
অনবরত বৃষ্টি ও উজানের ঢলে কুড়িগ্রামে পরপর দুই দফা স্বল্পমেয়াদি বন্যায় ৪৯৯ হেক্টর জমির সবজি ও বিভিন্ন ফসল নষ্ট হয়েছে। এতে নদ-নদীর তীরবর্তী এলাকার শত শত প্রান্তিক কৃষক চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে কৃষি বিভাগ।
জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জেলার ৯টি উপজেলার ৪৯৯ হেক্টর জমির পটল, করলা, শসা, পাট, বাদাম, আমনের বীজতলাসহ বিভিন্ন ফসল বন্যার পানিতে তলিয়ে নষ্ট হয়েছে। বর্তমানে মাঠপর্যায়ে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বন্যার পানিতে একরের পর একর পটল ও করলার ক্ষেত সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। পাটসহ অন্যান্য ফসলও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক কৃষককে নষ্ট ও আধাপাকা ফসল ক্ষেত থেকে তুলে নিতে দেখা গেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, দুই সপ্তাহ আগে বৃষ্টি ও উজানের ঢলে ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা ও দুধকুমার নদীর পানি বেড়ে জেলার বিস্তীর্ণ নিচু এলাকা প্লাবিত হয়। এক সপ্তাহের ব্যবধানে দ্বিতীয় দফা বন্যায় ফসলের ক্ষেত দীর্ঘ সময় পানির নিচে থাকায় অধিকাংশ ফসল পচে সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা জানান, ধারদেনা করে আবাদ করা ফসল নষ্ট হওয়ায় তারা চরম সংকটে পড়েছেন। উৎপাদন খরচও তুলতে পারেননি অনেকেই। বন্যার পানি নেমে গেলে নতুন করে আবাদ শুরু করতে সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন তারা।
কুড়িগ্রাম সদরের পাঁচগাছী এলাকার কৃষক মোছাব্বের হোসেন বলেন, দুই বিঘা জমিতে পটলের আবাদ করেছিলেন। কিন্তু বন্যার পানিতে পুরো ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। মাত্র তিনবার পটল বিক্রি করতে পেরেছেন, তাতেই উৎপাদন খরচ ওঠেনি। সরকারি সহায়তা ছাড়া নতুন করে চাষাবাদ করা তার পক্ষে সম্ভব নয়।
কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. মেহেদী হাসান বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে। ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এবং পরবর্তী আবাদে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দিতে কৃষি বিভাগ কাজ করছে।