
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে টানা বৃষ্টিতে সড়কের গর্তে পানি জমে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজট। গতকাল বুধবার রাত ৮টা থেকে আশুগঞ্জ গোলচত্বর থেকে শুরু হয়ে সরাইলের বেড়তলা, শান্তিনগর, বিশ্বরোড মোড়, কুট্টাপাড়া মোড় হয়ে বাড়িউরা পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট দেখা দেয়। বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ১১টায়ও অন্তত ১০ কিলোমিটার এলাকায় যানজট স্থায়ী ছিল।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সরাইল বিশ্বরোড মোড়, শান্তিনগর ও আশুগঞ্জের খড়িয়ালা এলাকায় বড় বড় গর্তে পানি জমে সড়কে তৈরি হয়েছে মৃত্যুফাঁদ। গত তিন মাসে একাধিকবার গর্তে ইট–বালু দিয়ে সংস্কার করলেও তা টেকেনি। টানা তিন দিনের বৃষ্টিতে গর্তগুলো আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। ফলে দূরপাল্লার যানবাহন আটকে পড়েছে, পণ্য পরিবহনেও দেখা দিয়েছে দীর্ঘ বিঘ্ন।
এতে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়ক ও সরাইল-নাসিরনগর-লাকাই আঞ্চলিক মহাসড়কেও এর প্রভাব পড়েছে। অনেক যাত্রী বাস নামিয়ে বৃষ্টিতে ভিজে হেঁটে গন্তব্যে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।
এক যাত্রীবাহী ট্রাকচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, “এক ঘণ্টা ধরে একই জায়গায় দাঁড়িয়ে আছি। বৃষ্টি হলেই এই জায়গায় ভোগান্তি বাড়ে।”
যানজটের মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ভারতীয় ঋণে বাস্তবায়িত আশুগঞ্জ নৌবন্দর থেকে আখাউড়া স্থলবন্দর পর্যন্ত ৫০.৫৮ কিলোমিটার মহাসড়ককে চার লেনে উন্নীত করার প্রকল্পের ধীরগতি। ৫ হাজার ৭৯১ কোটি টাকা ব্যয়ে ভারতের এফকনস ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।
সরকার পরিবর্তনের পর গত ৫ আগস্ট প্রকল্পের কাজ বন্ধ হয়ে যায়, এবং ভারতীয় কর্মকর্তারা দেশ ছেড়ে যান। কয়েক মাস পর তাঁরা দেশে ফিরে এলেও কাজের গতি আর আগের মতো হয়নি। ফলে পুরো সড়ক এখন যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
সড়কে যানচলাচল স্বাভাবিক রাখতে সরাইল থানা, খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানা ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন। তবে যানজট এতটাই ভয়াবহ যে কোথাও ঠিকমতো মুভ করা যাচ্ছে না বলে জানায় পুলিশ।
খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ওসি মামুন রহমান বলেন, “টানা বৃষ্টিতে বিশ্বরোড মোড় থেকে আশুগঞ্জ পর্যন্ত সড়ক কার্যত অচল। লোকাল বাসগুলো কোনো নিয়ম মানছে না। চার লেন প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ না হলে পরিস্থিতির উন্নয়ন সম্ভব নয়।”