ঢাকাবৃহস্পতিবার , ১৫ অক্টোবর ২০২৬
  1. সর্বশেষ
  2. লাইফস্টাইল

বিশ্বের শীর্ষ ৫০০ শহরের তালিকায় নেই বাংলাদেশের কোনো শহর

প্রতিবেদক
বিপ্লব হোসাইন
১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৪:০৮ বিকাল

Link Copied!

বিশ্বের শীর্ষ ৫০০ শহরের তালিকায় জায়গা হয়নি বাংলাদেশের কোনো শহরের। যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের ২০২৬ সালের গ্লোবাল সিটিজ ইনডেক্সে (Global Cities Index) বাংলাদেশের আটটি শহরের মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে রাজধানী ঢাকা। তবে গত বছরের তুলনায় ৩৩ ধাপ পিছিয়ে শহরটির অবস্থান এখন ৫১৫তম।

গত ১৬ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এ সূচকে বিশ্বের ১৬৩টি দেশের এক হাজার শহরকে মূল্যায়ন করা হয়েছে। অর্থনীতি, মানবসম্পদ, জীবনযাত্রার মান, পরিবেশ ও শাসনব্যবস্থা-এই পাঁচটি বিভাগের বিভিন্ন সূচকের ভিত্তিতে শহরগুলোর সামগ্রিক অবস্থান নির্ধারণ করা হয়েছে।

অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের মূল সূচক ও দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের ২২ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের আটটি শহরের কোনোটিই শীর্ষ ৫০০-এর মধ্যে নেই।

এক বছরে পিছিয়েছে ঢাকাসহ দেশের শহরগুলো

২০২৫ সালে গ্লোবাল সিটিজ ইনডেক্সে ঢাকার অবস্থান ছিল ৪৮২তম। এক বছরের ব্যবধানে ৩৩ ধাপ পিছিয়ে এবার শহরটির অবস্থান দাঁড়িয়েছে ৫১৫তম। বাংলাদেশের শহরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অবনতি হয়েছে রাজশাহীর। ৬৬ ধাপ পিছিয়ে শহরটির অবস্থান হয়েছে ৭৭৯তম। চট্টগ্রাম ১৪ ধাপ পিছিয়ে রয়েছে ৭৬৩তম স্থানে।

এ ছাড়া খুলনা ৮১১তম, সিলেট ৮৩৪তম, কুমিল্লা ৮৮৩তম, ময়মনসিংহ ৮৯৫তম এবং বগুড়া ৯২৬তম অবস্থানে রয়েছে। বগুড়া গত বছরের তুলনায় ৩২ ধাপ পিছিয়েছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশের শহরগুলোর মধ্যে কুমিল্লা আগের বছরের অবস্থান ধরে রেখেছে।

অর্থনীতি ও মানবসম্পদে তুলনামূলক ভালো ঢাকা

সামগ্রিক অবস্থান পিছিয়ে থাকলেও কয়েকটি বিভাগে ঢাকার পারফরম্যান্স তুলনামূলক ভালো। অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের মূল সূচক অনুযায়ী, অর্থনৈতিক বিভাগে বিশ্বে ঢাকার অবস্থান ২৮৬তম এবং মানবসম্পদ বিভাগে ১৭৮তম।

অর্থনৈতিক বিভাগে শহরগুলোর অর্থনীতির আকার ও প্রবৃদ্ধি, মাথাপিছু জিডিপি, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক বৈচিত্র্যের মতো বিষয় বিবেচনা করা হয়। অন্যদিকে, মানবসম্পদ বিভাগে শিক্ষা, দক্ষ জনশক্তি এবং শ্রমবাজার-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পায়।

বাংলাদেশের অন্য শহরগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক বিভাগে চট্টগ্রাম ৭০২তম এবং ময়মনসিংহ ৭৩৪তম স্থানে রয়েছে। মানবসম্পদ বিভাগে ঢাকার পর খুলনা ৫৪১তম এবং রাজশাহী ৫৯৯তম অবস্থানে রয়েছে।

জীবনযাত্রার মানের বিভাগে বাংলাদেশের শহরগুলোর মধ্যে এগিয়ে রয়েছে রাজশাহী। এ বিভাগে শহরটির অবস্থান ৫৪২তম। এরপর খুলনা ৬১২তম এবং চট্টগ্রাম ৬৫৩তম স্থানে রয়েছে। মানুষের স্বাস্থ্য ও সামগ্রিক জীবনমান এবং নাগরিক সুবিধা পাওয়ার সুযোগের মতো বিষয় এ বিভাগে বিবেচিত হয়।

পরিবেশ ও শাসনব্যবস্থায় দুর্বলতা

বাংলাদেশের শহরগুলোর সামগ্রিক অবস্থানের ক্ষেত্রে পরিবেশ ও শাসনব্যবস্থার দুর্বলতা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিবেশগত বিভাগে বাংলাদেশের আটটি শহরের মধ্যে সিলেট সবচেয়ে এগিয়ে, যার অবস্থান ৭৩৫তম। অন্য শহরগুলোর অবস্থান এ বিভাগে ৮০০তমের পরে।

শাসনব্যবস্থার বিভাগে বাংলাদেশের আটটি শহরই ৯০৩তম অবস্থানে রয়েছে। কারণ, এ ক্ষেত্রে শহরভিত্তিক পৃথক তথ্যের পরিবর্তে জাতীয় পর্যায়ের মূল্যায়ন ব্যবহার করা হয়েছে। এ বিভাগে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, আইনের শাসন, নিয়ন্ত্রক মান এবং সরকারি কার্যকারিতার মতো বিষয় বিবেচনা করা হয়।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক এবং ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক আদিল মোহাম্মদ খান দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, বায়ু, পানি ও মাটির মানের মতো পরিমাপযোগ্য পরিবেশগত সূচকে বাংলাদেশের অবস্থা দুর্বল। তাঁর মতে, দূষণ শুধু ঢাকায় সীমাবদ্ধ নয়; দেশের অন্যান্য শহর ও গ্রামাঞ্চলেও এর প্রভাব রয়েছে।

চট্টগ্রামের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, গত ১০ থেকে ১৫ বছরে শহরটিতে দূষণ বেড়েছে এবং নগর তাপদ্বীপের প্রভাবও দেখা যাচ্ছে। তাঁর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ফ্লাইওভারের মতো অবকাঠামো নির্মাণ শহরের বাসযোগ্যতা ও পরিবেশগত মান উন্নয়নে প্রত্যাশিত ভূমিকা রাখতে পারেনি।

বিশ্বসেরা শহরের তালিকায় কারা এগিয়ে

২০২৬ সালের গ্লোবাল সিটিজ ইনডেক্সে বিশ্বের শীর্ষ তিন শহর হলো যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক, যুক্তরাজ্যের লন্ডন এবং ফ্রান্সের প্যারিস। চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে রয়েছে যথাক্রমে যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটল ও সান ফ্রান্সিসকো।

অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, নিউইয়র্ক ও লন্ডনের বড় অর্থনীতি এবং শক্তিশালী শ্রমবাজার তাদের শীর্ষস্থান ধরে রাখতে সহায়তা করেছে। অন্যদিকে, জীবনযাত্রার মানের সূচকে ভালো পারফরম্যান্স প্যারিসকে এগিয়ে রেখেছে।

দক্ষিণ এশিয়ার শহরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে ভারতের দিল্লি, যার অবস্থান ২৬৮তম। এরপর বেঙ্গালুরু ৩১১তম, মুম্বাই ৩৩০তম, চেন্নাই ৩৮১তম এবং হায়দরাবাদ ৪২১তম স্থানে রয়েছে। আঞ্চলিক তালিকায় ঢাকার অবস্থান ১৩তম।

নগর উন্নয়নে সমন্বিত পরিকল্পনার প্রয়োজন

গ্লোবাল সিটিজ ইনডেক্সের ফলাফল বাংলাদেশের নগর উন্নয়ন পরিকল্পনার ক্ষেত্রে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এনেছে। শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বা অবকাঠামো নির্মাণ নয়, একটি শহরের সামগ্রিক অবস্থান উন্নত করতে পরিবেশের মান, নাগরিকদের জীবনযাত্রা এবং কার্যকর শাসনব্যবস্থারও উন্নয়ন প্রয়োজন।

বিশেষ করে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ, জলাশয় ও সবুজ এলাকা সংরক্ষণ, পরিকল্পিত আবাসন, উন্নত গণপরিবহন এবং নাগরিক সেবার মান বাড়ানোর মতো বিষয়গুলো দীর্ঘমেয়াদি নগর পরিকল্পনায় গুরুত্ব পাওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং শহর পরিচালনায় কার্যকর প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলাও গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশের শহরগুলোকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে এগিয়ে নিতে হলে অর্থনৈতিক সক্ষমতার পাশাপাশি বাসযোগ্যতা ও পরিবেশগত স্থিতিশীলতার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের সূচক দেখাচ্ছে, একটি শহরের সামগ্রিক অবস্থান নির্ধারণে অর্থনীতি, মানবসম্পদ, জীবনযাত্রার মান, পরিবেশ ও শাসনব্যবস্থার সম্মিলিত ভূমিকা রয়েছে।

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

কৃষিকে লাভজনক খাতে পরিণত করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

জলবায়ু পরিবর্তনে বাড়তে পারে অর্থনৈতিক চাপ: পরিবেশমন্ত্রী

বিশ্ববাজারে কমল জ্বালানি তেলের দাম

যুক্তরাষ্ট্রে বিমান বিধ্বস্ত, শিশুসহ ৬ আরোহী নিহত

ইসরায়েলগামী বিমানে বাংলাদেশের পাইলটদের নিষিদ্ধ করল এয়ার ফ্রান্স!

তিন বিভাগে বৃষ্টির সম্ভাবনা, কমতে পারে রাতের তাপমাত্রা

বিমানবন্দর ও রেলপথে চোরাচালান, কোটি টাকার পণ্য জব্দ

আদাবরে স্বল্প পরিসরে সবুজায়ন কর্মসূচি

স্বাস্থ্যসচেতনতা ও মূল্যস্ফীতিতে ৫ বছরে চিনির ব্যবহার কমেছে ৩৩%

চলতি মাসেই কমলাপুরসহ চার স্টেশনে মেট্রোরেলের ইউটিলিটি স্থানান্তর শুরু

২০৫০ সালের মধ্যে তুলা উৎপাদন ১৯ লাখ বেলে উন্নীত করার পরিকল্পনা সরকারের

জলবায়ুর রোষে অস্তিত্ব সংকটে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন