
যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের সাউক জেলায় একটি ছোট যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত হয়ে শিশুসহ ছয় আরোহীর সবাই নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে রীডসবার্গ শহরের কাছে ঘন বনাঞ্চলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সাউক জেলা শেরিফের দপ্তরের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। খবর এবিসি নিউজের।
শেরিফের দপ্তর জানায়, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও জরুরি সেবাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তল্লাশি শুরু করেন। পরে বিধ্বস্ত বিমানটি শনাক্ত করা হয়। উড়োজাহাজটিতে পাঁচজন প্রাপ্তবয়স্ক ও একটি শিশু ছিল। বিমানটি উইসকনসিনের কেনোশা শহর থেকে মেনোমোনির দিকে ফিরছিল।
বনাঞ্চলে তল্লাশি চালিয়ে ছয় আরোহীর সবাইকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তদন্তের স্বার্থে নিহতদের নাম-পরিচয় আপাতত প্রকাশ করেনি শেরিফের দপ্তর।
কর্মকর্তারা জানান, দুর্ঘটনার আগে বিমানটি কাছাকাছি কোনো এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল টাওয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। ওই যোগাযোগে কী বলা হয়েছিল এবং আবহাওয়াসংক্রান্ত কোনো পরিস্থিতি দুর্ঘটনায় ভূমিকা রেখেছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) জানিয়েছে, বিধ্বস্ত বিমানটি ছিল পাইপার পিএ-৪৬ মডেলের।
ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ডের (এনটিএসবি) প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, বিমানটি ২৪ হাজার ফুট উচ্চতায় ওড়ার সময় পাইলট বরফ জমার (আইসিং) কথা জানান এবং নিচে নামার অনুমতি চান। এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল অনুমতি দেওয়ার পর বিমানটি ডান দিকে মোড় নিয়ে নিচে নামতে শুরু করে। একপর্যায়ে এর নামার গতি বেড়ে যায়। পরে বিমানটির সঙ্গে যোগাযোগ ও ডেটা ট্র্যাকিং বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
এনটিএসবি জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি অনুসন্ধানে তদন্তকারীরা ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন। আগামী ৩০ দিনের মধ্যে দুর্ঘটনার একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।