
টানা তিন দিনের বৃষ্টিতে দেশের সবচেয়ে বড় স্থলবন্দর বেনাপোলে সৃষ্টি হয়েছে চরম জলাবদ্ধতা। অপরিকল্পিত উন্নয়ন ও সঠিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় বন্দর ইয়ার্ড, গুদাম ও প্রবেশপথে হাঁটুপানি জমে যাওয়ায় পণ্য খালাস ও পরিবহন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন শ্রমিক, ট্রাকচালক, নিরাপত্তাকর্মী এবং ব্যবসায়ীরা।
বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রেল কর্তৃপক্ষ কালভার্ট না রেখে মাটি ভরাট করায় পানি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে বৃষ্টির পানি জমে বন্দর এলাকায় তৈরি হয়েছে জলাবদ্ধতা। এতে কিছু প্রবেশপথ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বন্দরের ইয়ার্ডগুলো এখন জলাশয়ের মতো, অথচ এখানেই ট্রাক পার্কিং ও পণ্য খালাস হয়। শ্রমিকরা জানান, প্রতিদিন হাঁটুপানির মধ্যে কাজ করতে গিয়ে চুলকানিসহ চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন তারা। এছাড়া পুরনো কেমিক্যাল দাহ্য সামগ্রী বৃষ্টির পানিতে মিশে স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
ব্যবসায়ী আল মামুন বলেন, “বেনাপোল বন্দর থেকে বছরে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায় হয়। অথচ জলাবদ্ধতা নিরসনে সরকারের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেই।” তিনি আরও বলেন, “পণ্যাগারে পানি ঢুকে পড়লে ব্যবসায়িক ক্ষতির পরিমাণ অসাধারণ।”
আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সহ-সভাপতি আমিনুল হক আনু বলেন, “বন্দরে ২২ থেকে ২৪ লাখ টন পণ্য আমদানি হয় প্রতিবছর। অথচ এখানে ৩৩টি শেড, তিনটি ওপেন ইয়ার্ড ও একটি ট্রান্সশিপমেন্ট ইয়ার্ডের অধিকাংশই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া গড়ে উঠেছে। ফলে বর্ষায় বন্দর কার্যত অচল হয়ে পড়ে।”
ডেপুটি ডিরেক্টর মামুন কবীর তরফদার বলেন, “রেল কর্তৃপক্ষ কালভার্ট না রেখে রেললাইন সম্প্রসারণে মাটি ভরাট করায় পানি নিষ্কাশনে সমস্যা হচ্ছে। আমরা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছি এবং দ্রুত সমাধানে কাজ করছি।”