
ইয়েমেনে চলমান তীব্র লড়াই ও বহুমুখী সংঘাতের কারণে দেশটিতে নতুন করে বড় ধরনের অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতি এবং লোহিত সাগর পাড়ি দিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে শরণার্থী হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা—ইউএনএইচসিআর। সংস্থাটি জানিয়েছে, গত কয়েক সপ্তাহে লড়াইয়ের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এবং হাজার হাজার মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন।
ইউএনএইচসিআরের জেনিভা কার্যালয়ে আয়োজিত এক নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে সংস্থাটির ইয়েমেন প্রতিনিধি আরমেন ইয়েদগারিয়ান জানান, চলমান এই হিংসাত্মক সংঘাতে সাধারণ নাগরিকরাই সবচেয়ে বড় মূল্য পরিশোধ করছেন। সংঘাতের কারণে এখন পর্যন্ত অন্তত ১১০ জন হতাহতের তথ্য পাওয়া গেছে, যার মধ্যে ২৮ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা তাইজ অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন; মোট বাস্তুচ্যুতির প্রায় ৬০ শতাংশের বেশি ঘটেছে এই অঞ্চলেই। এছাড়া আল জউফ, মারিব ও আল হুদায়দা থেকেও মানুষ জীবন বাঁচাতে অন্যত্র ছুটছেন।
ইয়েমেনের উপকূলীয় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো থেকে সমুদ্রপথে ইয়েমেনিরা জিবুতি, সোমালিয়া ও অন্যান্য প্রতিবেশী দেশগুলোতে মানুষের পলায়ন প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে জিবুতিতে প্রতিদিন নতুন করে ইয়েমেনি শরণার্থীরা এসে পৌঁছাচ্ছেন, যা ২০১৫ সালের পর থেকে দৈনিক আগমনের অতীতের সমস্ত রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইউএনএইচসিআর এবং এর সহযোগী সংস্থাগুলো জিবুতিতে ১০ হাজারেরও বেশি শরণার্থীর আসার সম্ভাব্যতা বিবেচনা করে জরুরি প্রস্তুতি গ্রহণ করছে।
চলমান লড়াই, চরম অনিরাপত্তা, বোমা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাঘাট এবং টেলিযোগাযোগ ও চলাচলের ওপর আরোপিত নানা নিষেধাজ্ঞার কারণে দুর্গত ও অবরুদ্ধ এলাকায় জীবনরক্ষাকারী ত্রাণসামগ্রী পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এর ওপর দেখা দিয়েছে তীব্র আর্থিক সংকট। ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, ২০২৬ সালের মানবিক কার্যক্রমের জন্য নির্ধারিত মোট তহবিলের মাত্র ১৮ শতাংশ অর্জিত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিকভাবে প্রায় আড়াই লাখ মানুষের জরুরি মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে ৩১৫ কোটি টাকার বেশি বাড়তি তহবিলের প্রয়োজন।
ইউএনএইচসিআর এই সংকটময় মুহূর্তে সংঘাতের সঙ্গে জড়িত সব পক্ষের প্রতি অবিলম্বে অস্ত্রসংবরণ এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে বেসামরিক নাগরিকদের পূর্ণ সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে, মানবিক সহায়তাকর্মীদের নির্বিঘ্নে ও নিরাপদ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার জোর দাবি জানানো হয়েছে, যাতে আসন্ন বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় রোধ করা সম্ভব হয়।