ঢাকাসোমবার , ২ নভেম্বর ২০২৬
  1. সর্বশেষ

২০২৭ সালের মধ্যে রাজশাহীতে মিলবে পদ্মার বিশুদ্ধ পানি

প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৬ জুলাই ২০২৬, ২:৫৩ বিকাল

Link Copied!

দ্রুত নগরায়ণ ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে রাজশাহী শহরে সুপেয় পানির সংকট ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। ভূগর্ভস্থ পানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার ফলে পানির স্তরও নিচে নেমে যাচ্ছে। এ অবস্থায় নগরবাসীর পানির চাহিদা মেটাতে পদ্মা নদীর পানি পরিশোধন করে সরবরাহের জন্য বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে রাজশাহী ওয়াসা।

বাংলাদেশ ও চীনের যৌথ অর্থায়নে প্রায় ৪ হাজার ৬২ কোটি ২২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন ‘সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট প্রকল্পের’ ভৌত কাজ ইতোমধ্যে ৬৫ শতাংশ শেষ হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে প্রতিদিন পদ্মা নদীর পানি পরিশোধন করে ২০ কোটি লিটার বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এতে ২০৩৫ সালের সম্ভাব্য পানির চাহিদাও পূরণ করা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বর্তমানে রাজশাহী মহানগরে প্রতিদিন প্রায় ৩ কোটি ৭৫ লাখ লিটার সুপেয় পানির ঘাটতি রয়েছে। নগরীর পানির চাহিদা পূরণে ওয়াসা মূলত গভীর নলকূপের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন করছে। তবে বরেন্দ্র অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ক্রমাগত নিচে নেমে যাওয়ায় এভাবে পানি সরবরাহ দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রকল্পের আওতায় গোদাগাড়ীতে পদ্মা ও মহানন্দা নদীর মিলনস্থলে একটি আধুনিক ইনটেক পয়েন্ট নির্মাণ করা হচ্ছে। সেখান থেকে পানি নিয়ে পাশেই স্থাপিত পরিশোধনাগারে প্রতিদিন ২০ কোটি লিটার পানি শোধন করা হবে। এরপর পবা উপজেলার হরিপুরে বুস্টার পাম্পের মাধ্যমে পাইপলাইনে নগরীতে সরবরাহ করা হবে।

প্রকল্পের আওতায় ২৬ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ট্রান্সমিশন পাইপলাইন নির্মাণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ২১ কিলোমিটার পাইপলাইন স্থাপনের কাজ শেষ হয়েছে। পাশাপাশি নগরীতে ১৬ কিলোমিটার ডিস্ট্রিবিউশন লাইন স্থাপন করা হয়েছে এবং আরও ১০ কিলোমিটার লাইনের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, আন্তর্জাতিক মানের পানি পরিশোধন প্রযুক্তি ও দীর্ঘস্থায়ী পাইপলাইন ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব পাইপলাইনের স্থায়িত্ব অন্তত ৭০ বছর বলে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

রাজশাহী ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী পারভেজ মামুদ বলেন, ২০৩৫ সালের সম্ভাব্য পানির চাহিদা এবং নগরীর ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ বিবেচনায় নিয়ে প্রকল্পটির নকশা করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে।

এ প্রকল্পের আওতায় রাজশাহী নগরীর পাশাপাশি কাটাখালী, নওহাটা ও গোদাগাড়ীর ৩০টি ওয়ার্ডের বাসিন্দারাও নিরাপদ সুপেয় পানি পাবেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পদ্মার পানি পরিশোধনের মাধ্যমে সরবরাহ করা হলে রাজশাহীর পরিবেশের ওপর চাপ কমবে। পাশাপাশি নগরবাসীর দীর্ঘমেয়াদি সুপেয় পানির চাহিদাও পূরণ করা সম্ভব হবে।

প্রকল্পের বর্তমান অগ্রগতি অনুযায়ী ২০২৭ সালের মধ্যে পানি পরিশোধনাগারের নির্মাণকাজ শেষ করে নগরবাসীর কাছে বিশুদ্ধ পানি পৌঁছে দেওয়ার আশাবাদ জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল তরুণ ইনফ্লুয়েন্সার জেজুনের

হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক-নার্স সংকট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

সময়মতো ন্যায্যমূল্যে কৃষকের কাছে সার পৌঁছানোর নির্দেশ কৃষিমন্ত্রীর

৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকায় পদ্মা ব্যারাজ, বদলে যাবে ১৯ জেলার চিত্র?

বাইন্যান্সের নিরাপত্তাব্যবস্থা ভেঙে ৬৩০ কোটি ডলার চুরি, নেপথ্যে কারা?

শুঁটকিতেও মিলল বিষাক্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক: শীর্ষে লইট্টা ও চিংড়ি

যুদ্ধে বিপর্যস্ত কৃষ্ণসাগর: সাড়ে ৪ বছরে ১ লাখ ২০ হাজার ডলফিনের মৃত্যু

সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের জীবন বাঁচাতে তরুণদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও সিপিআর প্রশিক্ষণ

হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় দুই শিশুর মৃত্যু

কৃষকের কাছে সময়মতো ন্যায্যমূল্যে সার পৌঁছানোর তাগিদ কৃষিমন্ত্রীর

Tourism Fair Concludes with Tk 43 Crore in Business Over Three Days

তিন দিনে ৪৩ কোটি টাকার ব্যবসা, শেষ হলো পর্যটন মেলা