
প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য ‘নন-রেসিডেন্ট কনভার্টিবল টাকা অ্যাকাউন্ট’ (এনআরসিটিএ) নামে নতুন একটি ব্যাংক হিসাব সুবিধা চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন এ ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রবাসীরা দেশে রেমিট্যান্সভিত্তিক হিসাব পরিচালনার পাশাপাশি বিনিয়োগ, আমানত সংরক্ষণ এবং মূলধন ও মুনাফা সহজেই বিদেশে প্রত্যাবাসনের সুযোগ পাবেন।
মঙ্গলবার (২৪ জুন) জারি করা এক সার্কুলারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ তথ্য জানিয়েছে। এতে বলা হয়, অফশোর ব্যাংকিং আইন, ২০২৪ এবং ফরেন এক্সচেঞ্জ রেগুলেশন অ্যাক্ট, ১৯৪৭-এর আওতায় নতুন এ হিসাব সুবিধা চালু করা হয়েছে।
সার্কুলার অনুযায়ী, তফসিলি ব্যাংকগুলোর অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটে প্রবাসী বাংলাদেশিরা সঞ্চয়ী, চলতি ও মেয়াদি আমানতসহ বিভিন্ন ধরনের এনআরসিটিএ হিসাব খুলতে পারবেন। ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে দেশে পাঠানো রেমিট্যান্স এবং বৈদেশিক মুদ্রা হিসাব থেকে টাকায় রূপান্তরিত অর্থ এসব হিসাবে জমা রাখা যাবে।
এ ছাড়া বৈদেশিক রেমিট্যান্স, অন্য এনআরসিটিএ থেকে স্থানান্তরিত অর্থ, অর্জিত সুদ বা মুনাফা, বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই), পোর্টফোলিও বিনিয়োগ এবং বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদিত অন্যান্য বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত প্রত্যাবাসনযোগ্য অর্থও এ হিসাবে জমা করা যাবে। নতুন শেয়ার ইস্যুতে বিনিয়োগের অর্থ ফেরতসহ অন্যান্য অনুমোদিত ফেরতও এই হিসাবে গ্রহণযোগ্য হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এনআরসিটিএ হবে টাকাভিত্তিক বাজারচালিত সুদ বা মুনাফাবাহী হিসাব। হিসাবের মূলধন ও অর্জিত মুনাফা উভয়ই অবাধে বিদেশে পাঠানো যাবে। পাশাপাশি বৈধ স্থানীয় ব্যয় নির্বাহ, অন্য এনআরসিটিএ বা এনআরটিসি হিসাবে স্থানান্তর, বৈদেশিক মুদ্রায় রূপান্তর এবং বিদেশি বিনিয়োগে অর্থ ব্যবহারের সুযোগও থাকবে।
সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, এনআরসিটিএর আওতায় সংগৃহীত আমানত বিশেষায়িত অঞ্চলের ‘টাইপ-এ’ শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে টাকাভিত্তিক ঋণ হিসেবে দেওয়া যাবে। তবে এসব ঋণ শুধুমাত্র বেতন-ভাতা, মজুরি ও ইউটিলিটি বিলের মতো চলতি ব্যয় নির্বাহে ব্যবহার করা যাবে এবং তা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের রপ্তানি আয় থেকে পরিশোধ করতে হবে।
এ ছাড়া প্রবাসী বাংলাদেশি বা তাদের মনোনীত ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান কিংবা কোম্পানির অনুকূলে এনআরসিটিএতে সংরক্ষিত আমানতের বিপরীতে ঋণ সুবিধাও দেওয়া যাবে। তবে এসব ঋণ পুনঃঋণ প্রদান, কৃষি বা বাগান কার্যক্রম এবং রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় ব্যবহার করা যাবে না।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ব্যক্তিগত প্রয়োজন, ব্যবসায়িক কার্যক্রম, অ-প্রত্যাবাসনযোগ্য প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ কিংবা নিজস্ব ব্যবহারের জন্য আবাসিক সম্পত্তি ক্রয়ের ক্ষেত্রে এ ধরনের ঋণ ব্যবহার করা যেতে পারে। ঋণ পরিশোধ করতে হবে এনআরসিটিএতে সংরক্ষিত আমানত সমন্বয় অথবা নতুন রেমিট্যান্সের মাধ্যমে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরও নির্দেশনা দিয়েছে, হিসাব খোলা ও পরিচালনার ক্ষেত্রে কেওয়াইসি, অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ, কর সংক্রান্ত বিধান এবং নিয়মিত প্রতিবেদন দাখিলের বিষয়গুলো কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।
প্রবাসীদের সুবিধার্থে অনলাইন ও ইন্টারঅ্যাকটিভ ওয়েব প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে হিসাব খোলার সুবিধা চালুরও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, জারি করা এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে।