ঢাকারবিবার , ৮ নভেম্বর ২০২৬
  1. সর্বশেষ
  2. লাইফস্টাইল

ইঁদুর মারতে নয়, ঘরে জীবন্ত ইঁদুর এনে বিপাকে ফেলল দুই পোষা বিড়াল!

প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
৮ নভেম্বর ২০২৬, ১:০৩ বিকাল

Link Copied!

পোষা বিড়াল ইঁদুর ধরবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সেই ইঁদুর মেরে ফেলার বদলে জীবন্ত অবস্থায় ঘরে এনে ছেড়ে দিলে কী হতে পারে? এমনই এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন যুক্তরাজ্যের লেখক অ্যামি ফ্লেমিং। তাঁর পোষা দুই বিড়াল বাড়ির আশপাশের জঙ্গল থেকে একের পর এক জীবন্ত ইঁদুর ধরে ঘরে এনে ছেড়ে দিত। এতে ইঁদুরমুক্ত বাড়িটি ধীরে ধীরে পরিণত হয় ইঁদুরের উপদ্রবে ভরা এক অস্বস্তিকর জায়গায়।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানে ৩ নভেম্বর প্রকাশিত এক লেখায় নিজের এই বিচিত্র অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন অ্যামি ফ্লেমিং।

অ্যামি ফ্লেমিংয়ের বাড়িটি ছিল ইঁদুরে ভরা একটি জঙ্গলের পাশে। তবে বাড়ির ভেতরে আগে কখনো ইঁদুরের উপদ্রব ছিল না। পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে লকডাউনের সময় মিমি ও রুবেন নামের দুটি বিড়ালছানা বাড়িতে আনার পর।

বিড়াল দুটি একটু বড় হওয়ার পরই শিকারের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠে। পাখি শিকার না করলেও জঙ্গলের কাঠবিড়ালি নয়, বরং ছোট ছোট বুনো ইঁদুর ধরাই হয়ে ওঠে তাদের বিশেষ পছন্দ।

তবে বিড়াল দুটির অদ্ভুত অভ্যাস ছিল শিকার করা ইঁদুর মেরে না ফেলে জীবন্ত অবস্থায় বাড়িতে নিয়ে আসা। এরপর ঘরের ভেতরে সেগুলো ছেড়ে দিত। সম্ভবত ইঁদুরগুলোকে খেলার সঙ্গী কিংবা নতুন পোষা প্রাণী হিসেবেই দেখত তারা।

বিড়াল দুটি যখন কোনো ইঁদুর ঘরে নিয়ে আসত, তখন তাদের আচরণেই তা বোঝা যেত। ঘরের আসবাবের নিচে কিংবা আলমারির দরজার ফাঁকে বসে অদ্ভুত শব্দ করে ইঁদুরের অবস্থান পাহারা দিত তারা।

এরপর বাড়ির সদস্যদের শুরু হতো ইঁদুর খোঁজার অভিযান। আসবাব সরিয়ে, মেঝেতে হামাগুড়ি দিয়ে এবং উল্টো করে রাখা প্লাস্টিকের পাত্র ব্যবহার করে ইঁদুর ধরার চেষ্টা করতেন তাঁরা।

ইঁদুর ধরা সম্ভব হলে সেগুলো আবার জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হতো। এ সময় বিড়াল দুটিকে ঘরের ভেতরে আটকে রাখা হতো, যাতে তারা ইঁদুর ছেড়ে দেওয়ার জায়গাটি দেখতে না পায়। তবে সব ইঁদুর ধরা সম্ভব হতো না। কিছু ইঁদুর বাড়ির বিভিন্ন ফাঁকফোকরে লুকিয়ে থেকে যেত।

ইঁদুরগুলো রান্নাঘরের সিঙ্কের নিচে মলমূত্র ত্যাগ করায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে অ্যামি ফ্লেমিং চিনাবাদামের মাখন দিয়ে বিশেষ ধরনের মানবিক ফাঁদ তৈরি করে ইঁদুর ধরতে শুরু করেন।

একটি ইঁদুরকে একাধিকবার ধরে জঙ্গলে ছেড়ে দিয়েও একই ইঁদুরকে আবার বাড়িতে ফিরে আসতে দেখেন তিনি। একপর্যায়ে ইঁদুরটির প্রতি মায়া জন্মে যায় তাঁর। তৃতীয়বার ইঁদুরটি ধরার পর রান্নাঘরের কাগজের টুকরোর ওপর রেখে সেটিকে আদর করার চেষ্টা করেন।

কিন্তু ফল হয় উল্টো। ইঁদুরটি তাঁর আঙুলে কামড় বসিয়ে দেয়। পরে তাঁকে টিটেনাসের বুস্টার টিকাও নিতে হয়। পুরো ঘটনার জন্য বিড়াল দুটির ওপর বিরক্তি প্রকাশ করেন তিনি।

ইঁদুর শিকারের উপদ্রব কিছুটা কমেছে মনে করে যখন সবাই স্বস্তিতে ছিলেন, তখনই নতুন বিপত্তি দেখা দেয়। রান্নাঘরের ফ্রিজ থেকে পচা ডিমের মতো দুর্গন্ধ বের হতে শুরু করে। সময়ের সঙ্গে সেই দুর্গন্ধ আরও তীব্র হয়ে ওঠে।

একপর্যায়ে ফ্রিজ সরিয়ে পেছনে তাকাতেই ভয়াবহ দৃশ্য দেখতে পান অ্যামি। ফ্রিজের পেছনে পানি জমে বাষ্পীভূত হওয়ার জন্য একটি বিশেষ ট্রে থাকে। বিড়ালদের তাড়ায় ঘরে আটকা পড়া ইঁদুরগুলো সেই ট্রেকেই মলমূত্র ত্যাগ করেছিল।

ট্রেটি ফ্রিজ থেকে আলাদা করা সম্ভব না হওয়ায় জমে থাকা দুর্গন্ধযুক্ত তরল পরিষ্কার করতে তাঁকে কয়েক ঘণ্টা ব্যয় করতে হয়। রান্নাঘরের কাগজ দিয়ে বারবার তরল শুষে নেওয়ার পর শেষ পর্যন্ত জায়গাটি পরিষ্কার করেন তিনি।

লেখার শেষাংশে অ্যামি জানান, এখন আর তাঁরা জঙ্গলের পাশে বসবাস করেন না। ফলে বিড়ালদের এমন শিকার নিয়ে আসার সমস্যাও আর নেই।

তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় পঞ্চম ঢাকা, বাতাস কতটা বিপজ্জনক?

তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা ১৬.৫ ডিগ্রি, জেঁকে বসছে শীত

শীতের আগেই বৃষ্টিতে ডুবছে গাজা, চরম বিপাকে লাখো ফিলিস্তিনি

দুই মাসে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ল ৭.৫২%, সবচেয়ে বেশি বাড়ল যে পণ্যের

30th U.S. Trade Show 2026 Inaugurated in Dhaka to Strengthen Bangladesh-U.S. Trade Ties

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারে ঢাকায় শুরু হলো ৩০তম ইউএস ট্রেড শো ২০২৬

কপ৩১-এর আগে বাংলাদেশ, ভুটান ও নেপালের ঐক্যের ডাক

এশিয়ায় অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রকৃতির মূল্য সংযোজনের উদ্যোগ জাতিসংঘের

ত্রাণ কমেছে, বেড়েছে ভয় : রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নারী ও শিশুদের বোবা কান্না

গাজায় ৭ কোটি টন ধ্বংসাবশেষ: পরিবেশ ও মানবিক বিপর্যয়ের শঙ্কা

বিশ্বে জনমিতিতে বড় পরিবর্তন: জন্ম-মৃত্যুর ব্যবধানে শীর্ষে যে দেশগুলো

অ্যালুমিনিয়ামের পাতিল যেন নীরব ঘাতক! অজান্তেই খাবারে মিশছে বিষাক্ত সিসা