
ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক, রিকশা ও ভ্যান চালকদের নিবন্ধন, রুট পারমিট, প্রশিক্ষণ ও ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদানের দাবিতে ‘রিকশা, ব্যাটারি রিকশা-ভ্যান ও ইজিবাইক সংগ্রাম পরিষদ’ আজ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এক কেন্দ্রীয় সমাবেশের আয়োজন করে।
সমাবেশে বক্তারা ২০২৫ সালের “বৈদ্যুতিক থ্রি হুইলার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা”-তে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক অন্তর্ভুক্তির জোর দাবি জানান। বক্তারা বলেন, এই পরিবহন মাধ্যমটি নগরবাসীর দৈনন্দিন চলাচলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে, অথচ দীর্ঘদিন ধরে একটি সুসংহত নীতিমালার অভাবে এ সেক্টরটি অবহেলিত অবস্থায় রয়েছে।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক খালেকুজ্জামান লিপন এবং সঞ্চালনা করেন সদস্য সচিব ডা. মনীষা চক্রবর্তী। বক্তব্য রাখেন বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ, শ্রম সংস্কার বিষয়ক কমিশনের প্রধান সৈয়দ সুলতানউদ্দিন আহমেদ, বিশিষ্ট সাংবাদিক আবু সাঈদ খান, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট সভাপতি কমরেড রাজেকুজ্জামান রতন এবং সংগ্রাম পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, যানজটের জন্য রিকশাকে দায়ী করা হলেও বাস্তবতায় ঢাকার রাস্তায় ৭৬% জায়গা দখল করে মাত্র ৬% যাত্রী বহন করছে প্রাইভেট গাড়ি। অপরদিকে রিকশা ও ইজিবাইকসহ ব্যাটারিচালিত যানবাহন ঢাকায় ৫৫% যাত্রী পরিবহন করে আসছে।
তারা বলেন, পরিবেশবান্ধব, শব্দদূষণহীন এবং বিকল্প গণপরিবহন না থাকায় সাধারণ মানুষের জন্য এসব যানবাহন এখন অপরিহার্য। অথচ সরকার এখনও পর্যন্ত তাদের জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা বাস্তবায়ন করেনি।
বক্তারা আরও বলেন, ২০১৮ সাল থেকে নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ শুরু হলেও এখন পর্যন্ত তা চূড়ান্ত হয়নি। “থ্রি-হুইলার ও সমজাতীয় মোটরযানের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণ নীতিমালা-২০২৪” এখনো ঝুলে রয়েছে। এর মধ্যে আবার “বৈদ্যুতিক থ্রি হুইলার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা, ২০২৫” নামে নতুন নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ আরও বিভ্রান্তি তৈরি করেছে।
সমাবেশ থেকে সরকারকে আহ্বান জানানো হয়, ব্যাটারিচালিত যানবাহনের আধুনিকায়ন করে BRTA-এর আওতায় একটি অভিন্ন ও সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে। এ নীতিমালার ভিত্তিতে দেশের সব ব্যাটারিচালিত থ্রি হুইলার, রিকশা ও সমজাতীয় যানবাহনের নিবন্ধন, রুট পারমিট, চালকের লাইসেন্স ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।
সমাবেশ শেষে ডা. মনীষা চক্রবর্তীর নেতৃত্বে সংগ্রাম পরিষদের একটি পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে ৮ দফা দাবি সম্বলিত একটি স্মারকলিপি পেশ করে।
সংগ্রাম পরিষদের ৮ দফা মূল দাবি:
১. ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইককে বৈদ্যুতিক থ্রি হুইলার নীতিমালা ২০২৫-এ অন্তর্ভুক্ত করা
২. BRTA কর্তৃক সমন্বিত নীতিমালার ভিত্তিতে নিবন্ধন, রুট পারমিট ও লাইসেন্স প্রদান
৩. চালকদের প্রশিক্ষণ এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালু
৪. সড়ক-মহাসড়কে পৃথক লেন বা সার্ভিস রোড নির্মাণ
৫. রিকশাচালকদের হয়রানি ও গ্রেফতার বন্ধ করা
৬. ডাম্পিং বা উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ রাখা
৭. জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত রিকশাচালকদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদান
৮. নীতিমালা চূড়ান্ত করে তা বাস্তবায়নে সরকারিভাবে উদ্যোগ গ্রহণ
পরবর্তী কর্মসূচি হিসেবে সংগ্রাম পরিষদ ঘোষণা করেছে, আগামী সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে ঢাকা মহানগরসহ সব বিভাগীয় শহরে সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হবে।