
মৌলভীবাজারে কনকনে শীত আর কুয়াশার সঙ্গে যোগ হয়েছে হিমেল হাওয়া। জেলার সীমান্তবর্তী ও পাহাড়ি এলাকায় তীব্র শীতে নেমে গেছে জনজীবন। বিশেষ করে নিন্মআয়ের মানুষ ও চা-শ্রমিক পরিবারগুলো শীতের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকাল ৬টায় শ্রীমঙ্গলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। হিমেল হাওয়া ও ঘন কুয়াশার কারণে সকাল থেকে শহর-গ্রামজুড়ে মানুষ হাড় কাঁপানো শীতে ভুগছেন।
জেলার ৯২টি চা-বাগানের শিশু ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি কষ্টে রয়েছেন। হাওরপাড়ের মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়ছে খোলা এলাকায় শীতের সরাসরি আঘাতের কারণে। শহরাঞ্চলেও নিম্নআয়ের শ্রমজীবী মানুষ জীবিকার তাগিদে শীত উপেক্ষা করে ভোরে কাজে বের হচ্ছেন। অনেকে রাতেই খড়কুটো জ্বালিয়ে গরম থাকার চেষ্টা করছেন।
চা-শ্রমিক উর্মিলা উড়াং বলেন, “অনেক শীত পড়েছে। বাচ্চাদের নিয়ে দিন কাটানো কঠিন। সরকারি সাহায্য না হলে চলা মুশকিল।” একই সঙ্গে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছাদু মিয়া জানিয়েছেন, জেলায় ইতোমধ্যে পাঁচ হাজার গরিব অসহায় মানুষের মধ্যে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে আরও কম্বল পৌঁছে দেওয়া হবে।
শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের পর্যবেক্ষক মুজিবুর রহমান জানান, “আজ থেকে জেলায় শীত পুরোপুরি শুরু হয়েছে। চলতি সপ্তাহে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে।”
শীতের দাপটে মৌলভীবাজারে সাধারণ মানুষ, চা-শ্রমিক ও শিশু-বৃদ্ধ সবাই কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ ছাড়া তাদের দুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।