
নেপালে ভয়াবহ বন্যার ১০ দিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ৬৪ বছরের এক বৃদ্ধাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) নুওয়াকোট জেলার একটি ধসে পড়া বাড়ির ধ্বংসস্তূপ থেকে চান্দিকা কুমারী শ্রেষ্ঠাকে উদ্ধার করে নিরাপত্তা বাহিনী।
বৃদ্ধার পরিবারের সদস্যরা যখন তার শেষকৃত্যের আয়োজন করছিলেন, ঠিক তখনই ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে তাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় বিস্মিত হয়েছেন উদ্ধারকাজে নিয়োজিত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও।
গত ২৬ আগস্ট হড়পা বানের পর চারতলা বাড়িটির নিচের তিনটি তলা মাটির নিচে চাপা পড়ে যায়। কাদামাটির স্তূপে বাড়িটির চতুর্থ তলারও একটি অংশ ঢেকে যায়। সেখানেই আটকা পড়েছিলেন চান্দিকা।
শনিবার ওই এলাকায় রাস্তা তৈরির জন্য মাটি সরানোর কাজ করছিলেন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। বাড়িটির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে ক্ষীণ শব্দ শুনতে পান তারা। এরপর সন্দেহ হওয়ায় কাদা ও মাটি সরিয়ে তল্লাশি শুরু করেন উদ্ধারকারীরা।
নেপাল পুলিশ জানিয়েছে, এর আগে ওই বাড়িতে তল্লাশি চালানো হলেও কাউকে পাওয়া যায়নি। এলাকায় আর কেউ জীবিত নেই—এমন ধারণা থেকেই রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছিল। কিন্তু শনিবার হঠাৎ ক্ষীণ শব্দ পাওয়ার পর পুরো পরিস্থিতি বদলে যায়।
উদ্ধারকারীরা বাড়িটির চতুর্থ তলার একটি জানলা ভেঙে হামাগুড়ি দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেন। এরপর বৃদ্ধার গলার স্বর আরও স্পষ্টভাবে শুনতে পান তারা। পরে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে তাকে নিরাপদে বের করে আনা হয়।
উদ্ধারের পর গুরুতর অবস্থায় চান্দিকা কুমারী শ্রেষ্ঠাকে নেপালি সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারে করে রাজধানী কাঠমান্ডুতে নেওয়া হয়েছে। সেখানে তার চিকিৎসা চলছে।
এদিকে, ওই বিপর্যয়ের পর থেকে বৃদ্ধার পরিবারের কয়েকজন সদস্য নিখোঁজ রয়েছেন। পরিবারের জীবিত সদস্যরা তাকে আর বেঁচে নেই ধরে নিয়ে শেষকৃত্যের আয়োজনও করে ফেলেছিলেন। কিন্তু ১০ দিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে তার জীবিত উদ্ধারের ঘটনা স্বজনদের পাশাপাশি উদ্ধারকারীদের কাছেও অবিশ্বাস্য হয়ে উঠেছে।
সূত্র: বিবিসি