
ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জাটকা সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারি ও অভিযান জোরদারের পাশাপাশি দরিদ্র জেলেদের জন্য বিকল্প আয় ও অতিরিক্ত সহায়তার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার সময় ক্ষতিগ্রস্ত জেলেদের আর্থিক সহায়তা বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও কৃষি মন্ত্রণালয়।
মঙ্গলবার (৯ জুন) জাতীয় সংসদে এক জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশের জবাবে মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও কৃষি মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য জাটকা ধরা সম্পূর্ণ বন্ধ করে ইলিশের প্রাকৃতিক উৎপাদন বৃদ্ধি করা। তবে দারিদ্র্যের কারণে অনেক জেলে নিষেধাজ্ঞার সময়ও জাটকা ধরতে বাধ্য হন।
তিনি জানান, জেলেদের মাছ ধরার ওপর নির্ভরতা কমাতে বিকল্প আয়বর্ধক প্রকল্প এবং প্রাণিসম্পদভিত্তিক কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে ‘দাদন’ ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি করা হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, নভেম্বর থেকে জুন পর্যন্ত নিষিদ্ধ সময়কে কেন্দ্র করে সহায়তা কর্মসূচি আরও সম্প্রসারণ করা হবে, যাতে জেলেরা আর্থিক সংকটে পড়ে অবৈধভাবে জাটকা আহরণে না জড়ান।
জাটকা সংরক্ষণে চাঁদপুর, বরিশালসহ ইলিশ উৎপাদনকারী অঞ্চল এবং পদ্মা-মেঘনা নদীতে নিয়মিত অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি মাছঘাট, আড়ত ও অবতরণ কেন্দ্রগুলোতেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চাঁদপুর ও বরিশালে ১৬৩টি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ২ হাজার ৩৩টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ জাল জব্দ ও ধ্বংস করা হয়, ১৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয় এবং ২১৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় ১ লাখ ৬৭ হাজার জেলে পরিবারকে মাথাপিছু ৪০ কেজি করে মোট ৫৮ হাজার ৭২০ টন খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
সংসদে এ বিষয়ে কঠোর নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়ে বলা হয়, জাটকা সংরক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে দেশে ইলিশের উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে।