
আমদানী নিষিদ্ধ ই-সিগারেট অনলাইনে বিক্রি করায় ৩৩ টি ওয়েব সাইট বন্ধে পদক্ষেপ গ্রহণে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ কমিশনকে অনুরোধ জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্রীয় ডিডিটাল কমার্স সেল। এছাড়া Smart Eshop BD, Xclusive Brands BD, BD Stall, Daraz Bangladesh Limited, Click BD এবং Cloud Corner প্রতিষ্ঠানসমূহকে নিষিদ্ধ ই-সিগারেট বিক্রিতে কোন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে না তার কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে। ডিজিটাল বাণিজ্য নির্দেশিকা অনুসারে অনলাইনে নেশা দ্রব্য বিক্রয় নিষিদ্ধ বিধায় এ নোটিশ প্রদান করা হয়।
জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে গত ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ সরকার ই-সিগারেট নিষিদ্ধ করে। সরকারের এ সিদ্ধান্ত ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়। বাংলাদেশে ই-সিগারেট-র ব্যবহার প্রায় ০.২ শতাংশ। কিন্তু বিগত কয়েক বছর ধরে বিদেশী কিছু সিগারেট কোম্পানি কৌশলে তরুণদের মাঝে ইসিগারেট বাড়াচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোটের সহ-সমন্বয়কারী হেলাল আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ ই-সিগারেটের ব্যবহার নেই বললেই চলে। কিন্তু কিছু সিগারেট কোম্পানি সুকৌশলে তরুণদের মাঝে ই-সিগারেট ব্যবহার বাড়াতে কাজ করছে। দেশে যত জায়গা ই-সিগারেট বিক্রি হচ্ছে, এ সকল ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের সাথে কতিপয় বিদেশি সিগারেট কোম্পানির যোগাযোগ রয়েছে। এ সিদ্ধান্ত লক্ষ তরুণের জীবন নেশা হতে বাঁচাবে।
ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউর্ভাসিটির টোব্যাকো কন্ট্রোল রিসার্স সেল-টিসিআরসি’র প্রোগ্রাম ম্যানেজার ফারহানা জামান লিজা বলেন, গবেষণায় দেখা যায় অনলাইনে ই-সিগারেট বিক্রয় বেশি হচ্ছে,। যার মধ্যে ফেসবুক (৯২%), ওয়েবসাইট (৬৭%) এবং ইনস্টাগ্রাম (৩৮%) মতো প্ল্যাটফর্মগুলোতে বিক্রেতারা সক্রিয়ভাবে পণ্য প্রচার ও বিক্রি করছে। তারা ই-সিগারেটকে প্রচলিত সিগারেটের তুলনায় “কম ক্ষতিকর”, “স্টাইলিশ বিকল্প” ও “সিগারেট ছাড়ার টুল” হিসেবে উপস্থাপন করছে এবং ‘ফল’ ও ’আইস’সহ বিভিন্ন ফ্লেভারের বা স্বাদের পণ্য বাজারে বিদ্যমান যা বিশেষভাবে তরুণদের আকৃষ্ট করছে।
পাবলিক হেলথ ল ইয়ার্স নেটওয়ার্কের সদস্য সচিব ব্যারিষ্টার নিশাত মাহমুদ বলেন, ক্ষতিকর এ পণ্য নিষিদ্ধ করে সরকার জনস্বাস্থ্য রক্ষায় অর্পিত সাংবিধানিক দায়িত্ব পালণ করেছে। ই-সিগারেট আমদানী নিষিদ্ধ হাওয়ায় দেশে বিক্রয়ের কোন সুযোগ নেই। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর উচিত এ অবৈধ পণ্য বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানগুলো খুজে বের করা এবং জব্দ করে ধ্বংশ করে ফেলা। আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় খসড়া তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশোধনীতে দেশে সকল ধরনের ই-সিগারেট আমদানী, উৎপাদন ও ব্যবহার বন্ধে নিষিদ্ধের প্রস্তাব করেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং জনস্বাস্থ্য রক্ষায় সংস্থাগুলো সরকারের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। ইতোমধ্যে ক্ষতিকর বিবেচনায় ভারত, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুরসহ ৩২টি দেশ এসব পণ্য বিক্রয় নিষিদ্ধ করেছে।