
নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধি রোধে সিন্ডিকেট, মজুতদারি ও কালোবাজারি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম। একই সঙ্গে বাজার তদারকি ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
বিশ্ব খাদ্য দিবস উদযাপন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) চট্টগ্রাম নগরের জামালখান প্রেসক্লাব চত্বরে ক্যাব চট্টগ্রাম ও যুব ক্যাব চট্টগ্রাম মহানগরের উদ্যোগে আয়োজিত এক মানববন্ধনে এসব দাবি জানানো হয়। মানববন্ধনে বক্তারা খাদ্যপণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে বাজার মনিটরিং জোরদার এবং প্রান্তিক মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারকে জনমুখী কর্মসূচি গ্রহণের আহ্বান জানান।

মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন ক্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন। যুব ক্যাব চট্টগ্রাম মহানগরের সভাপতি আবু হানিফ নোমানের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী, বিশিষ্ট নারীনেত্রী জেসমিন সুলতানা পারু, পলিসি অ্যাডভোকেসি গ্রুপ চট্টগ্রামের সভাপতি ও কলামিস্ট মুসা খান, ক্যাব চট্টগ্রাম মহানগরের যুগ্ম সম্পাদক মো. সেলিম জাহাঙ্গীর, রাজনীতিবিদ ও সমাজকর্মী মিটুল দাস গুপ্ত, ক্যাব চট্টগ্রাম মহানগরের সাংগঠনিক সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস, ক্যাব চান্দগাঁও থানা সভাপতি মো. জানে আলম, ক্যাব পাঁচলাইশ থানা সভাপতি এবিএম হুমায়ুন কবির এবং যুব ক্যাব নেতা মামুনুল ইসলামসহ অন্যরা।
মানববন্ধনে এস এম নাজের হোসাইন বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রতিনিয়ত খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ছে। সয়াবিন তেলের দাম তিনবার বাড়ানো হয়েছে। জ্বালানি তেল, গ্যাস ও এলপিজির দামও একাধিকবার বেড়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, বৈশ্বিক যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের সংকটসহ বিভিন্ন অজুহাতে ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে পণ্যের দাম বাড়াচ্ছেন। এতে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করা হচ্ছে। অথচ সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বেকারি পণ্যের দাম বাড়ানোর ঘোষণা পরে প্রত্যাহার করা হলেও মাঠপর্যায়ে সেই সিদ্ধান্ত পুরোপুরি কার্যকর হয়নি বলে দাবি করেন বক্তারা। একইভাবে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন এলপিজির দাম নির্ধারণ করে দিলেও ব্যবসায়ীদের একাংশ তা মানছেন না বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।

বক্তারা বলেন, আসন্ন রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সহনীয় রাখার বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ব্যবসায়ীদের মতবিনিময় হলেও সেখানে সাধারণ ভোক্তাদের স্বার্থ যথাযথ গুরুত্ব পাচ্ছে না বলে তাঁদের অভিযোগ। পণ্যের দাম কমানোর প্রসঙ্গ উঠলেই ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে কর হ্রাস ও ভর্তুকির মতো শর্ত তুলে ধরা হয়।
তাঁদের দাবি, এর ফলে দেশের প্রায় ১৮ কোটি মানুষকে জিম্মি করে অতিমুনাফার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত বাজার তদারকি ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পরিবর্তে তাঁদের কার্যক্রমকে উৎসবকেন্দ্রিক বিক্রয় কার্যক্রমের নামে উৎসাহিত করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন বক্তারা।
মানববন্ধনে প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য টিসিবির খোলা ট্রাকে পণ্য বিক্রি এবং খাদ্য অধিদপ্তরের ওএমএস কার্যক্রম জোরদার করার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারকে জনমুখী কর্মসূচি গ্রহণের আহ্বান জানান বক্তারা।
এ ছাড়া আমদানি শুল্কসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের দেওয়া শুল্কছাড়ের সুবিধা যেন ভোক্তাপর্যায়ে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারির দাবি জানানো হয়। নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের মূল্য সহনীয় রাখতে বাজার মনিটরিং জোরদার এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণেরও আহ্বান জানান তাঁরা।
মানববন্ধনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার শ্রমজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী, তরুণ, সাংবাদিক এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।