
সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হুথিদের হামলা ও নিরাপত্তা বিধিনিষেধের কারণে আন্তর্জাতিক আকাশপথে ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতির প্রভাবে গত কয়েক দিনে ঢাকা থেকে সরাসরি সৌদি আরবগামী এবং দেশটির বিমানবন্দর ব্যবহার করে পরিচালিত মোট ১১৪টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন ১৭ হাজার ৭০১ জন যাত্রী।
বিভিন্ন দেশের উড়োজাহাজ সংস্থা পরিস্থিতি বিবেচনায় সৌদি আরবগামী ফ্লাইট স্থগিতের সময়সীমা বাড়াচ্ছে। তবে সব সংস্থা তাদের পুরো নেটওয়ার্ক বন্ধ করেনি; কোনো কোনো রুটে ফ্লাইট চলাচল সীমিত বা ব্যাহত হচ্ছে।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তথ্য অনুযায়ী, বাতিল হওয়া ফ্লাইটের মধ্যে সরাসরি সৌদি আরবগামী ৫০টি এবং সংযোগকারী ফ্লাইট ৬৪টি। সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১৮টি, সৌদিয়ার ১২টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি এবং রিয়াদ এয়ারওয়েজের ১০টি ফ্লাইট রয়েছে।
সংযোগকারী ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগোর ২২টি, এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৯টি, সালামএয়ারের সাতটি, ফ্লাইদুবাইয়ের ছয়টি, এয়ার ইন্ডিয়ার পাঁচটি এবং ইজিপ্টএয়ারের একটি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।
সৌদি আরবগামী ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্নের কারণে ভারতের একাধিক উড়োজাহাজ সংস্থা তাদের সূচি পরিবর্তন করেছে। এয়ার ইন্ডিয়া ও এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের রিয়াদ, দাম্মাম ও জেদ্দাগামী ফ্লাইট ২০ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়েছে। ইন্ডিগো সৌদি আরবের সব গন্তব্যে ফ্লাইট চলাচল ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত বন্ধ রেখেছে। আকাসা এয়ারের রিয়াদগামী ফ্লাইট ২৪ অক্টোবর এবং জেদ্দাগামী ফ্লাইট ২১ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত রয়েছে।
উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি উড়োজাহাজ সংস্থাও ফ্লাইট পরিচালনায় বিধিনিষেধ দিয়েছে। ইতিহাদ এয়ারওয়েজ আবুধাবি থেকে রিয়াদ ও দাম্মামগামী এবং জেদ্দাগামী কিছু ফ্লাইট স্থগিত করেছে। ফ্লাইদুবাইয়ের রিয়াদ, দাম্মাম ও আবহাগামী ফ্লাইট ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত বাতিল রয়েছে।
এমিরেটসের সৌদি আরবগামী কয়েকটি রুটে ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হলেও সংস্থাটি পুরো নেটওয়ার্ক বন্ধ করেনি। কাতার এয়ারওয়েজ রিয়াদ ও দাম্মামগামী ফ্লাইট স্থগিত রেখেছে। সৌদি আরবের কয়েকটি গন্তব্যে এয়ার অ্যারাবিয়ার ফ্লাইট চলাচলেও বিঘ্ন ঘটেছে।
ইউরোপ ও এশিয়ার অন্যান্য উড়োজাহাজ সংস্থাও তাদের ফ্লাইট সূচিতে পরিবর্তন এনেছে। এয়ার ফ্রান্স-কেএলএম রিয়াদগামী ফ্লাইট অক্টোবরের শেষ পর্যন্ত স্থগিত রেখেছে। মালয়েশিয়া এয়ারলাইনসের জেদ্দা ও মদিনাগামী ফ্লাইট গতকাল পর্যন্ত স্থগিত ছিল। ফিলিপাইন এয়ারলাইনস রিয়াদগামী ফ্লাইট ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত বন্ধ রেখেছে।
ক্যাথে প্যাসিফিক হংকং থেকে রিয়াদ ও দুবাইগামী ফ্লাইট পুনরায় চালুর সময় পিছিয়ে আগামী বছরের ৩১ জানুয়ারি নির্ধারণ করেছে। ডেল্টা এয়ারলাইনসও যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টা থেকে রিয়াদে নতুন ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা পিছিয়ে আগামী বছরের মার্চে নিয়েছে।
গালফ বিজনেসের এক প্রতিবেদনে বিমান চলাচলবিষয়ক তথ্য বিশ্লেষক সংস্থা সিরিয়ামের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ৮ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলো থেকে নির্ধারিত ৮ হাজার ৮৮৩টি ফ্লাইটের মধ্যে ৪ হাজারের বেশি বাতিল হয়েছে বা পরিচালিত হয়নি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৫ অক্টোবর রিয়াদ বিমানবন্দরে নির্ধারিত ৩৬৬টি ফ্লাইটের মধ্যে ২৯৮টি বাতিল বা পরিচালিত হয়নি। একই দিনে দাম্মাম বিমানবন্দরের ১৩১টি ফ্লাইটের মধ্যে ৬০টি এবং জেদ্দা বিমানবন্দরের ৩৮৫টি ফ্লাইট আকাশে ওড়েনি।
এদিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস রিয়াদগামী সব ফ্লাইট অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রেখেছে। রিয়াদ বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
অনুমতি পাওয়া সাপেক্ষে ২১ অক্টোবর থেকে দাম্মামগামী ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বিমানের। তবে জেদ্দা ও মদিনাগামী ফ্লাইট চালু রয়েছে। যাত্রী পরিবহনে মদিনা রুটে বড় উড়োজাহাজ ব্যবহার এবং জেদ্দাগামী অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসও ২১ অক্টোবর পর্যন্ত সৌদি আরবে ফ্লাইট পরিচালনা স্থগিত রেখেছে। এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরবগামী যাত্রীদের ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট উড়োজাহাজ সংস্থার কাছ থেকে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা জেনে নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।