দেশের অর্থনৈতিক লাইফ লাইনখ্যাত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশজুড়ে ফিটনেসবিহীন দরজাখোলা তিন শতাধিক মিনি মাইক্রোবাস অবাধে চলাচল করছে। যাত্রীতে ঠাসা, দরজাবিহীন, ঝুঁকিপূর্ণ এসব যানবাহন প্রতিনিয়তই ঘটাচ্ছে দুর্ঘটনা। যদিও হাইওয়ে পুলিশ ও বিআরটিএর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, বাস্তবে তা মানা হচ্ছে না।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ইলিয়টগঞ্জ, কাঠেরপুল, চান্দিনা মোড়, কালাকচুয়া, পদুয়ারবাজারসহ অন্তত ১০টিরও বেশি স্থানে গড়ে উঠেছে এসব অবৈধ মাইক্রোবাস স্ট্যান্ড। অধিকাংশ গাড়ির নেই ফিটনেস, রুট পারমিট, ইন্স্যুরেন্স কিংবা ড্রাইভিং লাইসেন্স। অনেক চালক স্বীকার করেছেন, মাসোহারা দিয়েই তারা হাইওয়ে পুলিশকে ‘ম্যানেজ’ করে চলাচল করছেন।
যাত্রীদের অভিযোগ, দরজাবিহীন মাইক্রোগুলো চলন্ত অবস্থায় যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা করে, অধিকাংশ গাড়ির দরজা বাঁশ-রশি দিয়ে আটকানো। সম্প্রতি নিমসারে একটি চলন্ত মাইক্রোবাসে আগুন ধরে গেলে পাঁচ যাত্রী প্রাণে বাঁচলেও গাড়িটি পুড়ে যায়।
হাইওয়ে পুলিশ কুমিল্লা রিজিয়নের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. খাইরুল আলম বলেন, “১৫-২০ বছর ধরে মহাসড়কে চলা এসব মাইক্রোবাস সম্পূর্ণ অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ। নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে, মামলা দেওয়া হচ্ছে।” তবে মাসোহারার অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন এবং প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
বিআরটিএ কুমিল্লা সার্কেলের সহকারী পরিচালক মো. ফারুক আলম বলেন, “ফিটনেসবিহীন গাড়ির সংখ্যা জানা না থাকলেও এগুলোর অধিকাংশই মহাসড়কে চলার উপযোগী নয়। খুব শিগগির অভিযান শুরু হবে।”
এদিকে যানবাহন মালিকরা দাবি করেন, মহাসড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিষিদ্ধ হওয়ায় তারা পুরোনো মাইক্রোবাস কিনে যাত্রী পরিবহনে নেমেছেন। মাসিক স্ট্যান্ড ইজারা ও মাসোহারার ভিত্তিতে চলছে এসব গাড়ি।
প্রতিদিন ভোগান্তির শিকার যাত্রীরা বলছেন, এসব মাইক্রোতে ওঠা মানেই দুর্ঘটনার আতঙ্ক। যাত্রী আব্দুল হান্নান বলেন, “গাড়ি চলছে তো চলছেই—হঠাৎ স্টার্ট বন্ধ। সবাই একে অপরের গায়ে পড়ে। একটা আতঙ্ক নিয়েই যাতায়াত করতে হয়।”


