
খুলনা নগরীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ শেরে বাংলা সড়ক চার লেনে উন্নীত হয়ে দেড় বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখনও বসানো হয়নি সড়কবাতি। ফলে সন্ধ্যা নামলেই পুরো ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়ক ডুবে যায় ঘোর অন্ধকারে। এতে করে পথচারী, যানবাহন ও এলাকাবাসীকে পড়তে হয় নিরাপত্তাহীনতায়। আলো না থাকায় বাড়ছে দুর্ঘটনা, ছিনতাই ও অপরাধের ঘটনা।
সড়কের একাংশের ব্যবসায়ী মিরাজ হোসেন বলেন, “দুই বছর হতে চলল রাস্তার কাজ শেষ হয়েছে, কিন্তু এখনো রোড লাইট বা সিসি ক্যামেরা লাগেনি। চুরি-ছিনতাই যেন এখন নিত্যদিনের ঘটনা।”
নিরালা এলাকার বাসিন্দারা জানান, গত ২১ জুলাই রাত ১০টার দিকে নিরালায় সিটি কলেজের হোস্টেলের সামনে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে নিহত হন জাকির হোসেন (৪৮) নামে এক ব্যবসায়ী। তারা বলেন, “রাস্তায় আলো না থাকায় সন্ধ্যার পর পুরো এলাকা অন্ধকার হয়ে যায়, আর এই সুযোগ নেয় অপরাধীরা।”
শহরের গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের এমন অব্যবস্থাপনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) খুলনা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মুন্না। তিনি বলেন, “১০০ কোটিরও বেশি টাকা খরচ করে সড়ক বানানো হলো, অথচ আলো লাগানো হয়নি। কিশোর গ্যাং ও অপরাধীরা সন্ধ্যার পর এই অন্ধকারের সুযোগ নিচ্ছে। জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবহেলার কারণেই এমন পরিস্থিতি।”
সরেজমিনে দেখা যায়, সন্ধ্যার পর থেকেই ময়লাপোতা মোড় থেকে জোহরাখাতুন স্কুল, হাজিবাড়ি মোড়, কমার্স কলেজ হোস্টেল, তাবলীগ মসজিদ, লায়ন্স স্কুল হয়ে গল্লামারী ব্রিজ পর্যন্ত এলাকাগুলো অন্ধকারে ডুবে যায়। রাস্তার দু’পাশে থাকা বানিজ্যিক ভবনগুলোর আলোই একমাত্র ভরসা।
খুলনা সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ময়লাপোতা থেকে জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত ৪ কিলোমিটার অংশের উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় ছিল প্রায় ১০০ কোটি ৭০ লাখ টাকা। ২০২০ সালের ৮ এপ্রিল কাজ শুরু হয়ে ২০২৪ সালের মাঝামাঝিতে শেষ হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত সড়কে কোনো লাইট লাগানো হয়নি।
বিষয়টি নিয়ে খুলনা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী তানিমুল হক জানান, “চলতি বছরের শুরুতে বরাদ্দ চাওয়া হলেও সময়সীমা শেষ হয়ে যাওয়ায় চাহিদা গ্রহণ করেনি সংশ্লিষ্ট দপ্তর। নতুন করে আবার চাওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ-চালিত বাতির পরিবর্তে সোলার লাইট ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই শুরু হবে কাজ।”
তিনি আরও বলেন, “পরীক্ষামূলকভাবে কিছু স্থানে সোলার লাইট বসানো হবে। এর জন্য ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। আশা করছি চলতি বছরের মধ্যেই সড়কটি আলোকিত হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, শুধু আশ্বাস নয়— দ্রুত বাস্তব পদক্ষেপের মাধ্যমে শেরে বাংলা সড়কে আলো ফিরিয়ে আনতে হবে, যাতে নগরবাসী নিরাপদে চলাচল করতে পারেন।