
কুমিল্লার মুরাদনগরে ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল দেখতে এসে বাসের চাপায় প্রাণ হারিয়েছেন এক অটোরিকশাচালক। আহত হয়েছেন অন্তত ১৪ জন, যাঁদের মধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। শনিবার (২৬ জুলাই) বিকেলে উপজেলার ডি আর সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠ সংলগ্ন মুরাদনগর-ইলিয়টগঞ্জ সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তির নাম গিয়াস উদ্দিন (৪০)। তিনি দুলারামপুর গ্রামের শহীদ মিয়ার ছেলে এবং পেশায় অটোরিকশাচালক ছিলেন। গুরুতর আহতদের মধ্যে রয়েছেন—শাহজালাল (৪৫), গোলাম রব্বানী (১৮), সাইদুল (৩০) ও ঋত্বিক চন্দ্র বর্মণ (২০)।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, মুরাদনগর ড্রাগন ফুটবল একাডেমি আয়োজিত মাদকবিরোধী ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা চলছিল ডি আর উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে। দুলারামপুর ও ধনিরামপুর ফুটবল একাডেমির মধ্যে এই ফাইনাল দেখতে কয়েক হাজার দর্শক ভিড় করেন মাঠ ও আশপাশের ভবনের ছাদে।
ফুটবল মাঠের পাশে থাকা মুরাদনগর-ইলিয়টগঞ্জ সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে দর্শকদের ভিড়ে। এ সময় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ইলিয়টগঞ্জ এক্সপ্রেস পরিবহনের একটি বাস দীর্ঘক্ষণ যানজটে আটকে থাকার পর হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দর্শকদের ওপর উঠে যায়। ঘটনাস্থলেই গিয়াস উদ্দিন নিহত হন। আহত হন আরও অনেকে।
দুর্ঘটনার পর বাসচালক ও হেলপারকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হলেও, পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে আয়োজক কমিটি ও স্থানীয় বিএনপি নেতারা।
মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, দুই মাস ধরে চলা টুর্নামেন্টের ফাইনালে এক লাখের বেশি দর্শক উপস্থিত ছিলেন। আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মুরাদনগর থানার ওসিকে দাওয়াত ও নিরাপত্তার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। কিন্তু থানা থেকে মাত্র একজন এসআই ও তিনজন কনস্টেবল পাঠানো হয়, যারা ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে কোনো ভূমিকা রাখেননি।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, “বাসটি প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে যানজটে আটকে ছিল। পরে হঠাৎই চালক গাড়িটি চালিয়ে দর্শকদের চাপা দেয়। আমরা জানতে পেরেছি, বাসটির মালিক স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতা। পুলিশ চালক-হেলপারকে হেফাজতে নিয়েও ছেড়ে দিয়েছে। আমরা নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে পুলিশ। মুরাদনগর থানার ওসি মো. জাহিদুর রহমান বলেন, “খেলার জন্য আমাদের কাছে লিখিতভাবে কোনো নিরাপত্তা চাওয়া হয়নি। এত মানুষের ভিড় ছিল, অথচ আয়োজকদের পক্ষ থেকেও সেভাবে প্রস্তুতি ছিল না। চালক বা হেলপারকে কেউ আমাদের কাছে হস্তান্তর করেননি। আমরা শুধু বাসটি জব্দ করেছি।”
তিনি আরও বলেন, “বিএনপি নেতাদের অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তারা এর আগেও আমার বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে। ঘটনার তদন্ত চলছে, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় প্রশাসনের অব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তাহীনতায় একটি প্রাণহানির ঘটনা ঘটে যাওয়ায় এলাকাবাসী ও নিহতের পরিবার ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। তারা দ্রুত তদন্ত ও দায়ীদের বিচার দাবি করেছেন।