ঢাকাশনিবার , ৭ নভেম্বর ২০২৬
  1. সর্বশেষ
  2. নিরাপদ সড়ক

জানুয়ারিতে ৫৫৯ সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু ৪৮৭!

প্রতিবেদক
Ibrahim Khalil
১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১:১৭ বিকাল

Link Copied!

দেশে নতুন বছরের জানুয়ারি মাসে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, গত মাসে ৫৫৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় মোট ৪৮৭ জন নিহত এবং ১,১৯৪ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৬৮ জন নারী ও ৫৭ জন শিশু রয়েছেন।

মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা সবচেয়ে মারাত্মক। জানুয়ারিতে ২০৮টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৯৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন, যা মোট মৃত্যুর প্রায় ৪০ শতাংশ। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার ৩৭.২০ শতাংশ।

পথচারীরাও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। দুর্ঘটনায় ১৩২ জন পথচারী নিহত হয়েছেন, যা মোট মৃত্যুর ২৭.১০ শতাংশ। যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৬৭ জন, অর্থাৎ মোট মৃত্যুর ১৩.৭৫ শতাংশ।

যানবাহনভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী মারা গেছেন ১৯৬ জন। বাসের যাত্রী হিসেবে ২১ জন, ট্রাক-কাভার্ডভ্যান-পিকআপ-ট্রাক্টর আরোহী ২৮ জন, প্রাইভেটকার-মাইক্রোবাস-অ্যাম্বুলেন্স-জিপ আরোহী ৯ জন, থ্রি-হুইলার যাত্রী ৭৭ জন, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী ১৩ জন এবং বাইসাইকেল আরোহী ১১ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

দুর্ঘটনার স্থানভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৫৬টি দুর্ঘটনা জাতীয় মহাসড়কে, ২০৭টি আঞ্চলিক সড়কে, ৮৫টি গ্রামীণ সড়কে, ১০৩টি শহরের সড়কে এবং ৮টি অন্যান্য স্থানে ঘটেছে। দুর্ঘটনার ধরনে মুখোমুখি সংঘর্ষ ১৩৫টি, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ২০৯টি, পথচারীকে চাপা বা ধাক্কা দেওয়া ১৩৭টি, যানবাহনের পেছনে আঘাত ৭২টি এবং ৬টি অন্যান্য কারণে ঘটেছে।

দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের হার অনুযায়ী ভারী যানবাহন ২৮.৫৮ শতাংশ, মোটরসাইকেল ২৪.৫১ শতাংশ, থ্রি-হুইলার ১৮.৫৩ শতাংশ, বাস ১২.২০ শতাংশ, মাইক্রোবাস-প্রাইভেটকার-অ্যাম্বুলেন্স-জিপ ৪.৬৩ শতাংশ, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন ৩.৯৫ শতাংশ, বাইসাইকেল-রিকশা ২.১৪ শতাংশ এবং অজ্ঞাত যানবাহন ৫.৪২ শতাংশ। মোট দুর্ঘটনায় ৮৮৫টি যানবাহন জড়িত ছিল।

সময়ভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ভোরে ৬.৬১ শতাংশ, সকালে ২৬.৬৫ শতাংশ, দুপুরে ১৫.৫৬ শতাংশ, বিকালে ১৩.৯৫ শতাংশ, সন্ধ্যায় ১৩.৫৯ শতাংশ এবং রাতে ২৩.৬১ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে। বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে ঢাকা বিভাগের দুর্ঘটনা সংখ্যা সর্বোচ্চ—১৪৩টি দুর্ঘটনায় ১১৯ জন নিহত। সিলেট বিভাগে সবচেয়ে কম, ২৪টি দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত। রাজধানী ঢাকায় ২৬টি দুর্ঘটনায় ১৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং ৪১ জন আহত হয়েছেন।

নিহতদের মধ্যে বিভিন্ন পেশার মানুষ রয়েছেন। পুলিশের সদস্য, শিক্ষক, চিকিৎসক, সাংবাদিক, আইনজীবী, ব্যাংক-বীমা কর্মকর্তা ও কর্মচারী, এনজিও কর্মী, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, ব্যবসায়ী, বিক্রয় প্রতিনিধি, পোশাক ও নির্মাণ শ্রমিক, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং ৫৭ জন শিক্ষার্থী এই দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন।

দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে—ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন ও সড়ক, বেপরোয়া গতি, চালকের অদক্ষতা ও মানসিক অসুস্থতা, অনিয়মিত কর্মঘণ্টা, মহাসড়কে স্বল্পগতির যান চলাচল, তরুণদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো, ট্রাফিক আইন না মানা, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের সক্ষমতার ঘাটতি এবং গণপরিবহন খাতে চাঁদাবাজি।

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

জলবায়ু ঝুঁকি বাড়ছে, অর্থায়ন বাড়ছে না: জাতিসংঘ

রক্ত নষ্ট করতে হিমাগারের তাপমাত্রা বদলে দিল হ্যাকাররা

দুধ-দইয়ের বদলে ভেগান খাবার, বাড়তে পারে পুষ্টির ঘাটতি

এভিয়েশন খাতে ২২ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা ইউএস-বাংলার

দুই ট্রাকের ধাক্কায় অটোরিকশা ও মিশুকচালক নিহত

এক ধাক্কায় ৪.৭ শতাংশ কমল অপরিশোধিত তেলের দাম

ডলারের চাহিদা মেটাতে রিজার্ভ থেকে আরও ১০ কোটি ডলার বিক্রি

টানা দুই দফায় আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম, ভরি কত?

১২ দেশে যেতে আগ্রহীদের জন্য মন্ত্রণালয়ের সতর্কবার্তা

হামের টিকা সংগ্রহে বিলম্বের কারণ অনুসন্ধানে তিন সদস্যের কমিশন

সাংবাদিক হত্যায় বিশ্বজুড়ে বাড়ছে বিচারহীনতা: ৭ জনের ৬ জনেরই বিচার হয় না

নিউজিল্যান্ডে বাড়ছে বেকারত্ব, কমছে কর্মসংস্থান