
প্রবাসীদের অধিকার সুরক্ষা ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার দাবিতে আজ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সরকারকে ১৫ দফা বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে। সংবাদকর্মী, প্রবাসী এবং দেশের সর্বসাধারণের উদ্দেশে দেওয়া এ বার্তায় বলা হয়-দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড হিসেবে প্রবাসীরা যেভাবে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে অর্থনীতিকে সমর্থন করছেন, তার বিনিময়ে তারা যথাযথ সম্মান ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
গত অর্থবছরে বাংলাদেশ রেকর্ড ৩০ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পেয়েছে, যা আমদানি পরিশোধের প্রায় ৪৫ শতাংশ মিটিয়েছে এবং বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ গড়ে তুলতে বড় ভূমিকা রেখেছে। তবু দেশে ফিরে প্রবাসীদের অবহেলা, হয়রানি ও প্রশাসনিক জটিলতা লজ্জাজনক বাস্তবতা হিসেবে রয়ে গেছে বলে উল্লেখ করা হয় বিজ্ঞপ্তিতে।
বিজ্ঞপ্তিতে প্রবাসীদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিতে ১৫ দফা তুলে ধরা হয়:
১) বিদেশি দূতাবাসে ২৪ ঘণ্টা জরুরি হটলাইন ও হেল্প ডেস্ক।
২) প্রবাসী বিনিয়োগে ১০ বছর পর্যন্ত ট্যাক্স-ফ্রি সুবিধা।
৩) পাসপোর্ট নবায়ন ও নথি দ্রুত প্রদানের সুব্যবস্থা।
৪) প্রবাসে মৃত্যুবরণ করলে সরকারি ব্যয়ে মরদেহ দেশে আনা।
৫) এম্বাসিতে দলীয়করণ মুক্ত পরিবেশ ও দালালমুক্ত সেবা।
৬) প্রতিটি জেলায় প্রবাসী সেবা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা।
৭) রেমিট্যান্সে অন্তত ৫% প্রণোদনা।
৮) প্রবাসী সন্তানের শিক্ষায় সহায়তা।
৯) প্রবাসী পরিবারের জন্য স্বাস্থ্যবীমা।
১০) অনলাইনে পাসপোর্ট ও নথি প্রদানের নিশ্চয়তা।
১১) বিমানবন্দরে প্রবাসীদের জন্য দ্রুতগতির ইমিগ্রেশন।
১২) প্রবাসীদের সম্পত্তি রক্ষায় বিশেষ পুলিশ ইউনিট।
১৩) ফেরত আসা প্রবাসীদের জন্য দক্ষতা প্রশিক্ষণ ও ঋণ।
১৪) সরকারি পেনশন স্কিমে প্রবাসীদের অন্তর্ভুক্তি।
১৫) প্রবাসী পরিবারের জন্য চাকরিতে বিশেষ সহায়তা ও সুযোগ।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এসব দফা দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে প্রবাসীরা দেশের প্রতি তাদের অর্থনৈতিক অবদান কমাতে বাধ্য হতে পারেন। এতে দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড দুর্বল হয়ে পড়বে এবং এর দায়ভার সরকারকে বহন করতে হবে।
সংবাদকর্মী ও জনগণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়-এই বার্তা যেন সর্বত্র পৌঁছে যায়। বক্তব্যে স্পষ্ট করা হয়, *“প্রবাসীর ঘামে গড়া টাকা আজ দেশের অর্থনীতিকে টিকিয়ে রেখেছে। তাঁদের অবদান উপেক্ষা মানে জাতির প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা।”*
শেষে দাবি জানানো হয়: প্রবাসীর মর্যাদা রক্ষা করুন; ১৫ দফা দ্রুত বাস্তবায়ন করুন।