
বলিভিয়ার মধ্যাঞ্চলীয় শহর কোচাবাম্বায় ডিজেলের দাম দ্বিগুণ করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন কয়েকশ কোকা চাষি ও সাবেক প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেসের সমর্থকরা।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) শহরটিতে এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয় বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
বিক্ষোভকারীদের বেশিরভাগই ছিলেন আদিবাসী। তারা কেন্দ্র-ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট রড্রিগো পাজের জারি করা একটি ডিক্রি বাতিলের দাবি জানান। ওই ডিক্রির আওতায় কৃষকসহ বেশি পরিমাণে ডিজেল কেনা ভোক্তাদের জন্য প্রতি লিটারের দাম ৮০ সেন্ট থেকে বাড়িয়ে ১ ডলার ৫০ সেন্ট করা হয়েছে।
সরকারের দাবি, অন্যান্য দেশে জ্বালানি পাচার বন্ধ করতেই ডিজেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। জ্বালানি পাচারের কারণে দেশটিতে চলমান সংকট আরও তীব্র হচ্ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বিক্ষোভের সময় এক বিক্ষোভকারী দড়ি দিয়ে একটি ট্রাক্টর টানতে টানতে ‘ডিজেল নেই, ডিজেল নেই’ বলে স্লোগান দেন।
৪০ বছর বয়সী কৃষক এলেনা আইনে বলেন, ডিজেলের দাম বাড়ানোর কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের খরচও ব্যাপকভাবে বেড়ে যাচ্ছে।
জুনে কয়েক সপ্তাহের ব্যাপক সরকারবিরোধী বিক্ষোভের পর প্রেসিডেন্ট রড্রিগো পাজ জরুরি অবস্থা জারি করেছিলেন। ওই জরুরি অবস্থার আওতায় এ ধরনের সমাবেশ নিষিদ্ধ থাকলেও শুক্রবারের বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করেনি পুলিশ।
এর আগে বুধবার ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য সহায়তার ঘোষণা দেয় সরকার। এতে তারা প্রতি মাসে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৫০০ লিটার ডিজেল আগের দামেই কিনতে পারবেন। অর্থাৎ প্রতি লিটার ৮০ সেন্ট দামে জ্বালানি কেনার সুযোগ পাবেন তারা। তবে সরকারের এই ছাড়েও বিক্ষোভকারীরা সন্তুষ্ট হননি।
গত বছর চার দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে বলিভিয়ার ক্ষমতায় আসেন পাজ। তখন দেশটিতে জ্বালানি ও মার্কিন ডলারের তীব্র সংকট চলছিল। ক্ষমতায় এসে তার নেওয়া প্রথম দিকের পদক্ষেপগুলোর একটি ছিল বিদায়ী সমাজতান্ত্রিক সরকারের চালু করা জ্বালানি ভর্তুকি বাতিল করা। দীর্ঘদিনের ওই ভর্তুকির কারণে দেশটির বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ তৈরি হয়েছিল বলে জানায় সরকার।
তবে ভর্তুকি বাতিলের পরও দেশটির কিছু এলাকায় পেট্রল পাম্পে জ্বালানির জন্য অপেক্ষমাণ যানবাহনের সারি কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত দীর্ঘ হচ্ছে।
বলিভিয়ার প্রথম আদিবাসী প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেস ২০০৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত দেশটির নেতৃত্ব দেন। তিনি বর্তমান প্রেসিডেন্ট রড্রিগো পাজের অন্যতম কট্টর সমালোচক।
শুক্রবার রেড আমেরিকা টেলিভিশন নেটওয়ার্ককে মোরালেস বলেন, ‘এই সরকারের ভবিষ্যৎ খুব বেশি দিন নেই। রাজনীতিবিদ হিসেবে রড্রিগো পাজের ভবিষ্যৎ আরও কম।’
সূত্র: এএফপি