
ঘণ্টায় প্রায় ২৯০ কিলোমিটার গতিবেগ নিয়ে চীনের উপকূলে আঘাত হেনেছে সুপার টাইফুন বাভি। এক সপ্তাহের ব্যবধানে এটি দেশটিতে আঘাত হানা দ্বিতীয় টাইফুন। ঝড়ের প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চল থেকে প্রায় ২০ লাখ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
রোববার (১২ জুলাই) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার (১১ জুলাই) সন্ধ্যায় টাইফুনটি প্রথমে উপকূলীয় শহর তাইঝৌতে আঘাত হানে। পরে মধ্যরাতে এটি ওয়েনঝৌ শহরে প্রবল তাণ্ডব চালায়।
এর আগে জাপানের কয়েকটি প্রত্যন্ত দ্বীপে আঘাত হানার পর টাইফুনটি তাইওয়ানের উত্তর প্রান্ত ঘেঁষে অগ্রসর হয়। এতে জাপান ও তাইওয়ানের বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত হয়। এদিকে ঝড়ের প্রভাবে সৃষ্ট ভূমিধসে ফিলিপাইনে অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।
চীনের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোববার পূর্বাঞ্চলের ঝেজিয়াং ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ফুজিয়ান প্রদেশে বাভির প্রভাবে অস্বাভাবিক ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। সম্ভাব্য দুর্যোগের আশঙ্কায় স্থানীয় বাসিন্দাদের আগেই নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শুধু ঝেজিয়াং প্রদেশ থেকেই ১৭ লাখের বেশি মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী প্রদেশগুলো থেকেও হাজার হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে নেওয়া হয়েছে।
দুর্যোগের কারণে ঝেজিয়াং প্রদেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় ৪০০টি ফ্লাইট বাতিল এবং কয়েক ডজন ট্রেন চলাচল স্থগিত করা হয়েছে।
গত সোমবার সুপার টাইফুন বাভি প্রথমে ঘণ্টায় ২৯০ কিলোমিটার গতিবেগ নিয়ে গুয়াম ও উত্তর মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জে আঘাত হানে। পরে প্রশান্ত মহাসাগরের ওপর দিয়ে অগ্রসর হওয়ার সময় এর বাতাসের গতি কমে ঘণ্টায় ১৪৪ কিলোমিটারে নেমে আসে। এরপর এটি জাপানের মূল ভূখণ্ড ও তাইওয়ানের মধ্যবর্তী রিউকিউ দ্বীপপুঞ্জের সাকিশিমা অঞ্চলের ওপর দিয়ে চীনের দিকে অগ্রসর হয়।