
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের ধর্মঘটের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগী ও মৃতের স্বজনরা। হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স চলাচল নিয়ে জটিলতা তৈরি হওয়ায় রোগী অন্যত্র নেওয়া এবং মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাঁদের।
হাসপাতালে স্থায়ী পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করার দাবিতে অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের ধর্মঘটের কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, দেশের অন্যতম বৃহৎ এই হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স পাওয়া যাচ্ছে না। একই সঙ্গে বাইরে থেকে অ্যাম্বুলেন্স এনে রোগীদের অন্যত্র নেওয়ার ক্ষেত্রেও বাধার মুখে পড়ছেন স্বজনরা।
ভোগান্তিতে পড়া এক রোগীর স্বজন জানান, তাঁরা অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে হাসপাতালে এলেও ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করেও তাঁরা অ্যাম্বুলেন্স সংগ্রহ করতে পারেননি। ওই স্বজনের ভাষ্য, রোগী মারা যাওয়ার পর মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যেতে চাইলেও কোনো গাড়ি পাওয়া যায়নি। তাঁদের বাইরে গিয়ে গাড়ি খুঁজতে বলা হচ্ছে। অন্যদিকে, হাসপাতালের ভেতরে থাকা গাড়িচালকেরাও যেতে রাজি হচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে স্টার নিউজকে এক ব্যক্তি জানান, তিনি অ্যাম্বুলেন্স ছাড়া অন্য যানবাহন, বিশেষ করে রিকশা সরিয়ে দিচ্ছেন, যাতে অ্যাম্বুলেন্স প্রবেশ করতে পারে। অ্যাম্বুলেন্স চলাচলে বাধা দেওয়া হলে তিনি ভুল করতে পারেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তবে অ্যাম্বুলেন্স চলাচলে বাধা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে বাংলাদেশ অ্যাম্বুলেন্স কল্যাণ সমিতি। সংগঠনটির দাবি, অন্য একটি চক্র এ ধরনের ঘটনা ঘটাচ্ছে, যার দায় তাদের নয়।
বাংলাদেশ অ্যাম্বুলেন্স কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক বাদল মাতবর বলেন, হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না-এমন অভিযোগ মিথ্যা। নিয়মিত অ্যাম্বুলেন্স হাসপাতালে প্রবেশ করছে এবং রোগী নিয়ে যাতায়াত করছে বলে দাবি করেন তিনি।
বাদল মাতবর বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থায়ী পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করার দাবি মেনে নেওয়া হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। তাঁর ভাষ্য, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতালের সামনে রোগী ওঠানোর পর অ্যাম্বুলেন্সচালকদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। তাঁরা সুন্দর ও সুশৃঙ্খল পার্কিংয়ের ব্যবস্থা চান। এ বিষয়ে আশ্বাস দেওয়া হলে ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হবে।
জরুরি চিকিৎসাসেবা ও মরদেহ পরিবহনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবা ধর্মঘটের কারণে ব্যাহত হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।