
টানা বর্ষণে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। রাস্তায় হাঁটুপানি জমে অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ নাগরিককে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে। একই সময়ে দেশের সাত জেলায় বন্যা, পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫১ জনে।
রোববার সকালে রাজধানীর মিরপুর, ধানমন্ডি, পান্থপথ, কাকরাইল, শান্তিনগর, আরামবাগ, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, বনানীসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়ক ও অলিগলিতে হাঁটুপানি জমে যায়। অনেক জায়গায় যানবাহন সংকট দেখা দেয়, কোথাও কোথাও ব্যক্তিগত গাড়ি বিকল হয়ে পড়ে।
মিরপুরের পীরেরবাগ এলাকার বাসিন্দা ও বেসরকারি চাকরিজীবী আফসানা করিম জানান, সকাল সাড়ে ৭টা থেকে রিকশার অপেক্ষা করেও দীর্ঘ সময় কোনো যানবাহন পাননি। প্রায় দুই ঘণ্টা অপেক্ষার পর একটি রিকশায় প্রধান সড়কে গিয়ে পরে দ্বিগুণ ভাড়া দিয়ে সিএনজিতে অফিসে পৌঁছান। তিনি বলেন, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও পানি নিষ্কাশনের দুর্বলতার কারণেই সামান্য বৃষ্টিতেই রাজধানীতে এমন ভোগান্তি তৈরি হচ্ছে।
অন্যদিকে মিরপুর-১০ এলাকায় সড়কে জমে থাকা পানিতে একটি ব্যক্তিগত গাড়ির ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। ধানমন্ডির একটি সড়কে গাছ পড়ে সাময়িকভাবে যান চলাচলও বন্ধ হয়ে যায়।
এদিকে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে রাজধানীর কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রোববারের পরীক্ষা স্থগিত করেছে। ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মনিপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং ওয়াইডব্লিউসিএ স্কুল কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন শ্রেণির পরীক্ষা স্থগিতের ঘোষণা দেয়।
চলমান বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন সব জেলার ১৩, ১৫ ও ১৬ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য এইচএসসি, আলিম, এইচএসসি (বিএম), এইচএসসি (ভোকেশনাল) এবং ডিপ্লোমা ইন কমার্স পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। তবে চট্টগ্রাম বোর্ড ছাড়া অন্য কোনো শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিত হয়নি বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, টানা বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসে খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ-এই সাত জেলা বন্যাকবলিত হয়েছে। এসব জেলায় ১০ লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত এবং প্রায় ২ লাখ ৬৭ হাজার পরিবার পানিবন্দি রয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ হিসাবে বান্দরবান, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে মোট ৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে কক্সবাজারে ভূমিধসে ২৮ জন, চট্টগ্রামে ১৩ জন এবং বান্দরবানে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছেন ৩৯ জন। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ১ হাজার ১৩১টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৪৪ হাজার ৪৫৭ জন আশ্রয় নিয়েছেন।
এদিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথের শমসেরপাড়া এলাকায় রেললাইন পানির নিচে তলিয়ে থাকায় টানা ছয় দিন ধরে ওই রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে দেশের অন্য সব রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আগামী পাঁচ দিনও দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। ঢাকা, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, খুলনা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের আশঙ্কা রয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, বর্তমানে পাঁচটি জেলার তিনটি নদীর পানি পাঁচটি পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় সিলেট, চট্টগ্রাম, ফেনী, নেত্রকোণা, শেরপুর, ময়মনসিংহ, রংপুর ও আশপাশের কয়েকটি জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।