
আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে ভ্যাট, শুল্ক ও কর কাঠামোয় একাধিক পরিবর্তনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এর প্রভাবে গৃহনির্মাণের অন্যতম প্রধান উপকরণ রড, সব ধরনের সিগারেট, নিকোটিন পাউচ, আমদানিকৃত মাছ, কাজুবাদাম এবং পরিবহনসেবার ব্যয় বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্র জানিয়েছে, শিল্পায়ন, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দিয়ে আগামী অর্থবছরের বাজেট প্রণয়ন করা হচ্ছে। দেশীয় উৎপাদনকে উৎসাহ দিতে কিছু খাতে কর রেয়াত ও শুল্ক সুবিধা দেওয়া হলেও রাজস্ব বাড়াতে নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের ওপর শুল্ক ও কর বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবিত বাজেটে সব ধরনের সিগারেটের মূল্যস্তর বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে নিম্ন, মধ্যম, উচ্চ ও প্রিমিয়াম—সব স্তরের সিগারেটের দাম বাড়তে পারে। বিশেষ করে প্রিমিয়াম সিগারেটের ক্ষেত্রে মূল্য বৃদ্ধি তুলনামূলক বেশি হতে পারে বলে জানা গেছে।
এছাড়া প্রথমবারের মতো নিকোটিন পাউচ ও হিটেড টোব্যাকো পণ্যের ওপর কর আরোপের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ১০ গ্রাম নিকোটিন পাউচের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ৫০০ টাকা নির্ধারণ করে এর ওপর ৪০ শতাংশ সম্পূরক শুল্কসহ মোট ৬২ শতাংশ কর আরোপ করা হবে। এতে এসব পণ্যের দামও বাড়তে পারে।
দেশীয় মদ ও বিয়ারের ক্ষেত্রেও কর কাঠামোয় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। বর্তমানে প্রচলিত মাদক শুল্কের পরিবর্তে প্রতি লিটারে ৫০০ টাকা সুনির্দিষ্ট কর আরোপের প্রস্তাব রাখা হয়েছে, যা এসব পণ্যের বাজারমূল্য বাড়িয়ে দিতে পারে।
গৃহনির্মাণ খাতেও ব্যয়ের চাপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এমএস রড তৈরির কাঁচামাল স্ক্র্যাপ শিটের ওপর টনপ্রতি সুনির্দিষ্ট কর ৩০০ টাকা এবং এমএস পণ্যের ওপর ৪০০ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মতে, এর প্রভাব সরাসরি রডের বাজারদরে পড়তে পারে।
অন্যদিকে বিদেশ থেকে আমদানি করা তাজা, ঠান্ডা ও হিমায়িত মাছের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপের পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে এসব মাছের খুচরা দাম বাড়তে পারে। একই সঙ্গে সুগন্ধি, ওষুধ, কীটপতঙ্গ ও ছত্রাকনাশক তৈরিতে ব্যবহৃত আমদানিকৃত বৃক্ষ বা বৃক্ষজাত উপাদানের ওপরও ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।
কাজুবাদাম আমদানিতে বর্তমানে ৫ শতাংশ শুল্ক থাকলেও তা বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এতে আমদানিনির্ভর এই পণ্যের বাজারমূল্যও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পরিবহন খাতেও অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রভাব পড়তে পারে। বাসের অগ্রিম আয়কর বাড়ানোর প্রস্তাবের কারণে বাসভাড়া বৃদ্ধি পেতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। এছাড়া হেলিকপ্টারের নিবন্ধন ও ফিটনেস নবায়নের ক্ষেত্রে ১০ লাখ টাকা উৎসে কর আরোপের পরিকল্পনা থাকায় হেলিকপ্টার সেবার ভাড়াও বাড়তে পারে।
তবে একই সঙ্গে শিল্পায়ন ও বিনিয়োগকে উৎসাহিত করতে কিছু খাতে শুল্ক ও কর কমানোর পরিকল্পনাও রাখা হয়েছে। এর ফলে নির্দিষ্ট কয়েকটি পণ্যের দাম কমতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি। তবে এসব পরিবর্তনের চূড়ান্ত চিত্র নির্ভর করবে জাতীয় বাজেট ঘোষণার ওপর।