ঢাকারবিবার , ২৮ জুন ২০২৬
  1. সর্বশেষ
  2. প্রবাসীর কথা

মধ্যপ্রাচ্যের প্রবাসী শ্রমিক শোষণের মূল কারণ কাফালা ব্যবস্থা

প্রতিবেদক
Ibrahim Khalil
২৩ নভেম্বর ২০২৫, ৩:৪০ বিকাল

Link Copied!

লাখ লাখ প্রবাসী শ্রমিক এখনও মধ্যপ্রাচ্যে শোষণের শিকার হচ্ছেন। পরিসংখ্যান বলছে,শুধু সৌদি আরবেই ১২ লাখ শ্রমিক নিয়মিত বা সময়মতো তাদের বেতন পান না। মধ্যপ্রাচ্যের মোট অভিবাসী শ্রমিকের অর্ধেকই সৌদি আরবে কাজ করে। যেখানে বাংলাদেশের ১৫ লক্ষাধিক শ্রমিক কাজ করে। সৌদি, ওমান, কাতার, কুয়েতসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে এই কাফালা ব্যবস্থায় কীভাবে অভিবাসী শ্রমিকের মজুরী চুরি করছে সে বিষয়ে সতর্ক করেছেন ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক হানা বুহেজ্জি।

তিনি এই বক্তব্য দিয়েছেন গ্লোবাল ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম কনফারেন্স (GIJC25) এর তৃতীয় দিনে “Reporting on Business and Labor Issues in the Gulf States” শিরোনামের সেশনে। বুহেজ্জি এই শোষণকে লাখ লাখ মানুষের উপর দীর্ঘমেয়াদি এবং পদ্ধতিগত সমস্যা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

বুহেজ্জি বলেন, অভিবাসী শ্রমিকদের কাজের অনুমতি বা কাফালা (স্পনসরশিপ) সিস্টেমকে মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমিক শোষণের মূল কারণ হিসেবে তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, “শ্রমিকরা কোনো দেশে প্রবেশ করতে, চাকরি পরিবর্তন করতে বা দেশ ছাড়তেও পারবে না, যদি না নিয়োগকর্তা অনুমতি দেন। এই ক্ষমতার অসাম্য শোষণকে সম্ভব করে তোলে।”

যদিও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো শ্রম আইন প্রবর্তন করেছে, তবে অনেক আইন কাঠামোগত ফাঁক রাখে এবং শ্রমিকদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেয় না। শ্রমিকরা শুধু তাদের পরিবারের জন্য অর্থ উপার্জন করতে আসে, জটিল আইন লড়াইয়ের জন্য নয়।

এটি প্রায় ২৬ মিলিয়ন অভিবাসী শ্রমিককে প্রভাবিত করে, যার মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। নির্মাণ খাতের শ্রমিকরা প্রায় ৮০ শতাংশ এবং গৃহপরিচারিকা শ্রমিকরা প্রায় ২৫ শতাংশ, যারা সবচেয়ে বেশি শোষণের মুখোমুখি।

একটি সৌদি সরকারি প্রকাশ হওয়া গোপন নথির তথ্য তুলে ধরে হানা বুহেজ্জী বলেন, সৌদি আরবে ১২ লাখ শ্রমিক তাদের বেতন সময়মতো পাননি, বা নিয়মিত পায় না। যা দেশের অভিবাসী শ্রমিকের ৮.৩ শতাংশ। সৌদি আরবে অভিবাসীরা শ্রম বাজারের ৮০ শতাংশ এবং দেশটি উপসাগরীয় অঞ্চলের অর্ধেক শ্রমবাজারের অংশ। এই পরিসংখ্যান প্রমাণ করে অভিবাসী শ্রমিকের জন্য কাফালা সমস্যা কতটা ভয়াবহ।

বুহেজ্জি, সাংবাদিকদের সঠিক শব্দ ব্যবহার করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বেতন না পাওয়াকে “non-payment” নয়, বরং “wage theft” বলা উচিত। এছাড়াও, “অবৈধ” এবং “ডকুমেন্টেশনের অভাবে” থাকা শ্রমিকদের মধ্যে পার্থক্য করা জরুরি, যাদের অনেকের অবস্থা নিয়োগকর্তার কারণে নিয়মবহির্ভূত হয়ে যায়।
তিনি এমন প্রথা স্বাভাবিক মনে না করারও পরামর্শ দেন, যেমন পাসপোর্ট জব্দ করা, ছুটি না দেওয়া, যোগাযোগ সীমিত করা, অতিরিক্ত কাজের চাপ, এবং বেতন দেরি বা না দেওয়া। তার গবেষণা অনুযায়ী, ১১টির মধ্যে ৮টি সাধারণ শোষণ আন্তর্জাতিক জোরপূর্বক শ্রমের সূচকের সাথে মিলে যায়।

শেষে তিনি বলেন, “এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি, পদ্ধতিগত সমস্যা যা লাখ লাখ শ্রমিককে প্রভাবিত করে। সাংবাদিকদের জন্য এই বিষয়ে অনুসন্ধানী রিপোর্টিং অপরিহার্য।”

Facebook Comments Box

আরও পড়ুন

চীনে অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ৭ বাংলাদেশি

চকরিয়ায় মাইক্রোবাসের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে নিহত ২

অতিরিক্ত করলা খেলে হতে পারে ৫ স্বাস্থ্যঝুঁকি

Revolutionary Technology ‘TESOS’ in Biological Tissue Observation

জৈবিক টিস্যু পর্যবেক্ষণে বৈপ্লবিক প্রযুক্তি ‘টিইএসওএস’

পাখিরা কীভাবে পথ চেনে? সমাধান দিল নতুন গবেষণা

দেশজুড়ে বাড়ছে বৃষ্টির প্রবণতা, কয়েক জেলায় তাপপ্রবাহ অব্যাহত

Phoenix Summit 2026 Concludes with Strong Focus on Cybersecurity and Digital Resilience

সাইবার নিরাপত্তা ও ডিজিটাল সহনশীলতায় গুরুত্ব দিয়ে শেষ হলো ফিনিক্স সামিট ২০২৬

পিকআপ-সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে মা-মেয়েসহ নিহত ৩

গ্যাস বেলুনে ১৫ মিনিট বন্ধ মেট্রোরেল

ঢাকাসহ ১২ জেলায় দুপুরের মধ্যে ঝড়-বৃষ্টির আভাস