
গত বছরের বন্যা ও চলতি মৌসুমের ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের প্রধান সড়কটি প্রায় চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। খানাখন্দে ভরা এই সড়কে প্রতিদিন ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত এ সড়কটি সংস্কারে এবার এগিয়ে এসেছেন স্থানীয়রা, আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন শামীমা গ্রুপের চেয়ারম্যান সাহাব উদ্দিন।
প্রায় ৩ কিলোমিটার সড়কে ইট, বালি ও সিমেন্ট ব্যবহার করে স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে গর্ত ভরাট করছেন এলাকার যুবকরা। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সরকারি বরাদ্দের আশায় বহুবার জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে গিয়েও কোনো সুফল না পাওয়ায় তারা নিজেরাই হাত লাগিয়েছেন সড়ক মেরামতে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নোয়াখালী-ফেনী আঞ্চলিক মহাসড়ক থেকে সরুগো পোল হয়ে দুর্গাপুর ইউনিয়নে প্রবেশের প্রধান সড়কটি চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। এই সড়ক দিয়ে দুর্গাপুর ছাড়াও সোনাইমুড়ী ও সেনবাগ উপজেলার হাজারো মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করে। তবে ৫ কিলোমিটারের মধ্যে অন্তত ৩ কিলোমিটার অংশ এখন চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মাহমুদুল হাসান জানান, “গর্তের ভেতর দিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে শরীর ব্যথা হয়ে যায়। প্রায়ই সিএনজি উল্টে যায়, বয়স্কদের তো চলাফেরাই মুশকিল হয়ে গেছে।”
সম্প্রতি একটি রং বাহী গাড়ি রাস্তার গভীর গর্তে পড়ে পাশের পুকুরে উল্টে যায়। আহত চালক ও সহকারীকে স্থানীয়রা উদ্ধার করেন।
স্থানীয়রা বলছেন, সাহাব উদ্দিনের মতো উদ্যোগী মানুষ না থাকলে হয়তো সড়কটি আরও বছরখানেক এই অবস্থায় থাকতো। সাহাব উদ্দিন বলেন, “সরকারের দিকে চেয়ে থাকলে ভোগান্তি বাড়বে। তাই নিজ উদ্যোগেই কাজ শুরু করেছি, এলাকার তরুণরাও সাড়া দিয়েছে।”
এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী আবুল খায়ের মিয়া জানান, সড়ক মেরামতের জন্য তালিকা তৈরির কাজ চলছে। অনুমোদন ও বরাদ্দ পেলেই কাজ শুরু হবে।
স্থানীয়দের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ এই আঞ্চলিক সড়কটি যেন দ্রুত ও টেকসইভাবে মেরামত করা হয়, যাতে করে দুর্ঘটনার ঝুঁকি ও জনদুর্ভোগ কমে আসে।