
ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৪৩০ জনে দাঁড়িয়েছে। ভূমিকম্পের ৭২ ঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ায় ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিত কাউকে উদ্ধারের সম্ভাবনা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে। তবে উদ্ধারকর্মীরা এখনো প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছে, রাজধানী কারাকাসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম ত্রাণবাহী বিমান পৌঁছেছে। একই সঙ্গে একটি মার্কিন নৌযানও ভেনেজুয়েলার উপকূলে পৌঁছেছে। সিমন বলিভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি রানওয়ে আংশিকভাবে সচল করায় সি-১৭ সামরিক পরিবহন বিমান অবতরণ করতে সক্ষম হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হাজার হাজার মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। দেশের বিভিন্ন শহরে অসংখ্য ভবন ধসে পড়েছে এবং লাখ লাখ মানুষ নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও অন্যান্য মৌলিক সেবা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসনের ধীরগতির ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম নিয়ে জনমনে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ দুর্যোগ মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশের সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
বুধবার ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় দেশটির উপকূলীয় ও নগরাঞ্চল। ধসে পড়া ভবনের নিচে স্বজনদের খুঁজতে স্থানীয় বাসিন্দারাও উদ্ধারকর্মীদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূমিকম্পের পর প্রথম ৭২ ঘণ্টাই জীবিত উদ্ধার করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। এরপর ধ্বংসস্তূপে জীবিত মানুষ পাওয়ার সম্ভাবনা দ্রুত কমে যায়।
মিয়ামি থেকে উদ্ধারকাজে অংশ নিতে আসা অস্ট্রেলীয় দমকলকর্মী ক্রেইগ ডেমেইলন বলেন, পরিস্থিতি অত্যন্ত বিশৃঙ্খল ও সমন্বয়হীন হলেও তারা এখনো জীবিত কাউকে উদ্ধারের আশা ছাড়েননি।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এল সালভাদরের এক উদ্ধারকর্মী বলেন, এখন ধ্বংসস্তূপে জীবিতের চেয়ে মরদেহ পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তারপরও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকবে।
জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা প্রধান টম ফ্লেচার জানিয়েছেন, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। বর্তমানে ৫০ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলীয় এলাকা লা গুইরায় ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ৩২ ঘণ্টা পর এক নবজাতককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটি উদ্ধারকর্মী ও স্থানীয়দের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে শিশুটিকে উদ্ধার করার পর আবেগঘন মুহূর্ত দেখা যায়।
জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থার প্রাথমিক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, প্রায় ৬৭ লাখ ৬০ হাজার মানুষ এ দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। তাদের জরুরি আশ্রয়, নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন, স্বাস্থ্যসেবা ও ত্রাণসামগ্রীর প্রয়োজন রয়েছে।
জাতীয় পরিষদের সভাপতি হোর্হে রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত ১ হাজার ৪৩০ জন নিহত এবং ৩ হাজার ২৩৮ জন আহত হয়েছেন।
জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, ভূমিকম্পে প্রায় ৬৭০ কোটি মার্কিন ডলারের অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে, যা ভেনেজুয়েলার মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৬ শতাংশের সমান।