
নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডামভিত্তিক টপ এমপ্লয়ার ইন্সটিটিউট (Top Employers Institute) কর্মক্ষেত্রে পরিবেশ, মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও কর্মীদের জন্য প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা ও চর্চার মূল্যায়নের ভিত্তিতে ‘Top Employer’ স্বীকৃতি দিয়ে থাকে। বাংলাদেশে বহুজাতিক তামাক কোম্পানি ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ (বিএটিবি) টানা সাতবার এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে। নিজেদের এই আন্তর্জাতিক অর্জনের প্রচারে বিভিন্ন গণমাধ্যমেও সংবাদ প্রকাশ করেছে কোম্পানিটি।

কিন্তু প্রদীপের গোড়ায় অন্ধকারের মতোই এই স্বীকৃতির আড়ালে উন্মোচিত হয়েছে শ্রমিক অধিকার নিয়ে ভিন্ন এক চিত্র। শ্রমিকদের অভিযোগ, বছরের পর বছর কোম্পানির স্থায়ী ধরনের কাজ করেও হাজারো কর্মীকে থার্ড পার্টি বা আউটসোর্সিং কর্মী হিসেবে নিয়োগ দিয়ে রেখেছে ব্রিটিশ অ্যামেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ। ফলে তারা কোম্পানির স্থায়ী কর্মীদের মতো বিভিন্ন আর্থিক ও আইনগত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

পদে পদে শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ বিএটি বাংলাদেশের বিরুদ্ধে
বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানের মূল বা স্থায়ী ধরনের কাজে ঠিকাদারি বা আউটসোর্সিং কর্মী নিয়োগের সুযোগ নেই। কোনো কাজ প্রতিষ্ঠানের প্রকৃতি অনুযায়ী টানা ১৮০ দিনের বেশি চললে সেটিকে মূল বা স্থায়ী কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। স্থায়ী কাজে তৃতীয় পক্ষ বা আউটসোর্সিং কর্মী নিয়োগের সুযোগ নেই। বাংলাদেশের দেশি-বিদেশি সব কোম্পানির জন্যই শ্রম আইন পালন বাধ্যতামূলক।
বহুজাতিক সিগারেট কোম্পানি বিএটি বাংলাদেশের তামাক চাষের পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গেই যুক্ত রয়েছেন ফিল্ড টেকনিশিয়ান বা এফটি কর্মীরা। তামাক চাষের জন্য কৃষক নির্বাচন, কৃষকদের সঙ্গে চুক্তি, বীজ বিতরণ, বীজতলা তৈরি, চারার পরিচর্যা ও পর্যবেক্ষণ, সার ও কীটনাশক বিতরণ, নগদ টাকা ঋণ হিসেবে দেওয়া, তামাক রোপণ, পরিচর্যা ও মাঠপর্যায়ে দিকনির্দেশনা দেওয়ার কাজ করেন এই ফিল্ড টেকনিশিয়ানরা।
এখানেই শেষ নয়, তামাক পাতা সংগ্রহের পর কিউরিং, গ্রেডিং, বেল প্রস্তুত এবং কবে কোন তামাক চাষি কত বেল তামাক বিক্রির জন্য কোম্পানির কাছে আসবেন, সেই নির্দেশনা বা টিপি ইস্যু, ঋণ পরিশোধসহ সমুদয় কাজ করেন এই ফিল্ড টেকনিশিয়ান শ্রমিকরা। বিএটির বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ এবং তামাক চাষিদের মাঠপর্যায়ে নির্দেশনাও দেন তারা।
শ্রমিকদের ভাষ্য, তামাক চাষের প্রায় ১০ মাস তারা মাঠে কাজ করেন। বাকি দুই মাসও বৃক্ষরোপণ বা বনায়ন কর্মসূচিতে যুক্ত করে বিএটিবি। অর্থাৎ কার্যত বছরের ১২ মাসই তাদের দিয়ে কাজ করানো হয়। অথচ তাদের বিএটির সরাসরি কর্মী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয় না।

আগে এফটিরা স্থায়ী শ্রমিক, সুবিধা বঞ্চিত করতে ঠিকাদারি
এফটিরা বিএটির জন্য সব কাজই করেন এবং বিএটির কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় কাজ করেন। শুধু মাসিক বেতন দেওয়া হয় এমএসএম লজিস্টিকসের মাধ্যমে। শ্রমিকদের অভিযোগ, বিএটি থেকে বেতন বাবদ টাকা নিয়ে এমএসএম লজিস্টিকস এফটিদের বেতন দেয় এবং মাঝখানে কোনো ধরনের পরিশ্রম ছাড়াই বড় অঙ্কের কমিশন পাচ্ছে। অর্থাৎ শ্রমিকের কষ্টার্জিত আয়কে কেন্দ্র করে ফুলে-ফেঁপে উঠছে ঠিকাদারি কোম্পানি।
কুষ্টিয়া ও রংপুর অঞ্চলে এমএসএম লজিস্টিকস নামের একটি ঠিকাদারি কোম্পানির মাধ্যমে কৌশলে নিয়োগ দিয়েছে বিএটি। চট্টগ্রামেও অন্য একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা কাজ করছেন। শ্রমিকদের অভিযোগ, এমএসএম লজিস্টিকসের মালিক একটা সময় বিএটিতে চাকরি করতেন এবং অবসরের পর দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসার জন্য আউটসোর্সিং শ্রমিক নিয়োগের ব্যবসা শুরু করেন।

ঠিকাদারি কোম্পানিকে কমিশনের টাকা দিয়ে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও শ্রম অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে বহুজাতিক সিগারেট কোম্পানিটি, এমন অভিযোগ আন্দোলনরত শ্রমিকদের।
তাদের দাবি, ২০১০ সাল থেকে গত ১৬ বছর ধরে তারা বিএটির সঙ্গে যুক্ত। এই দীর্ঘ সময়ে নিয়মিতভাবে একই ধরনের কাজ করলেও তারা চাকরির ন্যূনতম নিরাপত্তা, ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা এবং শ্রম আইন অনুযায়ী বার্ষিক ৫ শতাংশ লভ্যাংশ বা WPPF থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
জাপান টোব্যাকোতে এফটি কর্মীরা স্থায়ী, কিন্তু বিএটিতে অস্থায়ী!
একই ধরনের ফিল্ড টেকনিশিয়ানদের ক্ষেত্রে জাপান টোব্যাকোর সঙ্গে বিএটির ব্যবস্থাপনার পার্থক্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন আন্দোলনকারী শ্রমিকরা। তাদের দাবি, জাপান টোব্যাকোতে কর্মরত সব ফিল্ড টেকনিশিয়ান স্থায়ী কর্মী হিসেবে কাজ করছেন এবং কোম্পানির নীতিমালা অনুযায়ী সব ধরনের সুবিধা পাচ্ছেন। বেতন-ভাতাও অনেক বেশি জাপান টোব্যাকোর এফটিদের।

বাংলাদেশের সিগারেট বাজারে জাপান টোব্যাকোর নিয়ন্ত্রণ যেখানে প্রায় ১২ শতাংশ, সেখানে বিএটির নিয়ন্ত্রণ প্রায় ৭৭ শতাংশ। শ্রমিকদের প্রশ্ন, বাজার হিস্যা ছয় গুণেরও বেশি ছোট হওয়ার পরও জেটিআই যদি তাদের ফিল্ড টেকনিশিয়ানদের স্থায়ী কর্মী হিসেবে রাখতে পারে, তাহলে বিএটি বাংলাদেশ কেন পারবে না?
মুনাফার দিক দিয়েও বহুগুণে বেশি মুনাফা করছে বিএটি। তাহলে কি শ্রমিকদের ঠকাতেই ঠিকাদারদের দিয়ে স্থায়ী কাজে শ্রমিক নিয়োগ দিয়ে আসছে ব্রিটিশ অ্যামেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ?
শ্রমিকদের অভিযোগ, তারা যে পদগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন, সেসব পদে আগে বিএটির স্থায়ী জনবল নিয়োজিত ছিল। পরে অতিরিক্ত মুনাফার উদ্দেশ্যে এসব পদ ঠিকাদারি বা আউটসোর্সিং ব্যবস্থার আওতায় নিয়ে আসে কোম্পানিটি।
বিএটিতে প্রথম বাংলাদেশি ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পাওয়া শেহজাদ মুনীমের সময়ে এই ঠিকাদারি শ্রমিক নিয়োগ আরও বেড়ে যায় বলে অভিযোগ শ্রমিকদের। তাদের অভিযোগ, মুনাফা বৃদ্ধির কৌশল হিসেবে দেশে ও যুক্তরাজ্যের বিএটি গ্রুপ কোম্পানির কাছে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিতেই পদে পদে শ্রম আইন লঙ্ঘনের নজির রয়েছে শেহজাদ মুনীমের আমলে।
কোম্পানির জনবল কাঠামোর বাইরেই বিপুল শ্রমিক
বিএটি বাংলাদেশের ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোম্পানিটির মোট জনবল ১ হাজার ৬৮৫ জন। এর মধ্যে ১ হাজার ৪ জন বা প্রায় ৬০ শতাংশ শপফ্লোর কর্মী। এছাড়া রয়েছে ৩৬৬ জন জুনিয়র কর্মী, ২৩৬ জন মিড-লেভেলের কর্মী, ৭০ জন সিনিয়র কর্মী এবং ৯ জন টপ ম্যানেজমেন্ট কর্মী। অথচ কাগজে পত্রের দেয়া এই শ্রমিকের বাইরে সারা দেশে ৫ হাজারের বেশি ঠিকাদারী শ্রমিক কাজ করছে সিগারেট কোম্পানিটিতে। এমনকী তাদের সাভারে অবস্থিত সিগারেট কারখানায় হাজারের বেশি ঠিকাদারী শ্রমিক কাজ করে বছরজুড়ে। তাদেরকেও নায্য মজুরী বঞ্চিত করছে বছরের পর বছর।

এ কারণে শ্রমিক শোষণের অন্ধকার জগৎটা অনেক বড় সিগারেট কোম্পানিটিতে।কারণ কোম্পানির প্রকাশিত এই জনবল কাঠামোর বাইরে আরও বিপুলসংখ্যক শ্রমিক কোম্পানির কারখানা ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে কাজ করছেন কুষ্টিয়ার ১২টিসহ সারা দেশে ২০টির বেশি কারখানায়। এই সংখ্যা পাঁচ হাজারের বেশি। শ্রমিকদের দাবি, তাদের অনেকেই ১৫ থেকে ২০ বছর ধরে নিয়মিত ও স্থায়ী ধরনের কাজ করে আসছেন। কিন্তু ঠিকাদার বা তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়ায় তারা বিএটির মূল কর্মী কাঠামোর বাইরে রয়েছেন।
ফলে প্রশ্ন উঠছে যে প্রতিষ্ঠানের মোট কর্মীর প্রায় ৬০ শতাংশই Shopfloor Employees হিসেবে বার্ষিক প্রতিবেদনে স্বীকৃত, সেই প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা বিপুলসংখ্যক শ্রমিক কেন কোম্পানির প্রকাশিত জনবল কাঠামোর বাইরে? তবে কী কমিশন বাণিজ্য ও শ্রম অধিকার বঞ্চিত করতেই স্থায়ী কাজে ঠিকাদারী শ্রমিক নিয়োগ দিচ্ছে বিএটি?

আরও বড় প্রশ্ন হলো, কর্মক্ষেত্রে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও কর্মীদের অধিকার নিশ্চিত করার স্বীকৃতি হিসেবে যে প্রতিষ্ঠানটি টানা সাতবার ‘Top Employer’ অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে, সেই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বছরের পর বছর কাজ করা শ্রমিকদের একটি বড় অংশ যদি কর্মী হিসেবেই স্বীকৃতি না পান, তাহলে এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির সঙ্গে বাস্তব কর্মপরিবেশের সামঞ্জস্য কতটা?
স্থায়ী চাকরির দাবিতে আন্দোলনে বিএটির চার শতাধিক ফিল্ড টেকনিশিয়ান
শ্রম আইন প্রতিপালন ও স্থায়ী কর্মী হিসেবে স্বীকৃতির দাবিতে সম্প্রতি রংপুর, কুষ্টিয়া, মানিকগঞ্জ, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, চট্টগ্রামসহ বিএটির তামাক চাষ অঞ্চলগুলোতে মিছিল, সমাবেশ, মানববন্ধন ও অবস্থান ধর্মঘট করছেন চার শতাধিক ফিল্ড টেকনিশিয়ান।
১০ আগস্ট কুষ্টিয়া প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে ফিল্ড টেকনিশিয়ান ও অফিস স্টাফ শ্রমিক কল্যাণ ইউনিয়নের নেতারা জানান, কুষ্টিয়ার পাশাপাশি রংপুর, মানিকগঞ্জ, আল্লারদর্গা, চেচুয়া, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ, চট্টগ্রাম উত্তর ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ—এই আটটি লিফ রিজিয়নের শ্রমিকরা কর্মবিরতি পালন করছেন।

এর আগে ৭ জুন তারা সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে রিজিওনাল ম্যানেজারের কাছে লিখিত আবেদন করেন। পরে ১৮ জুন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের শ্রম ভবনে লিখিত আবেদন জমা দেন। এর অনুলিপি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছেও দেয় তারা।
শুনানির পর বদলি ও হয়রানির অভিযোগ
শ্রমিকদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ৩ আগস্ট রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে উচ্চপর্যায়ের একটি শুনানি হয়। শ্রমিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে বিএটির ডিএলএম, রিজিওনাল ম্যানেজারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও তাদের আইনজীবী এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমএসএম লজিস্টিকসের চেয়ারম্যান ও পরিচালক উপস্থিত ছিলেন। শ্রমিকদের দাবি, শুনানিতে আইনি যুক্তি তুলে ধরার পর মালিকপক্ষ শেষ পর্যন্ত স্বীকার করে নেয় যে, শ্রম আইনে সুযোগ থাকলে বা শ্রমিকরা আইনি অধিকার পেলে তাদের স্থায়ী করা হবে।
তবে শুনানির পরই প্রতিহিংসামূলক আচরণের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেন আন্দোলনরত ফিল্ড টেকনিশিয়ানরা। ভুক্তভোগী শ্রমিকদের দাবি, ইউনিয়নের ২০ জন নেতা ও সক্রিয় সদস্যকে আন্দোলনের মনোবল ভেঙে দেওয়ার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন দূরবর্তী রিজিয়নে বদলি করা হয়েছে। তারা এটিকে বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ১৯৫(ঘ) ধারায় বর্ণিত ‘অসৎ শ্রম আচরণ’ বা Unfair Labour Practice হিসেবে উল্লেখ করেন। এ ছাড়া ৩৮ জন ফিল্ড টেকনিশিয়ানের নামে মিরপুর থানায় হয়রানিমূলক সাধারণ ডায়েরি বা জিডি করার অভিযোগও করেন তারা।
১৭ দিনের কর্মবিরতির পরও সমাধান হয়নি
শ্রমিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব বদলি ও হুমকির প্রতিবাদে তারা প্রথম ধাপে সাত দিন এবং দ্বিতীয় ধাপে ১০ দিনসহ মোট ১৭ দিন শান্তিপূর্ণ কর্মবিরতি পালন করেন। এরপরও কার্যকর সমাধান না পাওয়ায় ৬ আগস্ট থেকে তৃতীয় ধাপে আরও ১০ দিনের পূর্ণাঙ্গ কর্মবিরতি শুরু করেন তারা।
শ্রমিকদের এক দফা দাবি—ঠিকাদারি বা মধ্যস্বত্বভোগী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নয়, সরাসরি বিএটির অধীনে তাদের চাকরি স্থায়ী করতে হবে। একই সঙ্গে চাকরিচ্যুতি, বেতন না দেওয়া এবং বিভিন্ন ধরনের হয়রানিমূলক হুমকি বন্ধ করার দাবিও জানিয়েছেন ফিল্ড টেকনেশিয়ান ও অফিস স্টাফরা।
দাবি মেনে নেওয়া না হলে দেশের সব রিজিয়নে অবরোধসহ আরও কঠোর কর্মসূচিতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শ্রমিকরা। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী, শ্রমমন্ত্রী, শ্রম সচিব ও কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসকের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
শীর্ষ কর্মীবান্ধবের পুরস্কার বনাম বাস্তবতা
একদিকে কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনার জন্য বিএটি বাংলাদেশ টানা সাতবার ‘Top Employer’ স্বীকৃতি পেয়েছে। অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানটির মাঠপর্যায়ের শ্রমিকরা দীর্ঘদিনের কাজের স্বীকৃতি, স্থায়ী চাকরি, চাকরির নিরাপত্তা এবং শ্রম আইন অনুযায়ী প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধার দাবিতে আন্দোলন করছেন।
এর আগেও বিএটির কুষ্টিয়ার জেএলটি কারখানায় কর্মরত মওসুমি শ্রমিকরা টানা ২২ দিন অবরোধ আন্দোলন করে জয়ী হয়েছেন। পরে বিএটি বাংলাদেশ জেএলটি কারখানায় মওসুমি শ্রমিকদের স্থায়ী কর্মী হিসেবে নিয়োগ দিতে বাধ্য হয়েছে।
শ্রমিকদের অভিযোগ অনুযায়ী, প্রশ্ন উঠতেই পারে—যে প্রতিষ্ঠান কর্মীদের জন্য ভালো কর্মপরিবেশ ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি টানা সাতবার পেয়েছে, সেই প্রতিষ্ঠানে বছরের পর বছর কাজ করা শ্রমিকদের কেন এখনো স্থায়ী কর্মী হিসেবে স্বীকৃতির জন্য আন্দোলনে নামতে হচ্ছে?
এই প্রশ্নের উত্তরই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ‘Top Employer’ স্বীকৃতির আলোয় বিএটি বাংলাদেশের কর্মক্ষেত্রের যে চিত্র তুলে ধরা হয়, মাঠপর্যায়ের শ্রমিকদের বাস্তব অভিজ্ঞতার সঙ্গে তার কতটা মিল রয়েছে? না কি শুভংকরের ফাঁকি? সব কোম্পানি বাংলাদেশের শ্রম আইন মানতে পারলে কেন ব্রিটিশ অ্যামেরিকান টোব্যাকো মানবে না? সরকারের কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর ও শ্রম অধিদপ্তরসহ শ্রম মন্ত্রণালয় বিষয়গুলো খতিয়ে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নেবে বলে বিশ্বাস করি।
লেখক : সুশান্ত সিনহা, জনস্বাস্থ্য গবেষক ও সাংবাদিক, sinhasmp@yahoo.com