড়ে তুলতে হবে।

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

গাজায় ৭ কোটি টন ধ্বংসাবশেষ: পরিবেশ ও মানবিক বিপর্যয়ের শঙ্কা

বিশ্বে জনমিতিতে বড় পরিবর্তন: জন্ম-মৃত্যুর ব্যবধানে শীর্ষে যে দেশগুলো

অ্যালুমিনিয়ামের পাতিল যেন নীরব ঘাতক! অজান্তেই খাবারে মিশছে বিষাক্ত সিসা

জ্বালানি সংকটের ধাক্কায় দেশে সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জামের রেকর্ড বিক্রি

জলবায়ু পরিবর্তনে ভারসাম্য হারানোর ঝুঁকিতে সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র

আগামী কয়েক দিন যেমন থাকবে দেশের আবহাওয়া

অটিজমের সংজ্ঞা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে নতুন বিতর্ক

জলবায়ু ঝুঁকি বাড়ছে, অর্থায়ন বাড়ছে না: জাতিসংঘ

রক্ত নষ্ট করতে হিমাগারের তাপমাত্রা বদলে দিল হ্যাকাররা

দুধ-দইয়ের বদলে ভেগান খাবার, বাড়তে পারে পুষ্টির ঘাটতি

এভিয়েশন খাতে ২২ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা ইউএস-বাংলার

দুই ট্রাকের ধাক্কায় অটোরিকশা ও মিশুকচালক নিহত