
মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে রেনাটা ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসি। প্রতিষ্ঠানটির মেডিকেল রিপ্রেজেনটেটিভ মো. আসাদুজ্জামান সড়ক দুর্ঘটনায় মাত্র ৩১ বছর বয়সে মারা যাওয়ার পর তাঁর পরিবারের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তায় ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আসাদুজ্জামানের চাকরির অবশিষ্ট ২৯ বছরের বেতন ও বোনাস প্রতি মাসে তাঁর স্ত্রী ও সন্তানের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রতিবছর নিয়ম অনুযায়ী ইনক্রিমেন্টও দেওয়া হবে।
এ তথ্য তুলে ধরে নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে বিষয়টি জানিয়েছেন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের আইন কর্মকর্তা মাসুম বিল্লাহ। তিনি রেনাটা ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের এই উদ্যোগকে মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করে প্রশংসা করেছেন।
কর্মরত অবস্থায় আসাদুজ্জামানের অকাল মৃত্যু তাঁর পরিবার ও সহকর্মীদের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। তবে তাঁর মৃত্যুর পর পরিবারের পাশে দীর্ঘমেয়াদে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগকে করপোরেট মানবিকতার বিরল দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ওষুধ কোম্পানির কার্যক্রমে মেডিকেল রিপ্রেজেনটেটিভদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসক, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ও মানুষের কাছে প্রতিষ্ঠানের পণ্য পৌঁছে দিতে মাঠপর্যায়ে নিরলসভাবে কাজ করেন তাঁরা। তাই কর্মীর অবদানের স্বীকৃতি এবং দুঃসময়ে তাঁর পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে রেনাটার এই সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
মাসুম বিল্লাহ তাঁর স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন, আর্থিক সক্ষমতা থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত কোনো শ্রমিক বা কর্মীর মৃত্যু, দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা, কর্মক্ষমতা হারানো কিংবা অনিশ্চিত ভবিষ্যতের ক্ষেত্রে তাঁর নির্ভরশীল পরিবার ও উত্তরাধিকারীদের পাশে দাঁড়ানোর প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে Employment Injury Scheme (EIS) শ্রম আইনের কাঠামোয় অন্তর্ভুক্ত হলে মালিকের সামর্থ্য এবং প্রয়োজনীয় সামাজিক নিরাপত্তা বাজেটের সহায়তায় এ ধরনের ব্যবস্থা ধাপে ধাপে কার্যকর করা যেতে পারে। রেনাটার উদ্যোগ সেই ভবিষ্যৎ ব্যবস্থার একটি মানবিক নমুনা হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।
রেনাটার এই সিদ্ধান্ত কর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্যম ও নিরাপত্তাবোধ তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও এ ধরনের মানবিক উদ্যোগে উৎসাহিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মো. আসাদুজ্জামানের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে। প্রয়াত কর্মীর পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগের জন্য রেনাটা ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে।