
আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক শান্তি রক্ষায় পারমাণবিক এবং তেজস্ক্রিয় পদার্থের অবৈধ পাচার বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংগঠিত অপরাধী চক্রগুলো প্রায়শই এই বিপজ্জনক পদার্থগুলো চুরি করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের চেষ্টা করে। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এমন একটি মাত্র ঘটনাও বিশ্ব নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় এবং পশ্চিম আফ্রিকার উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদারে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ সংক্রান্ত কার্যালয় (ইউএনওডিসি)। সংস্থাটি গিনি উপসাগরীয় অঞ্চলের সামুদ্রিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে পারমাণবিক ও তেজস্ক্রিয় পদার্থের পাচার সনাক্ত ও প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় দক্ষতা, প্রযুক্তিগত সুবিধা এবং আধুনিক সরঞ্জাম সরবরাহ করছে।
এই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে সম্প্রতি ঘানা ও নাইজেরিয়ার সামুদ্রিক আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের জন্য উচ্চতর প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। ‘ভিজিট, বোর্ড, সার্চ অ্যান্ড সিজার’ (ভিবিএসএসS) বিষয়ক এই বিশেষায়িত কর্মশালায় কর্মকর্তাদের সমুদ্রে সন্দেহভাজন জাহাজে প্রবেশ, তল্লাশি চালানো এবং অবৈধ পারমাণবিক উপাদান সনাক্তকরণের কৌশল শেখানো হয়।
জাতিসংঘের এই উদ্যোগে দুই দেশের কোস্টগার্ড ও সামুদ্রিক পুলিশ বাহিনী যৌথভাবে কাজ করার সুযোগ পেয়েছে, যা গিনি উপসাগরে বিপজ্জনক রাসায়নিক ও পারমাণবিক উপাদানের অবৈধ পরিবহন, অধিগ্রহণ এবং ব্যবহার রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।
ইউএনওডিসি জানায়, সামুদ্রিক সীমান্ত ব্যবহার করে অপরাধীরা যেন কোনোভাবেই ক্ষতিকর পারমাণবিক পদার্থ হাতবদল করতে না পারে, সেজন্য আঞ্চলিক অংশীদারদের সমন্বয়ে এ ধরনের প্রতিরোধমূলক পর্যবেক্ষণ ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।