
২০২৫ সালের পিসা স্কোরের ওপর ভিত্তি করে বিশ্বের সেরা গণিত দক্ষ দেশগুলোর একটি নতুন বৈশ্বিক র্যাং কিং প্রকাশিত হয়েছে। ব্রুনো ভেনদিত্তির করা এই প্রতিবেদনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ১৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের গণিত দক্ষতার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, বৈশ্বিক তালিকায় সবার চেয়ে এগিয়ে রয়েছে এশীয় দেশগুলো, বিশেষ করে চীন ও সিঙ্গাপুর।
পিসা (পিআইএসএ) মূল্যায়ন মূলত শিক্ষার্থীদের গণিত, পঠন এবং বিজ্ঞানে দক্ষতা যাচাই করে থাকে। এই মূল্যায়নের লক্ষ্য কেবল সূত্র বা পদ্ধতি মুখস্থ বিদ্যা পরীক্ষা করা নয়, বরং শিক্ষার্থীরা বাস্তব জীবনের সমস্যা সমাধানে তাদের অর্জিত জ্ঞান ও যুক্তিসংগত চিন্তা কতটা সফলভাবে প্রয়োগ করতে পারে তা পরিমাপ করা। সাম্প্রতিক এই গবেষণায় ৯১টি দেশ ও অর্থনীতির ৭ লাখ ৬০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩ কোটি ৩০ লাখ ১৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থীর প্রতিনিধিত্ব করে।
প্রকাশিত এই র্যাং কিংয়ে ৬১২ গড় স্কোর নিয়ে চীন বিশ্বে প্রথম স্থান অধিকার করেছে, যা ওইসিডি গড় স্কোরের তুলনায় প্রায় ১৫০ পয়েন্ট বেশি। তবে এখানে একটি বিষয় উল্লেখযোগ্য যে, চীনের এই স্কোর পুরো ভূখণ্ডের সব শিক্ষার্থীর প্রতিনিধিত্ব করে না, বরং এটি বেইজিং, সাংহাই, জিয়াংসু এবং ঝেজিয়াং অঞ্চলের অংশগ্রহণকারী এলাকাগুলোর ফলাফল। চীনের ঠিক পরেই ৫৬৩ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সিঙ্গাপুর।

বিশ্বসেরা শীর্ষ ১০টি অবস্থানের মধ্যে ৭টিই দখল করেছে এশীয় শিক্ষাব্যবস্থা। তালিকার তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে রয়েছে যথাক্রমে ম্যাকাও (৪৯) এবং তাইওয়ান (৫৪৬)। এছাড়া জাপান পঞ্চম (৫২৫), কোরিয়া (৫২২) এবং হংকং (৫২২) যৌথভাবে ষষ্ঠ স্থান অর্জন করেছে। শীর্ষ ১০-এর মধ্যে একমাত্র ইউরোপীয় দেশ হিসেবে এস্তোনিয়া ৫০৮ স্কোর নিয়ে অষ্টম এবং সুইজারল্যান্ড ৪৯৯ স্কোর নিয়ে নবম স্থানে অবস্থান করছে।
পশ্চিমের প্রধান দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাজ্য ১০ম (৪৮৮) এবং কানাডা ১১তম (৪৮৫) স্থান অর্জন করেছে। কানাডা তার এই ভালো অবস্থানের মাধ্যমে জার্মানি, ফ্রান্স, স্পেন ও ইতালির মতো বড় ইউরোপীয় অর্থনীতিগুলোকে পেছনে ফেলেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ৪৬৩ স্কোর নিয়ে ২৭তম অবস্থানে রয়েছে, যা ওইসিডিভুক্ত দেশগুলোর গড় ফলের সমান।
গবেষণায় বিশ্বব্যাপী শিক্ষার মানের একটি উদ্বেজনক চিত্রও উঠে এসেছে। ২০১৫ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ওইসিডিভুক্ত দেশগুলোতে গণিতের গড় স্কোর ২২ পয়েন্ট কমে গেছে, যা প্রায় এক বছরের বেশি সময় ধরে চলা শিখন ঘাটতির সমতুল্য। এছাড়া শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত ডিজিটাল ডিভাইসের ব্যবহার শিক্ষার ফলাফলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যেসব শিক্ষার্থী স্কুলের বাইরে দিনে চার ঘণ্টার বেশি সময় ডিজিটাল বিনোদনে ব্যয় করে, তাদের গণিত স্কোর তুলনামূলক কম পাওয়া গেছে। তবে এর বিপরীতে পরিমিত ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার শিক্ষার্থীদের জন্য ভালো ফলাফল বয়ে আনতে সহায়তা করে।
সূত্র: ভিজ্যুয়াল ক্যাপিটালিস্ট ও ওইসিডি পিসা ২০২৫ প্রতিবেদন