ঢাকাশনিবার , ৩০ আগস্ট ২০২৫
  • অন্যান্য

আজকের সর্বশেষ সবখবর

যানজট নিরসনে ঢাকায় পরীক্ষামূলক অটোমেটিক সিগন্যাল চালু

নিজস্ব প্রতিবেদক
আগস্ট ৩০, ২০২৫ ৪:৪২ অপরাহ্ণ । ২৩৬ জন

রাজধানীর দীর্ঘদিনের যানজট নিরসনে আজ শনিবার থেকে চালু হলো ট্রাফিক সিগন্যাল অটোমেশন সিস্টেমের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম। প্রথম ধাপে হাইকোর্ট থেকে আব্দুল্লাহপুর পর্যন্ত সাতটি ইন্টারসেকশনে এ ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে। ধীরে ধীরে পুরো শহরে এটি বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে। দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত এই সিস্টেম বাস্তবায়নে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৮ কোটি টাকা।

সরকার আশা করছে, এ উদ্যোগের মাধ্যমে যানজট নিরসনের পাশাপাশি সড়কে শৃঙ্খলা ফিরবে এবং কর্মঘণ্টার অপচয় কমবে।

অতীতের অভিজ্ঞতা ব্যর্থ
ট্রাফিক সিগন্যাল অটোমেশন বাংলাদেশে নতুন কোনো উদ্যোগ নয়। ২০০১ সালে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে রাজধানীর ৭০টি ইন্টারসেকশনে স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল বসানো হলেও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এক বছরের মধ্যেই তা বিকল হয়ে যায়। ২০১২-১৩ অর্থবছরে আরও ২৯টি ইন্টারসেকশনে নতুন সিগন্যাল বসানো হয়, তবে সেগুলোও সঠিকভাবে পরিচালিত হয়নি। সর্বশেষ ২০১৬ সালে ডিটিসিএ চারটি ইন্টারসেকশনে এ ধরনের উদ্যোগ নেয়, কিন্তু প্রকল্পটি অসম্পূর্ণ থেকে যায়। ফলে নগরবাসী প্রত্যাশিত সুফল পায়নি।

এবার ভিন্ন বাস্তবায়ন পরিকল্পনা
এবারের প্রকল্পে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ), বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ একসঙ্গে কাজ করছে। পরবর্তী ধাপে মোট ২২টি ইন্টারসেকশনে এ ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক নীলিমা আখতার জানিয়েছেন, এই পাইলট প্রকল্প মূলত সচেতনতা তৈরি ও প্রযুক্তির সক্ষমতা যাচাইয়ের জন্য। তিনি বলেন, “দুই থেকে তিন সপ্তাহ ধরে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চলবে। এতে কোথায় ত্রুটি আছে এবং কীভাবে তা সংশোধন করা যায়, তা যাচাই করা হবে।”

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী শেখ মঈনউদ্দিন জানান, এবার সরকার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি বলেন, “অতীতে যেমন ব্যর্থতা হয়েছে, এবার আর তা হবে না।”

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত ট্রাফিক কমিশনার মো. সরওয়ার বলেন, “নতুন সিস্টেম কার্যকর হলে সিগন্যাল ভাঙা আর সহনীয় হবে না। সিগন্যাল অমান্য করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে জরিমানা দিতে হবে।”