ঢাকাবুধবার , ২৫ জুন ২০২৫
  • অন্যান্য

বরগুনার আমতলীতে যাত্রীবাহী বাসে ৮ মণ নিষিদ্ধ জাটকা জব্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক
জুন ২৫, ২০২৫ ১০:৫৯ পূর্বাহ্ণ । ১২৬ জন

বরগুনার আমতলীতে যাত্রীদের অভিযোগের ভিত্তিতে ৯৯৯-এ ফোন করার পর একটি যাত্রীবাহী বাস থেকে প্রায় সাড়ে ৮ মণ নিষিদ্ধ জাটকা ইলিশ জব্দ করেছে পুলিশ ও উপজেলা মৎস্য বিভাগ। তবে জব্দ অভিযান সফল হলেও বাসচালক ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন যাত্রীরা।

মঙ্গলবার (২৪ জুন) বিকেলে কুয়াকাটা-পটুয়াখালী মহাসড়কের আমতলী বাঁধঘাট চৌরাস্তার মোড়ে ঢাকাগামী ‘ইমরান ট্রাভেলস’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাসে অভিযান চালানো হয়। গোপন বাঙ্কারে রাখা ১৩টি ককসিটে প্রায় ৩৩০ কেজি (সাড়ে ৮ মণ) নিষিদ্ধ জাটকা ইলিশ পাচার করা হচ্ছিল। মাছের তীব্র দুর্গন্ধে বিরক্ত হয়ে যাত্রীরা প্রতিবাদ জানিয়ে পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন।

খবর পেয়ে আমতলী থানা পুলিশ ও উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. আশিকুর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে বাসটি আটক করেন এবং মাছগুলো জব্দ করেন। পরে এসব মাছ আমতলী ও আশপাশের ৩২টি এতিমখানায় বিতরণ করা হয়।

তবে অভিযানে জড়িত থাকার পরও বাসচালক বা স্টাফদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা জরিমানা না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ যাত্রীরা।

বাসযাত্রী রোমান বলেন, “বাসে দুর্গন্ধে টেকা যাচ্ছিল না। প্রশাসন এসে মাছ জব্দ করল, কিন্তু বাসচালককে কোনো শাস্তি না দিয়েই ছেড়ে দিল। এতে তো অন্য পরিবহনগুলোও উৎসাহিত হবে।”

অন্য আরেক যাত্রী শিউলী বলেন, “শাস্তি না হলে এসব নিষিদ্ধ কার্যক্রম চলতেই থাকবে। প্রশাসনের এমন নরম ভূমিকা দুঃখজনক।”

এ বিষয়ে আমতলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আরিফুল ইসলাম আরিফ বলেন, “বাসে যাত্রী থাকায় মামলা করলে তাঁদের হয়রানি হতো। তাই মানবিক বিবেচনায় বাসটি ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।”

তবে ভিন্ন মত দিয়েছেন আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রোকনুজ্জামান খান। তিনি বলেন, “বাসে নিষিদ্ধ মাছ বহন করায় চালক বা স্টাফদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

স্থানীয়দের মতে, প্রশাসনের এমন নমনীয়তায় জাটকা পাচার রোধে গৃহীত কার্যক্রম কার্যকর হচ্ছে না। শাস্তির নজির সৃষ্টি না হলে এই অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ হবে না বলেও তাঁরা মনে করেন।