
টানা ভারী বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন নিচু এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে পাহাড়ধসের আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে মাইকিং করছে জেলা প্রশাসন।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ওমর ফারুক জানান, সোমবার দিবাগত মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া অস্বাভাবিক ভারী বৃষ্টিতে নগরীর বিভিন্ন নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। পাহাড়ধসের ঝুঁকি বিবেচনায় সোমবার সন্ধ্যা থেকেই জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্কতামূলক মাইকিং শুরু হয়েছে।
তিনি জানান, নগরীর লালখান বাজার ও আকবরশাহ এলাকার দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা বাসিন্দাদের জন্য অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এছাড়া মতিঝরনা, আকবরশাহ, ১ নম্বর ঝিল, ২ নম্বর ঝিল, বিজয়নগর, জিয়ানগর, বেলতলীঘোনা, খুলশী, বায়েজিদ ও সলিমপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে মাইকিং করছে। তবে অনেক বাসিন্দা এখনো পাহাড় ছেড়ে যাননি। সূত্র মতে, নগরীর বিভিন্ন পাহাড়ের ঝুঁকিতে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার পরিবার বসবাস করছে।
ভারী বৃষ্টিতে চকবাজার, কাপাসগোলা, কাতালগঞ্জ, পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকা, ডিসি রোড, তেলিপট্টি, চান্দগাঁও, বাদুরতলা, সল্টগোলা ক্রসিং, হালিশহর ও পতেঙ্গাসহ বিভিন্ন এলাকায় হাঁটু থেকে তারও বেশি পানি জমে জনজীবন ব্যাহত হয়েছে।
সল্টগোলা ক্রসিং এলাকার বাসিন্দা ইঞ্জিনিয়ার মো. মহিউদ্দিন বলেন, সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখেন সড়ক ও আশপাশের নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। ভারী বৃষ্টির কারণে ঘর থেকে বের হওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ মাহমুদুল আলম জানান, মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় পতেঙ্গায় ৩৩০ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। মৌসুমি নিম্নচাপের প্রভাবে এ বৃষ্টিপাত হচ্ছে। সমুদ্রবন্দরগুলোকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি পাহাড়ধসের ঝুঁকিও রয়েছে এবং আগামী দুই থেকে তিন দিন মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে।
এদিকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বৃষ্টির মধ্যে নগরীর বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি, খাল-নালা ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন।
তিনি বলেন, বর্ষা মৌসুমে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সিটি করপোরেশনের সব বিভাগ প্রস্তুত রয়েছে। কোথাও পানি জমার খবর পাওয়া মাত্র সংশ্লিষ্ট টিম দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি নগরবাসীকে নালা-নর্দমায় ময়লা-আবর্জনা না ফেলে জলাবদ্ধতা নিরসনে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।