
২০১১ সালের ১৩ আগস্ট মানিকগঞ্জের ঘিওরের জোকা এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদ, চিত্রগ্রাহক মিশুক মুনীর ও তাঁদের তিন সহকর্মী নিহত হওয়ার ১৪ বছর পেরোলেও ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায়বিচার ও পূর্ণাঙ্গ ক্ষতিপূরণ প্রক্রিয়া এখনও শেষ হয়নি। এ অবস্থায় দ্রুত ও পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ এবং কার্যকর বীমা ব্যবস্থা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট)।
২০১১ সালের ওই দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া এবং সড়ক নিরাপত্তা প্রচারক ক্যাথরিন মাসুদ বলেন, “২০১৭ সাল থেকে আমাদের ক্ষতিপূরণের মামলা সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায় আছে। এটি দেশের বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার একটি উদাহরণ। ২০১৮ সালে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পর প্রণীত সড়ক পরিবহন আইন ছিল আংশিক ও অপর্যাপ্ত।”
তারেক মাসুদের স্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, “২০১৮ সালের আইনে জবাবদিহিতা, তদারকি ও কার্যকর প্রয়োগের অভাব ছিল। পূর্ববর্তী আইনে থাকা সীমিত জবাবদিহিতাও অপসারণ করা হয়। সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য অনুদান নয়, ক্ষতিপূরণ প্রয়োজন। চালক, পরিবহন মালিক ও বীমা প্রদানকারীদের আর্থিক দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে হবে।”
ক্ষতিপূরণ মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে জানা গেছে, তারেক মাসুদের পরিবারের করা মামলায় হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে বাস মালিকপক্ষ ও বাদীপক্ষের পৃথক আপিল মামলা বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় রয়েছে। অন্যদিকে মিশুক মুনীরের পরিবারের দায়ের করা ক্ষতিপূরণ মামলায় বিবাদীপক্ষের সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য হাইকোর্টে আগামী ১৬ আগস্ট দিন ধার্য রয়েছে।
ব্লাস্ট এক লিখিত বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতদের জন্য দ্রুত ও পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ, চালক ও পরিবহন মালিকদের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা এবং সব যানবাহনের জন্য বাধ্যতামূলক বীমা কার্যকর করার দাবি জানানো হচ্ছে।