ঢাকামঙ্গলবার , ৭ জুলাই ২০২৬
  1. সর্বশেষ

টানা বৃষ্টিতে কক্সবাজারের ৩৩ ইউনিয়ন প্লাবিত, পানিবন্দী হাজারো মানুষ

প্রতিবেদক
Ibrahim Khalil
৭ জুলাই ২০২৬, ৩:৫৭ বিকাল

Link Copied!

টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজার জেলার ৯টি উপজেলার অন্তত ৩৩টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি এবং পাহাড় থেকে নেমে আসা ঢলে রামু, চকরিয়া, পেকুয়া, মহেশখালী, টেকনাফ, উখিয়া, ঈদগাঁও, কুতুবদিয়া ও কক্সবাজার পৌরসভার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে হাজারো মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন এবং শত শত ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ৬টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১২৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আজও বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পাহাড়ি ঢল এবং বাঁকখালী ও মাতামুহুরী নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় রামু ও চকরিয়ার অন্তত ১৪টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। একই সঙ্গে জেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। টানা বৃষ্টির মধ্যে রোববার দিবাগত রাতে একাধিক পাহাড়ধসে রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে আটজন এবং কক্সবাজার শহরে একজন নিহত হন। এছাড়া পেকুয়ায় মাটির ঘর ধসে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানান, পাহাড়ধসের ঝুঁকি বিবেচনায় কক্সবাজার শহর, রামু, উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকা থেকে অন্তত এক হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় মাইকিংয়ের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারীদের আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে আহ্বান জানানো হচ্ছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের কক্সবাজার কার্যালয়ের সহকারী আবহাওয়াবিদ আবদুল হান্নান বলেন, আগামী দুই দিনও ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে পাহাড়ধস ও ভূমিধসের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।

সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে টেকনাফ উপজেলায়। হ্নীলা, হোয়াইক্যং, সদর, সাবরাং ও বাহারছড়া ইউনিয়নের একাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বসতবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় পাঁচ শতাধিক পরিবার পানিবন্দী রয়েছে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মো. অনীক চৌধুরী বলেন, উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটছে। ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাসকারী মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

এদিকে বৈরী আবহাওয়া ও উত্তাল সাগরের কারণে টানা পাঁচ দিন ধরে টেকনাফ-সেন্ট মার্টিন নৌপথে যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে দ্বীপটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং খাদ্যসংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একই কারণে দুইজন এইচএসসি পরীক্ষার্থী নির্ধারিত পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি। তাদের পুনঃপরীক্ষার সুযোগ দিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছে জেলা প্রশাসন।

অন্যদিকে ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজার শহরের হোটেল-মোটেল জোন, কলাতলী, সুগন্ধা, বাজারঘাটা, তারাবনিয়াছড়া, বাস টার্মিনালসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দারা দুর্ভোগে পড়েছেন।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।

তথ্যসুত্র: প্রথম আলো

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

চট্টগ্রামে ভারী বর্ষণে পতেঙ্গা সৈকত সড়ক ধস

১০ জুলাই পর্যন্ত বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ

ঢাকাসহ ১৭ জেলায় দুপুরের মধ্যে ঝড়-বৃষ্টির আশঙ্কা

ঢাকার বাতাসে স্বস্তি, দূষিত শহরের তালিকায় ২৪তম

দেশের বাজারে আবারও কমেছে স্বর্ণের দাম

কুমিল্লায় দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের পেছনে বাসের ধাক্কায় নিহত ১

আগামী ৭২ ঘণ্টায় বাড়তে পারে কয়েকটি নদীর পানি

পিকআপের ধাক্কায় মা-ছেলের মৃত্যু, আহত বাবা

২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু

আলিম পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল পরীক্ষার্থীর

কৃষি উৎপাদন বাড়াতে নওগাঁয় বিনামূল্যে বীজ-সার বিতরণ

দেশের ৮০ শতাংশ বিদ্যুৎ উচ্চমূল্যে বেসরকারি খাত থেকে কিনতে হচ্ছে: বিদ্যুৎ উপদেষ্টা