
একবিংশ শতাব্দীর অন্যতম দীর্ঘতম পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের সাক্ষী হতে যাচ্ছে সৌদি আরব। ২০২৭ সালের ২ আগস্ট দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকায় বিরল এই জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনা দেখা যাবে, যা প্রত্যক্ষ করতে পারবেন লাখ লাখ বাসিন্দা ও দর্শনার্থী।
গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সূর্যগ্রহণের সময় পশ্চিম ও দক্ষিণ সৌদি আরবের কিছু অংশ প্রায় ছয় মিনিটের জন্য সম্পূর্ণ অন্ধকারে ঢেকে যাবে। এত দীর্ঘ সময়ের পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ বিজ্ঞানী ও জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের জন্য সূর্যের করোনা বা বাইরের স্তর পর্যবেক্ষণের বিরল সুযোগ তৈরি করবে।
সৌদি আরবের মহাকাশ সংস্থা জানিয়েছে, আভাসহ বিভিন্ন শহরে প্রায় ছয় মিনিট পর্যন্ত পূর্ণগ্রাস দেখা যাবে। অন্যদিকে জেদ্দা এবং পশ্চিম উপকূলের কিছু এলাকায় প্রায় ৫ মিনিট ৫০ সেকেন্ড ধরে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ স্থায়ী হতে পারে।
সংস্থাটির মতে, এই বিরল ঘটনা সৌদি আরবকে সূর্যগ্রহণ পর্যবেক্ষণ ও নথিভুক্ত করার জন্য বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যে পরিণত করবে। তবে প্রতিবেশী মিশরে সূর্যগ্রহণের পূর্ণগ্রাসের স্থায়িত্ব সবচেয়ে বেশি হবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরবের অন্যান্য অঞ্চলেও আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে। কিছু এলাকায় সূর্যের প্রায় ৮০ শতাংশ পর্যন্ত চাঁদের আড়ালে চলে যেতে পারে। তবে গ্রহণের সময় ও মাত্রা অঞ্চলভেদে ভিন্ন হবে।
সৌদি মহাকাশ সংস্থা জনসাধারণকে নিরাপদে সূর্যগ্রহণ উপভোগ করার আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, অনুমোদিত গ্রহণ চশমা বা বিশেষ সৌর ফিল্টার ছাড়া কখনোই খালি চোখে সরাসরি সূর্যের দিকে তাকানো উচিত নয়।
জেদ্দা অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির সভাপতি মাজেদ আবু জাহরা জানিয়েছেন, পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের পথ লোহিত সাগরের উপকূল থেকে শুরু হয়ে মক্কা, জেদ্দা, তাইফ, আল-বাহা, খামিস মুশাইত, জাজান ও নাজরানসহ কয়েক ডজন শহর ও গভর্নরেটের ওপর দিয়ে অতিক্রম করবে।
তিনি আরও বলেন, পূর্ণগ্রাসের সময় দিনের আলো কিছুক্ষণের জন্য গোধূলির মতো ম্লান হয়ে যাবে এবং ওই সময়ে স্থানীয়ভাবে তাপমাত্রাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।