
বৈশ্বিক আর্থিক বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে এবং বৈদেশিক অর্থায়নের উৎস বাড়াতে প্রথমবারের মতো বৈদেশিক মুদ্রায় সার্বভৌম বন্ড ইস্যু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক পুঁজিবাজার থেকে এই উদ্যোগের আওতায় আগামী তিন মাসের মধ্যে ৫০ কোটি থেকে এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত সংগ্রহের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।
বন্ড ইস্যুর পুরো প্রক্রিয়াটি পরিচালনার জন্য শীর্ষস্থানীয় বৈশ্বিক বিনিয়োগ ব্যাংক জেপি মরগান চেজ অ্যান্ড কোং-কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আগামী তিন মাসের মধ্যে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জন্য এই বন্ড বাজারে ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের নীতি সুদহার বাড়ানোর পর থেকেই বর্তমানে বৈশ্বিক বাজারে ঋণ বা মূলধন সংগ্রহের খরচ বেশ চড়া। ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, এই বাস্তবতায় উদীয়মান অর্থনীতিগুলোর জন্য বন্ডের মূল্য নির্ধারণ করা অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বৈশ্বিক বাজারের বিদ্যমান পরিস্থিতি, সুদের হারের ওঠানামা এবং বিনিয়োগকারীদের চাহিদা গভীরভাবে মূল্যায়ন করেই এই বন্ডের সঠিক মূল্য নির্ধারণ করা হবে।
জেপি মরগানের ব্যবস্থাপনায় বন্ড বিক্রির প্রক্রিয়াটি এগিয়ে চললেও এটি চূড়ান্তভাবে বাজারে ছাড়ার বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায়ের এবং চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। অনুমোদন পাওয়ার পরই এটি আন্তর্জাতিক পুঁজিবাজারে উন্মুক্ত করা হবে।
ব্লুমবার্গের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক মূলধনের বাজারে বাংলাদেশের এটি হবে প্রথম কোনো সার্বভৌম ঋণপত্র বা বন্ডের আত্মপ্রকাশ। এর মাধ্যমে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর বিদ্যমান চাপ কমানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে দেশের অর্থনীতি ও ঋণযোগ্যতার একটি ইতিবাচক বার্তা পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সার্বভৌম বন্ড আসলে কী:
সার্বভৌম বন্ড হলো সরকারের পক্ষে বাজার থেকে ঋণ নেওয়ার একটি নিরাপদ প্রতিশ্রুতিপত্র, যার মাধ্যমে সরকার নির্দিষ্ট সুদের শর্তে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অর্থ ধার নেয় এবং মেয়াদ শেষে আসল টাকা ফেরত দেয়। বাংলাদেশ সরকার যখন আন্তর্জাতিক পুঁজিবাজার থেকে বৈদেশিক মুদ্রায় ৫০ কোটি থেকে এক বিলিয়ন ডলার সংগ্রহের উদ্যোগ নেয়, তখন তাকে আন্তর্জাতিক সার্বভৌম বন্ড বলা হয়। এর মাধ্যমে ঐতিহ্যবাহী বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভরতা কমে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী হয়। তবে বৈশ্বিক সুদের হার ও মুদ্রা বিনিময় হারের ঝুঁকি এড়াতে এই বন্ডের মূল্য নির্ধারণ ও তহবিল ব্যবহারে সরকারকে সতর্ক ও স্বচ্ছ হতে হয়।