
ছোট ফেনী নদীর ভয়াবহ ভাঙনে ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার জগতপুর গ্রাম ও আশপাশের জনপদ চরম হুমকির মুখে পড়েছে। নদী নিয়ন্ত্রণে মুছাপুর স্লুইসগেট (রেগুলেটর) না থাকায় পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হচ্ছে না। ফলে প্রতিনিয়ত নদীর করাল গ্রাসে তলিয়ে যাচ্ছে বাড়িঘর, আবাদি জমি ও গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ সড়ক।
নদীভাঙনের কারণে ইতোমধ্যে একসময়ের ব্যস্ত ফাজিলেরঘাট-তালতলি সড়ক সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে গেছে। এলাকাবাসীর দাবি, ভাঙনরোধ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারে দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপ না এলে পুরো গ্রাম হারিয়ে যাবে মানচিত্র থেকে।
২০ বছর ধরে ধীরে ধীরে বিলীন হচ্ছে জনপদ
স্থানীয়রা জানান, ২০০৬ সাল থেকে শুরু হওয়া নদীভাঙন এখন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ফাজিলেরঘাট-তালতলি সড়ক একসময় ছিল কার্পেটিং রাস্তা; চলত রিকশা, ভ্যান ও যানবাহন। এখন সেই সড়কের কোনো অস্তিত্বই নেই। কোথাও কোথাও পড়ে থাকা ইটই তার প্রমাণ।
কৃষক রমজান আলী বলেন, “বাবার দেওয়া ১২ শতক জমি নদীতে চলে গেছে। ঘরটুকু কোনোভাবে জিও ব্যাগ দিয়ে ঠেকিয়ে রেখেছি, কিন্তু আর কতদিন?”
সালেহা বেগম, এক গৃহবধূ বলেন, “আমাদের সন্তানদের নিয়ে ভয়ে ভয়ে দিন কাটে। রাতে ঘুমাতে পারি না, কখন ঘরটা নদীতে চলে যায় সেই শঙ্কা নিয়ে বেঁচে আছি।”
আরেক বাসিন্দা ওমর ফারুক বলেন, “এক বস্তা চাল আনতেও এখন বিপদে পড়তে হয়। যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে।”
নগর মুখী হচ্ছে নদীভাঙনপীড়িত পরিবারগুলো
ভাঙনের ভয় আর অনিশ্চয়তায় অনেকেই ভিটেমাটি ফেলে শহরে চলে গেছেন। স্থানীয় বাসিন্দা নজরুল ইসলাম ও আবুল কালাম এরইমধ্যে শহরে ভাড়াবাসায় উঠেছেন।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, এত বড় ভাঙন চললেও এখনো পর্যন্ত নেই কোনো জরুরি সরকারি সহায়তা বা ত্রাণ কার্যক্রম।
সরকারি পদক্ষেপ: দরপত্র আসছে, প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষা
পানি উন্নয়ন বোর্ড ফেনীর নির্বাহী প্রকৌশলী আক্তার হোসেন জানান, “মুছাপুর রেগুলেটর পুনর্নির্মাণে আরও সময় লাগবে। তবে নদীভাঙন মোকাবেলায় বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে কয়েকটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। শিগগিরই দরপত্র আহ্বান করা হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, অবিলম্বে নদীভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে পুরো জগতপুর গ্রাম বিলীন হয়ে যাবে নদীতে। পাশাপাশি ফাজিলেরঘাট-তালতলি সড়ক পুনর্নির্মাণ করে দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল করারও জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।