
ঈদুল ফিতরের আগে-পরে ১১ দিনে (২৬ মার্চ থেকে ৫ এপ্রিল) দেশে ২৫৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৪৯ জন নিহত হয়েছেন। একই সময়ে আহত হয়েছেন ৫৫৩ জন। গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে নিরাপদ সড়ক নিয়ে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।
সংগঠনটির পাঠানো ঈদুল ফিতরের দুর্ঘটনা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ঈদের সময় ছয়টি নৌ-দুর্ঘটনায় ১৩ জন নিহত ও ১৫ আহত হয়েছেন। এর বাইরে ১৭টি রেলপথ দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত এবং আটজন আহত হয়েছেন।
দেশের নয়টি জাতীয় দৈনিক, সাতটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল, ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে ঈদুল ফিতরের দুর্ঘটনা প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে বলে দাবি করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, এ সময়ে সড়ক দুর্ঘটনায় ১০৬ জন মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী, ১৪ জন বাসযাত্রী, নয়জন ট্রাক-পিকআপ-ট্রাক্টর-ট্রলি আরোহী, ১৮ জন প্রাইভেট কার-মাইক্রোবাস আরোহী, ৪৯ জন থ্রি হুইলারের যাত্রী, ১০ জন নসিমনযাত্রী এবং চারজন বাইসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ বলছে, দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ৮৭টি জাতীয় মহাসড়কে, ৯৮টি আঞ্চলিক সড়কে, ৪৩টি গ্রামীণ সড়কে এবং ২৯টি শহরাঞ্চলের সড়কে সংঘটিত হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঈদুল ফিতরের সময় ৪০৮টি যানবাহন দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। দুর্ঘটনায় ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে। ৭৪টি দুর্ঘটনায় ৬২ জন নিহত হন। সিলেট বিভাগে সবচেয়ে কম সাতটি দুর্ঘটনায় ছয়জন নিহত হয়েছেন। একক জেলা হিসেবে চট্টগ্রাম জেলায় সবচেয়ে বেশি ১৮টি দুর্ঘটনায় ৩১ জন নিহত হয়েছেন।
ঈদ উদযাপনকালে ব্যাপক হারে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ঘটেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদনে। কিশোর-যুবকরা বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালিয়ে দুর্ঘটনায় পতিত হয়েছে। বেপরোয়া মোটরসাইকেলের ধাক্কায় ১৩ জন পথচারীও নিহত হন। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আক্রান্তদের মধ্যে ৫৭ শতাংশের বয়স ১৪-২০ বছর।