ঢাকাসোমবার , ২৭ জুলাই ২০২৬
  1. সর্বশেষ
  2. প্রবাসীর কথা
  3. জীবন বীমা ও ব্যাংক

আমিরাতে বাধ্যতামূলক স্বাস্থ্যবীমা, প্রবাসীদের কী বদলাচ্ছে?

প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৭ জুলাই ২০২৬, ১:০৪ বিকাল

Link Copied!

সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) হঠাৎ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলে চিকিৎসার খরচ কয়েক হাজার দিরহাম ছাড়িয়ে যেতে পারে। বড় অস্ত্রোপচার বা জটিল রোগের চিকিৎসায় এই ব্যয় আরও বাড়ে। ফলে স্বাস্থ্যবীমা না থাকলে চিকিৎসার পুরো খরচ নিজের পকেট থেকে বহন করা অনেক প্রবাসী কর্মীর জন্য বড় আর্থিক চাপ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

এই ঝুঁকি কমাতে ইউএই ধাপে ধাপে বাধ্যতামূলক স্বাস্থ্যবীমা ব্যবস্থা সম্প্রসারিত করেছে। ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে বেসরকারি খাতের কর্মী ও গৃহকর্মীদের জন্য সাতটি আমিরাতেই স্বাস্থ্যবীমা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নতুন নিয়মে রেসিডেন্স পারমিট ইস্যু বা নবায়নের আবেদন করার ক্ষেত্রেও কর্মীর স্বাস্থ্যবীমা থাকা গুরুত্বপূর্ণ শর্তে পরিণত হয়েছে।

প্রবাসীদের জন্য কী বদলেছে?

নতুন ব্যবস্থায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের স্বাস্থ্যবীমা নিশ্চিত করার দায়িত্ব মূলত নিয়োগকর্তার। ফুলটাইম, পার্টটাইম বা চুক্তিভিত্তিক কর্মীসহ নির্দিষ্ট আওতাভুক্ত কর্মীদের জন্য বীমা করতে হবে। গৃহকর্মীদের ক্ষেত্রেও নিয়োগকর্তার স্বাস্থ্যসেবা বা স্বাস্থ্যবীমা নিশ্চিত করার দায়িত্ব রয়েছে।

তবে সব প্রবাসীর ক্ষেত্রে একই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। যারা নিজেরাই নিজেদের ভিসার স্পন্সর—যেমন কিছু বিনিয়োগকারী, ফ্রিল্যান্সার বা স্ব-স্পন্সর বাসিন্দা—তাদের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবীমার ব্যবস্থা নিজেদের করতে হতে পারে। পরিবারের সদস্যদের জন্যও সংশ্লিষ্ট আমিরাত ও ভিসার ধরন অনুযায়ী আলাদা বীমা প্রয়োজন হতে পারে।

আবুধাবিতে নিয়োগকর্তার দায়িত্বের আওতায় কর্মীর পাশাপাশি একজন স্ত্রী ও ১৮ বছরের কম বয়সী সর্বোচ্চ তিন সন্তানকে স্বাস্থ্যবীমার আওতায় রাখার নিয়ম রয়েছে। অন্যদিকে দুবাইয়ে নিয়োগকর্তার কর্মীর বীমা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নির্ভরশীলদের বীমার দায়িত্ব স্পন্সরের ওপর থাকে।

বছরে ৩২০ দিরহামের বেসিক প্যাকেজ

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বেসিক স্বাস্থ্যবীমা প্যাকেজের বার্ষিক প্রিমিয়াম ৩২০ দিরহাম। পলিসিটির মেয়াদ দুই বছর। তবে ভিসা বাতিল হলে দ্বিতীয় বছরের প্রিমিয়াম ফেরত পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। ১ থেকে ৬৪ বছর বয়সী ব্যক্তিদের জন্য এই প্যাকেজ প্রযোজ্য; ৬৪ বছরের বেশি বয়সীদের অতিরিক্ত মেডিকেল তথ্য দিতে হয়।

এই বেসিক প্যাকেজে দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত কর্মীদের জন্য কোনো অপেক্ষার সময় নেই। ফলে ডায়াবেটিস বা অন্যান্য দীর্ঘস্থায়ী রোগ থাকা কর্মীরাও নির্ধারিত সুবিধা পেতে পারেন।

কী কী চিকিৎসা সুবিধা পাওয়া যাবে?

বেসিক স্বাস্থ্যবীমার আওতায় চিকিৎসা সুবিধা থাকলেও সব চিকিৎসা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে নয়। হাসপাতালে ভর্তি হলে ২০ শতাংশ কো-পেমেন্টের নিয়ম রয়েছে। প্রতি ভিজিটে সর্বোচ্চ ৫০০ দিরহাম এবং বছরে ওষুধসহ কো-পেমেন্টের সর্বোচ্চ সীমা ১ হাজার দিরহাম নির্ধারিত রয়েছে।

বহির্বিভাগের চিকিৎসায় কো-পেমেন্ট ২৫ শতাংশ, যেখানে প্রতি ভিজিটে সর্বোচ্চ ১০০ দিরহাম পর্যন্ত দিতে হয়। একই সমস্যার জন্য সাত দিনের মধ্যে ফলোআপ ভিজিটে কো-পেমেন্ট নেই। ওষুধের ক্ষেত্রে কো-পেমেন্ট সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ এবং বছরে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৫০০ দিরহাম পর্যন্ত।

তবে এসব সুবিধা নির্ধারিত বীমা নেটওয়ার্কের মধ্যে প্রযোজ্য। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বেসিক প্যাকেজের নেটওয়ার্কে হাসপাতাল, ক্লিনিক, মেডিকেল সেন্টার ও ফার্মেসি রয়েছে। তাই চিকিৎসা নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটি বীমা নেটওয়ার্কের আওতায় আছে কি না যাচাই করা জরুরি।

ভিসার সঙ্গেও বীমার সম্পর্ক

নতুন ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো—স্বাস্থ্যবীমা এখন শুধু চিকিৎসার খরচ কমানোর উপায় নয়, বরং নির্দিষ্ট কর্মী ও গৃহকর্মীদের রেসিডেন্স পারমিট ইস্যু বা নবায়নের প্রক্রিয়ার সঙ্গেও যুক্ত।

ইউএই সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি ২০২৫ থেকে বেসরকারি খাতের কর্মী ও গৃহকর্মীদের রেসিডেন্স পারমিট ইস্যু বা নবায়নের আবেদন করার সময় নিয়োগকর্তাকে স্বাস্থ্যবীমা পলিসি কিনতে হয়। ২০২৫ সালের আগে ইস্যু হওয়া বৈধ ওয়ার্ক রেসিডেন্সের ক্ষেত্রে কিছু ছাড় থাকলেও রেসিডেন্স নবায়নের সময় এই বাধ্যবাধকতা কার্যকর হয়।

ফলে প্রবাসীদের জন্য স্বাস্থ্যবীমা এখন শুধু অসুস্থতার সময় আর্থিক সুরক্ষা নয়; বৈধভাবে কাজ ও বসবাসের প্রশাসনিক প্রক্রিয়ারও গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

নিয়োগকর্তার দায়িত্ব কী?

বেসরকারি খাতের কর্মীর জন্য স্বাস্থ্যবীমা নিশ্চিত করা নিয়োগকর্তার দায়িত্ব। ফলে কোনো কর্মীকে নিজের বেতন থেকে বাধ্যতামূলকভাবে বীমার প্রিমিয়াম দিতে বলা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নিয়ম ও চুক্তির বিষয়টি যাচাই করতে পারেন।

গৃহকর্মীদের ক্ষেত্রেও নিয়োগকর্তাকে চিকিৎসা সেবা বা স্বাস্থ্যবীমা নিশ্চিত করতে হয়।

তবে স্বাস্থ্যবীমা না থাকা বা পলিসিতে বিরতি তৈরি হলে রেসিডেন্স পারমিট ইস্যু বা নবায়নের প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই প্রবাসীদের নিজেদের বীমা পলিসির মেয়াদ ও কভারেজ সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি।

প্রবাসীদের জন্য সুবিধা কোথায়?

বাধ্যতামূলক স্বাস্থ্যবীমার ফলে সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো হঠাৎ অসুস্থতা বা দুর্ঘটনার সময় চিকিৎসার পুরো খরচ একবারে বহন করার ঝুঁকি কমে আসা। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের কর্মীদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ।

নিয়মিত চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ বাড়লে ছোটখাটো স্বাস্থ্য সমস্যা সময়মতো শনাক্ত ও চিকিৎসা করা সম্ভব হতে পারে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত কর্মীরাও নির্ধারিত সুবিধার আওতায় চিকিৎসা নিতে পারবেন।

তবে বীমা থাকলেই সব চিকিৎসা বিনামূল্যে হবে—এমন ধারণা ঠিক নয়। কোন চিকিৎসা কভার করবে, কত শতাংশ কো-পেমেন্ট দিতে হবে, কোন হাসপাতাল বা ক্লিনিকে চিকিৎসা নেওয়া যাবে এবং কোন সেবাগুলো প্যাকেজের বাইরে—এসব বিষয় পলিসি নেওয়ার আগে জেনে নেওয়া জরুরি।

প্রবাসীদের এখন যা খেয়াল রাখা দরকার

ইউএইতে কর্মরত প্রবাসীদের জন্য স্বাস্থ্যবীমা এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই—

নিজের স্বাস্থ্যবীমা সক্রিয় আছে কি না যাচাই করুন।
পলিসির মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ জেনে রাখুন।
চিকিৎসা নেওয়ার আগে হাসপাতাল বা ক্লিনিকটি বীমা নেটওয়ার্কের আওতায় আছে কি না দেখুন।
কো-পেমেন্ট ও বার্ষিক সীমা সম্পর্কে ধারণা রাখুন।
পরিবারের সদস্যদের জন্য আলাদা বীমা প্রয়োজন কি না যাচাই করুন।
ভিসা নবায়নের আগে স্বাস্থ্যবীমার কাগজপত্র ঠিক আছে কি না নিশ্চিত করুন।

সব মিলিয়ে, ইউএইর বাধ্যতামূলক স্বাস্থ্যবীমা ব্যবস্থা প্রবাসীদের চিকিৎসা ব্যয়ের ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগকে আরও কাঠামোবদ্ধ করছে। তবে সুবিধা পুরোপুরি পেতে হলে শুধু বীমা করা নয়, পলিসিতে কী আছে এবং কী নেই-সেটিও ভালোভাবে জানা জরুরি।

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

পলি নেট হাউজে চারা উৎপাদনে বদলে যাচ্ছে বিরলের কৃষি

ঠাকুরগাঁওয়ে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া ৩৮০ বস্তা ডিএপি সার জব্দ

৩৪ টুথপেস্টের ২৬টিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক, উদ্বেগ শিশুদের পণ্যেও

লক্ষ্মীপুরে ড্রামট্রাকের ধাক্কায় সাবেক ছাত্রদল নেতা নিহত

রাজবাড়ীতে রেলগেটে ভয়াবহ দুর্ঘটনা, বিচ্ছিন্ন ৬ ওয়াগনের ধাক্কায় নিহত ২

প্রযুক্তির বিপ্লব: বৃষ্টির ফোঁটা থেকেই মিলবে বিদ্যুৎ

জুলাইয়ের ২৫ দিনেই ২৩০ কোটি ডলারের কাছাকাছি রেমিট্যান্স

আগাম ভিসা ছাড়াই এশিয়ার যেসব দেশে যেতে পারেন বাংলাদেশিরা

হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, নতুন রোগী ১১৬০

রাঙ্গাবালীতে ৩ লাখ টাকার অবৈধ জাল জব্দ, পুড়িয়ে ধ্বংস

বাউফলে সড়ক দুর্ঘটনায় ভিক্ষুক নিহত

দেশের ২০ কোটি মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই বড় চ্যালেঞ্জ: মির্জা ফখরুল