
ঢাকাবাসীর স্বস্তির বাহন মেট্রোরেল এবার মতিঝিল পেরিয়ে পৌঁছাতে যাচ্ছে কমলাপুর পর্যন্ত। প্রায় ১.১৬ কিলোমিটার বর্ধিত এই অংশে ট্রেন চলাচল শুরু হতে সময় লাগবে আরও দেড় বছর। তবে এরই মধ্যে এসেছে বড় একটি সুখবর—মেট্রোরেল সম্প্রসারণ প্রকল্পের ব্যয় কমে গেছে ১৮৬ কোটি টাকা।
ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) জানিয়েছে, মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত উড়ালপথ ও স্টেশন নির্মাণকাজ আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর রেললাইন, বৈদ্যুতিক সংযোগ ও সংকেতব্যবস্থা স্থাপনসহ অন্যান্য কাজ শেষ হলে মেট্রোরেল চালু হবে নতুন এই অংশে।
এ প্রকল্পের শুরুতে বরাদ্দ রাখা হয়েছিল ২৭৪ কোটি টাকা, কিন্তু পরে তা বেড়ে গিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জাপানের মারুবিনি করপোরেশন ও ভারতের লারসন অ্যান্ড টুবরো প্রথমে ৬৫১ কোটি টাকার দর প্রস্তাব করে।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দীর্ঘ দর–কষাকষির মাধ্যমে ঠিকাদারি খরচ কমিয়ে আনা হয় ৪৬৫ কোটি টাকায়, যা বর্তমানে সরকারের পর্যালোচনায় রয়েছে।
ডিএমটিসিএলের এমডি ফারুক আহমেদ, যিনি আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন প্রকৌশলী, বলেন— “কমলাপুর পর্যন্ত দ্রুত মেট্রোরেল চালু করাও আমাদের লক্ষ্য, আবার কম খরচে কাজটি শেষ করাটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। দরপত্র নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত শিগগিরই হবে।”
বর্তমানে উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ২০.১ কিলোমিটার পথে মেট্রোরেল চলাচল করছে। কমলাপুর পর্যন্ত সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল ২০২২ সালে, আর উড়ালপথ ও স্টেশন নির্মাণের কাজ শুরু হয় ২০২৩ সালে।
চুক্তি অনুযায়ী কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল চলতি বছরের জুনে, তবে ধীরগতির কারণে তা ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ অংশ চালু হলে রেলস্টেশন কেন্দ্রিক যাতায়াতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে এবং নগরবাসীর জন্য যোগাযোগব্যবস্থা আরও সহজ ও সময়সাশ্রয়ী হবে।