
ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ (বিএটিবি)-এর ফিল্ড টেকনিশিয়ান (এফটি) ও অফিস সহকারীরা চাকরি স্থায়ীকরণ, আউটসোর্সিং ব্যবস্থার মাধ্যমে হয়রানি বন্ধ এবং সরাসরি কোম্পানির স্থায়ী পে-রোলে অন্তর্ভুক্তির দাবিতে দেশের বিভিন্ন তামাক উৎপাদনকারী অঞ্চলে ধারাবাহিক আন্দোলন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন।
আজ মঙ্গলবার (২১ জুলাই ২০২৬) এফটি ঐক্য জোট ও অফিস কর্মচারীবৃন্দ ব্যানারে পরিচালিত এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে কুষ্টিয়ার আল্লারদর্গা লিফ ডিপো, ঝিনাইদহ ও মেহেরপুরে বিএটিবি’র লিফ রিজিওন অফিসের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আন্দোলনকারীদের নেতৃত্বে রয়েছেন সংগঠনের সভাপতি মো. আরিফুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক মো. সামিউল ইসলাম।
আন্দোলনরত শ্রমিকদের দাবি, তারা কোম্পানির তামাক উৎপাদন ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের কাজের মধ্যে রয়েছে চুক্তিভিত্তিক কৃষকদের সঙ্গে তামাক চাষের চুক্তি সম্পাদন, তামাকের বীজ, সার ও কীটনাশক সরবরাহ, অগ্রিম ঋণ বিতরণ, কারিগরি সহায়তা প্রদান, তামাক চাষ তদারকি, পাতা সংগ্রহ, মান নিয়ন্ত্রণ এবং কোম্পানির কৃষিভিত্তিক কার্যক্রম বাস্তবায়ন।
এছাড়া তামাক পাতা সংগ্রহের পর তা চুল্লিতে (কিউরিং বার্ন) প্রক্রিয়াজাত করার জন্য চুল্লি নির্মাণ ও প্রস্তুতকরণ তদারকি, কৃষকদের জন্য তামাক সরবরাহের লিখিত অনুমতিপত্র ইস্যু এবং কোম্পানির ডিজিটাল অ্যাপ্লিকেশন—বিএটি লাইফ, এগ্রি৩৬০ ও বিজয় অ্যাপসের মাধ্যমে কৃষি কার্যক্রম, উৎপাদন, সংগ্রহ ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনাও তারা পরিচালনা করেন।
শ্রমিকদের ভাষ্য, তামাক মৌসুম শেষ হলেও তাদের কাজ শেষ হয় না। অফ-সিজনে সামাজিক বনায়ন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও তাদের দিয়েই বাস্তবায়ন করানো হয়। ফলে বছরের প্রায় ১২ মাস তারা কোম্পানির মূল ব্যবসায়িক কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকেন।
তাদের অভিযোগ, এত দীর্ঘমেয়াদি ও অপরিহার্য দায়িত্ব পালন করলেও বিএটিবি তাদের নিজস্ব স্থায়ী কর্মী হিসেবে নিয়োগ না দিয়ে এমএসএম লজিস্টিকস নামের একটি তৃতীয় পক্ষের আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে চুক্তিভিত্তিক কর্মী হিসেবে নিয়োজিত রেখেছে। এর ফলে ১৫ থেকে ২০ বছর ধরে একই প্রতিষ্ঠানের জন্য পূর্ণকালীনভাবে কাজ করেও তারা চাকরির স্থায়িত্ব, নিয়মিত বেতন বৃদ্ধি, গ্র্যাচুইটি, প্রভিডেন্ট ফান্ড, শ্রমিক কল্যাণ তহবিল, চিকিৎসা সুবিধাসহ স্থায়ী কর্মীদের জন্য প্রযোজ্য বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে দাবি করেন।
আন্দোলনকারীরা আরও বলেন, জাপান টোব্যাকো ইন্টারন্যাশনাল (জেটিআই)-এর ফিল্ড টেকনিশিয়ানরা সরাসরি কোম্পানির কর্মী হিসেবে নিয়োজিত। তাদের দাবি, জেটিআইয়ের কর্মীরা বিএটিবির ফিল্ড টেকনিশিয়ানদের তুলনায় অধিক বেতন-ভাতা, চিকিৎসা সুবিধা ও শ্রমিক কল্যাণ তহবিলের সুবিধা ভোগ করেন। ফলে একই ধরনের কাজ করেও দুই প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য বৈষম্য বিদ্যমান।
শ্রমিকদের মতে, তাদের দায়িত্ব ও কাজের ধরন বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ অনুযায়ী স্থায়ী প্রকৃতির কাজের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই বছরের পর বছর একই ধরনের কাজ আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে পরিচালনা করা ন্যায্য কর্মসংস্থান ও শ্রমিক অধিকার নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত আইনগত ব্যাখ্যা ও সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা আদালতের এখতিয়ারভুক্ত।
এদিকে চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ফিল্ড টেকনিশিয়ানরা সংগঠিত হয়ে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরে (ডিআইএফই) আবেদন জমা দিয়েছেন এবং সরাসরি বিএটিপির স্থায়ী পে-রোলে অন্তর্ভুক্তির দাবি জানিয়েছেন।
আন্দোলনরত শ্রমিকদের অভিযোগ, এই দাবি উত্থাপনের পর বিভিন্ন অঞ্চলের কর্মীদের দূরবর্তী জেলায় বদলির নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, কুষ্টিয়ার কর্মীদের রংপুরে, রংপুরের কর্মীদের মানিকগঞ্জে এবং ঝিনাইদহের কর্মীদের রংপুরসহ অন্যান্য এলাকায় বদলির নির্দেশ দিয়েছে আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠান এমএসএম লজিস্টিকস। পাশাপাশি আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী কয়েকজন কর্মী চাকরিচ্যুতির হুমকি ও প্রশাসনিক হয়রানির অভিযোগও করেছেন।