
ছুটির দিনেও থামছে না সড়ক দুর্ঘটনার মিছিল। মাত্র একদিনে দেশের সাতটি জেলায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৯ জন। আহত হয়েছেন আরও অনেকে। যানবাহনের অসচেতন চালনা, ওভারটেকিং, অদক্ষ চালক, নিয়ন্ত্রণহীন গতি—এইসব চিরচেনা চিত্রই যেন প্রাণহানির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ময়মনসিংহে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি:
ফুলপুর ও তারাকান্দায় পৃথক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ৯ জনের।
ফুলপুরে কোদালদহ এলাকায় রাত ৯টার দিকে যাত্রীবাহী বাস ও মাহিন্দ্রার মুখোমুখি সংঘর্ষে ৬ জন নিহত হন। ঘটনাস্থলেই নিহত হন সবাই। বিক্ষুব্ধ জনতা দুর্ঘটনাকবলিত বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেন।
এর আগে তারাকান্দা উপজেলার কোদালধর এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে ৩ জন নিহত হন এবং আরও ৩ জন আহত হন।
নাটোরে প্রাণ গেল ৪ জনের:
নাটোর সদর উপজেলার বনবেলঘড়িয়া বাইপাসে বাস ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে ৪ জন নিহত হন।
ঘটনাস্থলে ২ জন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ২ জনের মৃত্যু হয়।
নিহতদের একজন হলেন অটোরিকশাচালক বাবু হোসেন (৪০)।
লালমনিরহাটে কলেজ শিক্ষার্থীদের মৃত্যু:
পাটগ্রামের নবীনগর সরকারপাড়া মোড়ে পিকআপ ভ্যান ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে প্রাণ যায় দুই তরুণ শিক্ষার্থী—মেরাজ হোসেন (২৪) ও অনিক মিয়া (২৬)।
মেরাজ ঘটনাস্থলে এবং অনিক হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান।
তাঁরা জুমার নামাজে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনার শিকার হন।
অন্য দুর্ঘটনাগুলো:
গাজীপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় ১ জন নিহত
জামালপুর সদরে প্রাণ গেছে ১ জনের
চট্টগ্রামের বায়েজিদ লিংক রোডে নিহত ১ জন
মানিকগঞ্জের সিংগাইরেও সড়কে ঝরেছে ১ প্রাণ
এই একদিনেই সড়কে প্রাণ হারিয়েছেন ১৯ জন। সড়ক দুর্ঘটনার এই ভয়াবহতা আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল—বাংলাদেশে নিরাপদ সড়ক এখনো অনেক দূরের পথ। চালকদের দায়িত্বজ্ঞানহীনতা ও সড়ক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা মিলে প্রতিদিনই অকাল মৃত্যুর মঞ্চে দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া সড়কে শৃঙ্খলা ফিরবে না। সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাই শক্ত নীতি, সচেতনতা ও কঠোর প্রয়োগ। নতুবা এ মরণমিছিল চলতেই থাকবে—প্রতিটি ছুটির দিনে, প্রতিটি ব্যস্ত বিকেলে।